দুরন্তপ্রাণ

0

মোহাম্মদ খশরু

গ্রামের আঁকাবাঁকা মেঠো পথ ধরে দিনভর চাঞ্চল্লতার পদাচরণে হেঁটে চলা দূরন্ত কিশোর-কিশোরী এরা। গ্রামের সহজ সরলতার ছাপ যেন ওদের চোখে মুখে চিরায়ত প্রতিয়মান। ওদের জীবনের গল্পগুলো বেশ সুন্দর,সাজানো গোছানো। মলীনতার এক অভিন্ন ছাপ।

সবার মতো ওরাও স্বপ্ন দেখে নির্ভীক তদ্রাচ্ছন্ন এক সুন্দর সকালের। ওদের দেখা প্রতিটি স্বপ্নের পরিসীমার বিশালতা যেন আকাশ সমান। ওদের চোখের ভাষাগুলো যেন কোন এক শুভ্র সকালের বিজয়ধ্বনিতে জড়ানো দিবসের হাতছানি,অস্ত যাওয়া সূর্য আর সোনালী বিকেলের হাজারো মূহুর্ত। রাতের বিশাল আকাশে জ্বলে থাকা শত শত তারার মাঝে একফালি চাঁদের অভাষ্য সৌন্দর্য ওদের মুখচ্ছবিতে প্রস্ফুটিত। সৌন্দর্যের লীলাভূমির মাঝে বেড়ে ওঠা দুরন্ত কিশোর কিশোরী ওরা। প্রকৃতির সাথে ভালোবাসা,ক্ষনিকের ঝগড়া আর অল্প স্বল্প খুঁনসুঁটির মধ্য দিয়ে ওদের বড় হয়ে ওঠার গল্পগুলোর সূচনা।

যতদূর চোখ যায়,শুধু দূর্বাদলে ঢাকা সবুজ মাঠ আর মাঠ।দক্ষিনা বাতাসে দোলা সোনালী ফসলগুলোর যেন এক অসমাপ্ত মেলা। ফসলি ক্ষেতগুলোর ঠিক মাঝ দিয়ে সুদীর্ঘ আঁকাবাঁকা মেঠো পথ। প্রান্তরের শেষ সীমায় যেন সবুজে আবৃত একখানা দ্বীপের ন্যায় ছোট ছোট গ্রাম,গ্রামগুলোয় মিশে আছে কিছু মানুষের সংগ্রামী জীবনের গল্প।সে মাটিতেই ওদের জীবনের গল্পগুলোর শুরু।

ওরাও চায় বন্দিঘর থেকে বের হয়ে বাহিরটাকে দেখার। স্বপ্ন দেখে অন্ধকার থেকে বের হয়ে আলোর নিশানা ধরে পথ চলার। সকালগুলো ওদের কাছে যেন এক স্বপ্নের সূচনাস্বরূপ। প্রকৃতির সাথে ওদের বেশ ভাব। অদ্ভুতভাবে মিশে যেতে পারে বেশ অল্প সময়েই।নিবীরভাবে দিনের শুরু থেকে ওরা প্রকৃতির সৌন্দর্যের ভীরে স্বপ্নের বীজ বুনে যায় অবিরত। প্রকৃতি যেন ওদের আপন করে নিয়েছে ক্ষনিকের সময়েই। দিনভর ওরা প্রকৃতির মাঝে মিশে থাকে এক অবিচ্ছেদ্দ অংশের মতো। কখনো ওরা প্রকৃতিকে ওদের একান্ত স্বপ্নের গল্প শোনায়,কখনো আবার প্রকৃতি নিজেই গল্প জুড়ে দেয় ওদের সাথে। সূর্য মামার অস্ত যাওয়া সোনালী বিকেলটা ওরা বেশ উপভোগ করে। যতনে আপন করে নেয় মূহুর্তটাকে। পরম আকুলতায় মুগ্ধচোখে অপলোক ওরা বিকেলটাকে ধারন করে নেয়। বিকেলের সোনালী সেই রোদ্দুর ওদের একটু বেশিই প্রিয়।

ওরা আবার মেতে ওঠে আনন্দের সমাগৃহে।দিগন্তবিস্তৃত ফসলের ক্ষেতগুলো ওদের সাময়িক সময়ের ঘর-বাড়ি। সামনে দিয়ে যাওয়া পানির ড্রেনগুলো ওদের ধরে নেওয়া সেই কল্পনার বাড়ির পথ। প্রান্তরের সূর্যাস্তের পানে চেয়ে ওরা খেলা শেষ করে। বিকেলের রঙিন আভা ওদের আনন্দঘন শ্রেষ্ঠ সময়। কত গল্পইনা আছে সে বিকেলগুলোর। ফসলের মাঠগুলো,আকাঁবাঁকা পথ প্রান্তরের সীমানা জুড়ে কত কথাই না লিখে ওরা মনের খাতায় প্রতিনিয়ত।

ওদের চোখেও স্বপ্নময় কিছু মূহুর্তের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাওয়া যায়। ওদের দু’চোখ জুড়ে স্বপ্নগুলো উড়ে বেড়ায় প্রতিনিয়ত। এক চোখে ডাক্তার-ইন্জিনিয়ার,অন্য চোখে আবার আকাশে উড়ে বেড়ানোর দুরন্ত স্বপ্ন। পরক্ষনেই আবার সেই স্বপ্নগুলোর নিরবে লুকিয়ে পরার নিরব কান্না। চোখের কোণে জমে থাকা কয়েকফোটা জল। ফোটা ফোটা জলগুলোর কোন রং নেই,কোন গন্ধও নেই। শুধু গভীর রাতে মাথার নীচে রাখা বালিশটার চুপসে যাওয়ার এক অষ্পষ্ট প্রতিচ্ছবি।

তবুও ওরা স্বপ্ন দেখে। রূপকথার রাজ্যে উড়াল দেয় কখনো কখনো। বুকের মাঝে চেপে রাখা হাজারো স্বপ্নকে ওরা যতনে পুষে রাখে হাজার বছর ধরে।

ওদের ছোট্ট দু’চালা ঘরের জানালার ফাঁক দিয়ে যখন সকালের সূর্য উঁকি দেয়,ঠিক তখনই ওদের ঘুম ভেঙে যায়। রক্তিমতাকে ওরা যেন দর্শন করে খুব কাছ থেকে। ওদের পথ চলার গল্পগুলো শুরু এভাবেই। দিনভর হেসে খেলে বেড়ায় ওরা। প্রকৃতির সাথে ওরা যেন কোন এক অদৃশ্য সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ। খেলার ছলে আর দুষ্ট-মিষ্টি সময়গুলোকে নিয়ে ওদের কত শত গল্পই না রচিত হয়েছে! গল্পগুলোকে বুঝি বুকের এক পাশটায় লালন করে বেশ যত্নে রেখেছে ওরা।।

লেখা: মোহাম্মদ খশরু, স্কুল: আলহেরা একাডেমী (স্কুল এন্ড কলেজ), শ্রেণী:দশম (বিজ্ঞান)

 

 

Share.

Leave A Reply

15 + = 20