২০১৭ এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর অর্জন

0

‘স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’ বাংলাদেশের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যার দু’টি ক্যাম্পাসের প্রধান ক্যাম্পাস ঢাকা শহরের ধানমণ্ডি ২৭ এবং অপর বিজয় ক্যাম্পাসটি কলাবাগানে অবস্থিত। এখানে এখন সর্বমোট ১০ টি বিভাগ রয়েছে। এর প্রতিটি বিভাগই বৈশ্বিক মানসম্পন্ন। দেশের সুপরিচিত, নামীদামী এবং সুদক্ষ শিক্ষকমণ্ডলী দ্বারা প্রতিটি বিভাগ পরিচালিত হয়ে থাকে। এর পরিচালনা পর্ষদে রয়েছে দেশের আরেকটি বিখ্যাত স্বাস্থ্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ল্যাবএইড গ্রুপ। ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া সম্বলিত শ্রেণি কক্ষে পাঠদান এবং ক্যাম্পাস দু’টির পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ‘স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’কে শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের কাছে দৃষ্টি নন্দিত করেছে।

বিভাগগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ

  • ডিপার্টমেন্ট অব বিজনেস ষ্টাডিজ
  • ডিপার্টমেন্ট অব জার্নালিজম, কমিউনিকেশন, এবং মিডিয়া স্টাডিজ
  • ডিপার্টমেন্ট অব ইংলিশ স্টাডিজ
  • ডিপার্টমেন্ট অব ল’
  • ডিপার্টমেন্ট অব কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং
  • ডিপার্টমেন্ট অব ইনভাইরনমেন্টাল সায়েন্স
  • ডিপার্টমেন্ট অব আর্কিটেকচার
  • ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক হেলথ
  • ডিপার্টমেন্ট অব ফার্মেসী
  • ডিপার্টমেন্ট অব ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি

গেলো ২০১৭ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক নির্দেশিত সকল আইন-কানুন মেনে চলা এবং শিক্ষার মান বিবেচনায় দেশের ৯৬ টি বেসরকারি বিশবিদ্যালয়ের মাঝে ১২ তম স্থান অধিকার করে ‘স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির অর্জনের মধ্যে সবচেয়ে উল্ল্যেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, যে সমস্ত শিক্ষার্থী এখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাশ করে বের হয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের প্রত্যেকেই দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন।

এমনকি এখানে যারা পড়ালেখা করছেন, তাঁদের বেশির ভাগ শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করছেন। আরেকটি সুনামের বিষয় হচ্ছে, ‘স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’ থেকে পাশ করে বের হওয়া অধিকাংশই এই বিশ্ববিদ্যালয়টির পরিচালনা প্রতিষ্ঠান ল্যাবএইড গ্রুপ এর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। এখানে শুধু হাতে কলমে শিক্ষা দিয়েই ছেড়ে দেয়া হয় না, বরং এখান থেকে কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।

এখানকার শিক্ষক মহাদয়গণের মধ্যে যারা রয়েছেন, সাধারণত তাঁরা ঢাকা বিশবিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভিসি, বুয়েট, জাবি, জবি, চুয়েট, রুয়েট এবং অন্যান্য পাবলিক ও সরকারি বিশবিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রধানগণ। যারা দেশে সত্যিকারের মানুষ গড়ার কারিগর নামে পরিচিত। যে সময় সারা বিশ্বে আজ যখন জঙ্গিবাদের ছোঁয়া লেগেছে, তখন ‘স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’ বৈশ্বিক জঙ্গিবাদ নিরসনে সরকারের সাথে একাত্মতা হয়ে কাজ করেছে এবং যাচ্ছে।

প্রতি দুই বছর অন্তর বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্তৃপক্ষ একটি সমাবর্তনের আয়োজন করে থাকে। সেখানে আচার্য ও মহামান্য রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি শিক্ষার্থীদের বিমোহিত করে তোলে। চলতি ২০১৮ সালের মে মাসে পঞ্চম সমাবর্তনের প্রস্তুতি এখন থেকেই নিতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টির সমাবর্তন কমিটি। গতানুগতিক ছাত্র রাজনৈতিক সন্ত্রাস থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত দুটি ক্যাম্পাস। ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকল প্রকার ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের উর্ধ্বে মানবতার কল্যাণে বিশ্বাসী এখানকার পরিচালনা পর্ষদ।

দেশে যতগুলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, তার মধ্যে ন্যূনতম খরচে সবচেয়ে ভালো শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ‘স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’। বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ হচ্ছে, জার্নালিজম, কমিউনিকেশন এবং মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ। আর বিভাগটি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের মতো  ধারাবাহিকভাবে দেশে সুনাম অর্জন করেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রোবায়েত ফেরদৌস স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের জার্নালিজম, কমিউনিকেশন এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের উপদেষ্টা। তাঁর সুদক্ষ পরিচালনায় এ বিভাগের স্থায়ী শিক্ষকেরা অ্যাকাডেমিক সফলতার পাশাপাশি প্রথম আলো, কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন।  এ ছাড়া প্রথম আলো পত্রিকা এবং এনটিভি, বৈশাখী, নিউজ টুয়েন্টি ফোর ও দীপ্ত টেলিভিশন চ্যানেলে কর্মরত বিভিন্ন সাংবাদিকেরা এখানে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

এ বিভাগে আছে অত্যাধুনিক  মিডিয়া ও কম্পিউটার ল্যাব। মাল্টিমিডিয়াসংযুক্ত পৃথক ক্লাস রুম। শিক্ষার্থীদের প্র্যাকটিক্যাল কাজের জন্য আছে নতুন কিছু ডট কম ও বিজয় পত্রিকা নামে দুটি নিজস্ব গণমাধ্যম।  এ বিভাগ থেকে এ পর্যন্ত দুটি ব্যাচ তাঁদের গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেছে। তাঁরা এখন বৈশাখী, যমুনা ও সময় টেলিভিশনে কাজ করছে।

পড়াশুনার পাশাপাশি বেশ কয়েকজন যমুনা নিউজ, চ্যানেল আই অনলাইন, এনটিভি অনলাইনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম, অ্যাড ফার্ম ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পার্ট টাইম কাজ করছে।  গণমাধ্যমে কাজ করার জন্য যুগোপযোগী প্র্যাকটিক্যাল সিলেবাস ও চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপন, ভিডিওগ্রাফি, নিউজ প্রেজেন্টশেন, ফটোগ্রাফিসহ বিভিন্ন বিষয় সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত। এসব বিষয়ে তাত্ত্বিক ও প্রয়োগিক দুই ভাবেই শিক্ষাদান  ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

স্বনামধন্য গণমাধ্যম ও প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ এর ব্যবস্থা। বর্তমানে প্রথম আলো, রেডিও ধ্বনিসহ বিভিন্ন পত্রিকায় শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরা ইন্টার্ন করছে। ইংরেজি ও বাংলা ভাষায় লেখা ও উচ্চারণে দক্ষতার জন্য পৃথক কোর্স। প্রতি মাসে এক বা ততোধিক সেমিনার আয়োজন করে এই বিভাগটি। এখানে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ সাংবাদিক ও কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামূলক, দিক নির্দেশনামূলক ও উদ্বুদ্ধকরণমূলক বক্তব্য রাখেন। নৈতিকতা শিক্ষার জন্য পৃথক কোর্সের ব্যবস্থাও রয়েছে এখানে।

প্রতিমাসে এক বা ততোধিক সেমিনার ও কনফারেন্স আয়োজন। এখানে দেশ বরেণ্য সাংবাদিক ও সফল ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন। এ সকল আয়োজন ‘স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’ এর গৌরবগাঁথা সম্পদ। যার মধ্যদিয়ে সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থী আজ সারা দেশে সুনামের চাদরে ঢেকে রয়েছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি মনে করে, দেশ সমৃদ্ধ হবে শুধু শিক্ষিত করে নয়, বরং শিক্ষার পাশাপাশি একনিষ্ঠ দেশ প্রেমিক কর্মী তৈরি করে। তাহলেই দেশ ও জাতি হবে স্বনির্ভর।

লেখক: হাকিম মাহি-

শিক্ষার্থী, জার্নালিজম, কমিউনিকেশন এবং মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ, ‘স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’।

Share.

Leave A Reply

− one = three