পথশিশু এবং আমরা

0

সুমাইয়া জামান-

শহরাঞ্চলে বিশেষ করে রাজধানীর রাস্তা-ঘাট এবং প্রায় সব জায়গাতে সচরাচরই কিছু অল্প বয়ষ্ক ছেলে-মেয়েদের দেখা যায়। তাদের কেউ হয়তো ফুল বিক্রি করছে, কেউ চকলেট আবার কেউ হয়তোবা ভিক্ষার পথ বেছে নিয়েছে অর্থ উপার্জনের উপায় হিসাবে। তারাই সমাজের চোখে অবাঞ্ছিত পথ শিশু।

আমাদের মত সমাজের চোখে ‘সভ্য মানুষ’ শব্দটির আড়ালে থাকা সামাজিক ব্যক্তিদেরকে দেখা যায় তাদেরকে কেউ উপেক্ষা করছেন, কেউ অপ্রীতিকর ব্যবহার করছেন, কেউবা হয়তো বিরক্ত হয়ে তাদেরকে শারীরিকভাবে আঘাতও করে বসছেন। বাংলাদেশের এমনই সব ঘটনার সাথে আমরা সবাই প্রায় অভ্যস্ত। এই ধরণের ঘটনায় বিশেষ কিছু প্রভাব পড়ে না আমাদের মনে।

কিন্তু এই সব মানুষদের মধ্যেও আবার এমন কিছু মানুষ রয়েছেন যারা আপন করে নিতে পারেন এইসব শিশুদেরকে। তাদের রোদে পোড়া ঝলসানো মলিন চেহারাগুলো দেখেও ভালবাসতে পারেন অনেকেই।

গতকাল (২১ অক্টবর) রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের কিছু শিক্ষার্থী কে  দেখা যায় কিছু অবহেলিত শিশুর সাথে। তারা যেন মিলে মিশে এক হয়ে গেছে।

ঐ জায়গাটিতে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এক হয়ে নিজেদের মধ্যে আলাপ করছিলেন। সেই সময় আচমকা কিছু পথশিশু এসেই তাদের সাথে শুরু করে দেয় আবদার আবদার খেলা। শিক্ষার্থীদের হাতে কিছু কোকা-কোলার বোতল ছিল, তাদের আবদার ঐ বোতলগুলোকে নিয়ে। বোতলগুলো তাদের চাই। ঠিক যেন ভাই-বোনের সম্পর্ক।

সেখানে নেই কোনো বিরক্তি,নেই কোনো অপ্রীতিকর আচরণ। শিশুগুলো যেন ঐ শীক্ষার্থীদেরকে চেনে বহু দিন থেকে। তাদের চোখে নেই কোনো ভয়, নেই কোন সংশয়।

আমি এই শিশুদের চোখে বাংলাদেশ দেখেছি, ঐ শিক্ষার্থীদের ভেতর দেখেছি বাংলাদেশের আগামী। এভাবেই ভালোবাসি আমরা বাংলাদেশকে।

শুধু বাংলাদেশের বিপরীত রূপ নয়, আমাদের দেশের আছে আরও এমন কিছু দিক, যা হয়তো পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশেও দেখা মিলবে না। তাই আমাদের উচিৎ নিজের দেশকে তাঁর সব দিকদিয়েই ভালোবাসা, দেশের প্রতিটি মানুষেকে ভালোবাসা।

 

Share.

Leave A Reply

twenty nine − = twenty seven