‘স্টেট অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে বেশি উন্নত’

0

নতুন কিছু ডট কম স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগের তরুণ শিক্ষকদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে। স্টেট ইউনিভার্সিটির সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে এ তরুণ শিক্ষকদের চিন্তা-ভাবনা, তাঁদের নিজস্ব পরিকল্পনা প্রভৃতি জানা ও তা বাস্তবে প্রয়োগ করার ক্ষেত্র তৈরি করাই এ কার্যক্রমের উদ্দেশ্য। আজ প্রকাশিত হলো প্রথম পর্ব।

‘ও’ লেভেল এবং ‘এ’ লেভেল করেছেন মাস্টারমাইন্ড স্কুল থেকে। এরপর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থসাউথ থেকে অনার্স করেই পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়া। সেখান থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করে শিক্ষকতায় যোগ দেন নিজের স্কুল মাস্টারমাইন্ডে। মাস্টারমাইন্ডে শিক্ষকতা করতে করতেই খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ব্যবসা শিক্ষা বিভাগে। এখন তিনি এ বিভাগের একজন স্থায়ী শিক্ষক হিসেবে সুনামের সাথে বিভাগটিতে দায়িত্ব পালন করছেন।  বলা হচ্ছে, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ব্যবসা শিক্ষা বিভাগের লেকচারার হাবিবা কিবরিয়ার কথা। সম্প্রতি তিনি তাঁর শিক্ষকতা জীবন নিয়ে কথা বলেছেন নতুন কিছু ডট কমের সুপ্রিয় সিকদারের সাথে, ক্যামেরায় ছিলেন আব্দুল্লাহ আল মাসুম

ম্যাডাম কেমন আছেন ?
জ্বী, আলহামদুলিল্লাহ্‌। বেশ ভালো আছি।

আপনি শিক্ষকতায় এসেছেন খুব বেশিদিন হয়নি। কেমন লাগছে ?
আমার পড়াতে ভালো লাগে। হ্যাঁ, স্টেট আমার প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে আমি শিক্ষক হিসেবে পড়াচ্ছি। কিন্তু ঠিক ‘ও’ লেভেলের পর থেকে আমার শিক্ষকতা মূলত শুরু। ‘ও’ লেভেলের শিক্ষকের টিএ হিসেবে কাজ করেছি। সেখানে সুযোগ হয়েছে কাউকে কাউকে পড়ানোর। ক্লাসের যারা পড়া বুঝতো না, তাদের পড়ানোর মধ্য দিয়েই মূলত আমার শিক্ষকতা জীবন শুরু।

শিক্ষকতা পেশাটিকে কেন বেছে নিলেন ?
আসলে শিক্ষকতায় আমার কাছে পেশার চেয়ে নেশার জায়গাটা একটু বেশি। আমি পড়াতে ভালবাসি।

আপনার পড়াশুনা নিয়ে যদি কিছু বলতেন।
‘ও’ লেভেল এবং ‘এ’ লেভেল করেছি মাস্টারমাইন্ড থেকে। এরপর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থসাউথ থেকে বিবিএ করেছি। এরপর গ্রামীণফোনে ইন্টার্ন করে চলে যাই অস্ট্রেলিয়ায়। সেখান থেকে মাস্টার্স করে এসেই শিক্ষকতায় ঢুকে যায় নিজের স্কুল মাস্টারমাইন্ডে।শিক্ষকতার জন্য স্টেট ইউনিভার্সিটিকে বেছে নেওয়ার কারণ কি?
আমি দেশে এসেই অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে সিভি দিয়েছি।  তখন স্টেট ইউনিভার্সিটি আমাকে পার্টটাইম শিক্ষক হিসেবে যোগদান করতে বলে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে, আমি স্টেটকে ভালবেসে ফেলেছি। আমি কিন্তু স্টেটে শুধু মার্কেটিং এবং এইচআরের ক্লাস নেই ন। আমি ইংলিশ ক্লাসও নেই। এভাবে একসাথে সব কিছু এক ছকে মিলে গেছে।

স্টেট ইউনিভার্সিটি কেমন লাগছে?
অনেক ভালো লাগছে। ধানমণ্ডির অন্যান্য ইউনিভার্সিটির তুলনায় স্টেট অবকাঠামোগতও দিক দিয়ে সেরা মনে হয় আমার কাছে। আরেকটি বিষয় আমার অনেক বেশি ভালো লাগে, সেটা হচ্ছে এখানকার শিক্ষার্থীরা অনেক ভদ্র। তাদের ভদ্রতাই প্রকাশ করে তারা অনেক ভালো পরিবার থেকে এসেছে।

আপনার ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলার থাকে ?
আমি প্রত্যেক কোর্সের শেষে এই কথাটি বলি ‘ডোন্ট ট্রাই টু বি এ গুড স্টুডেন্ট,  ট্রাই টু বি এ গুড হিউম্যান বিং’। তুমি সিজিপিএ ৩.৮ নিয়ে বের হও আর সিজিপিএ ৩.২ মানুষ হিসেবে কততুকু গড়ে উঠেছ, এটাই প্রয়োজনীয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকেই বলতে চাই, ফেসবুক একটি সোশ্যাল মিডিয়া। না বুঝে এখানে কোন কিছু শেয়ার করাটা ঠিক না। কাউকে ছোট মনে করবেন না। বয়স কিংবা যোগ্যতা দিয়ে মানুষকে পরিমাপ করবেন না।

বিবিএ ডিপার্টমেন্ট নিয়ে কী ধারণা আপনার? ডিপার্টমেন্টের আরও উন্নতিতে আর কী কী করা যায় বলে আপনি মনে করেন?
বিবিএ শুধু পড়ার জন্যই পড়া নয়। যদি ইচ্ছে না থাকে তবে অন্য কিছু করাই ভালো। তবে আমি সাজেশন দিবো, ইচ্ছে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণের। কোর্স অফারে কিছুটা ভিন্নতা আনার চেষ্টা চলছে। তবে এখন যেভাবে ডিপার্টমেন্ট চলছে এটাও খারাপ না।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুণগত মান নিয়ে যদি কিছু বলতেন।
আমার মনে হয় ডিফারেন্স খুব একটা বেশি না। তবে মানুষ ধারণা করে সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক বেশি মেধাবী। আমার কাছে মনে হয়, মেধা সবারই আছে। কেউ টাকা খরচ করে শিক্ষা অর্জন করে। আর কেউ সরকারিভাবে পড়াশুনা করে। তফাৎ এমনই মনে হয়।বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থার মূল পার্থক্যগুলো কী বলে মনে হয়।
একটা তফাৎ আমার কাছে খুব স্পষ্ট মনে হয়। সেটা হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়াতে শিক্ষার্থীদেরকে খুব বেশি অ্যাসাইনমেন্ট করতে দেয়া হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের পড়ার আগ্রহটা বেশি থাকে। পড়তেও বাধ্যহয়। আর অস্ট্রেলিয়াতে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হয় অনলাইনে। আর ওদের সিস্টেম আছে, সেটা হচ্ছে কেউ যদি কোথাও থেকে লেখা কপি করে তা সহজেই ধরে ফেলতে পারে। ফলে কেউ কপি করে কোন লেখা ব্যবহার করতেও পারে না। আরেকটা তফাৎ খুব বেশি মনে হয় তা হচ্ছে, বাংলাদেশে যেমন আমরা শিক্ষকদের সাথে খুব সহজেই মিশতে পারি, পড়া না বুঝলে গিয়ে কথা বলতে পারি। কিন্তু অস্ট্রেলিয়াতে সে সুযোগ নেই বললেই চলে।

সম্প্রতি আপনি স্টেট ইউনিভার্সিটির সহকারি প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। কেমন লাগছে ?
অনেক বড় দায়িত্ব। আমার কাছে মনে হয়, এই সহকারি প্রক্টর পদের কারণে আমার শিক্ষার্থীরা আমাকে দেখে দৌড় দেবে।

স্টেট ইউনিভার্সিটির মান উন্নয়ন এবং আরও প্রসারের জন্য কী করা যেতে পারে ?
আমার কাছে মনে হয়, স্টেট অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে বেশি উন্নত। কিন্তু সে তুলনায় আমাদের প্রচার নেই বললেই চলে। আমার মনে হয়, আমাদের প্রচার বাড়ানো অনেক বেশি জরুরি।

শিক্ষক হিসেবে নিজেকে কতটুকু সফল মনে করনে ?
কতটা সফল জানিনা। তবে আমার খুব ভালো লাগে, যখন আমার শিক্ষার্থীরা আমাকে ই-মেইল করে যে, ম্যাডাম আজকে অফিসে ফরমাল গেটআপে এসেছি। আপনি ক্লাসে না বললে হয়তো ফরমাল পোশাকটাই পড়া হতো না। তখন নিজেকে নিয়ে খুব অদ্ভূত আনন্দ হয়। মনে হয়, আমি একাডেমিকের বাইরেও আমার শিক্ষার্থীদের কিছু শেখাতে পেরেছি।

‌‌’নতুন কিছু’ সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন ?
আমি ‘নতুন কিছু’র একজন নিয়মিত পাঠক। আমার মতে, নতুন কিছুর আরও কনটেন্ট বাড়ানো উচিত। যাতে মানুষ সবকিছুতেই নতুন কিছুকে খুঁজে পায়।

ম্যাডাম, আপানাকে ধন্যবাদ, আমাদের সময় দেওয়ার জন্য।
আপনাদেরকেও ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন আপনারা।

 

 

 

 

Share.

Leave A Reply

3 + 5 =