স্বপ্নের সার্ক ট্যুরে হিরন্য ২৬

0

আবদুর রহমান রাকীব-

পরিকল্পনাটা চলছিল দীর্ঘ তিন বছর ধরে। অবশেষে একটু একটু করে সাজানো পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারলাম আমরা।

৮ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে আমরা যাত্রা শুরু করি। প্রথমে আমরা যাই ভুটানে। ভুটান বলতে গেলে অনেক কথাই বলতে হয়। প্রথমে সবাই তাচ্ছিল্য করছিলাম এই ভেবে যে, ভুটানে গিয়ে পাহাড় দেখে কী হবে। পাহাড়তো বাংলাদেশেও আছে। কিন্তু আমাদের সবাইকে ভুল প্রমাণিত করলো ভুটানের সৌন্দর্য। ভুটানের প্রতিটি পথ দিয়ে হাঁটার সময় সবার মুখ দিয়েই একটি শব্দ বের হয়েছে এবং তা হল “ওয়াও”।

ভুটানকে দেখলে মনে হয়, কোন চিত্রকরের রং-তুলি দিয়ে আঁকা ছবি। সৃষ্টিকর্তা হয়তো অনেক মায়া দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এই দেশটাকে। চারিদিকে শীতল হাওয়ার সাথে এক নিস্তব্ধ শান্তি। ভুটানের জনগণ খুবই শান্তি প্রিয়। সবচেয়ে মজার বিষয় ভুটানের রাস্তায় চলাচলরত কোন গাড়ি কখনো হর্ন বাজায় না। রাস্তায় নেই কোন আবর্জনা।

পারোতে পাঃ
প্রথমে আমরা যাই পারোতে। ঠাণ্ডায় মোটামুটি জমে যাওয়ার মতো অবস্থা। সেখানে দুইদিন অবস্থানকালে আমরা টাইগার নেসট ভ্রমণে যাই। তবে সেখানের মন্দিরটায় যাওয়া হয়নি। ৩১০০ ফুট উচ্চতায় আমাদের থেমে যেতে হয়। বিকেল বেলায় ‘সিটি সেন্টার’ ঘুরে দেখি। পরের দিন ঘুরে দেখি ‘জং’। এটি মূলত ভুটানিদের প্রার্থনা স্থল। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ‘পারো ছ’। ভুটানিরা নদীকে ‘ছ’ বলে চিহ্নিত করে।

সেখান থেকে আমরা যাই ভুটানের বর্তমান রাজধানী, থিম্পুতে। আমাদের মতে ভুটানের সবচেয়ে সুন্দর জায়গা ‘বুদ্ধা পয়েন্ট’। গৌতম বুদ্ধ বসে আছেন এমন একটি মূর্তি, যার উচ্চতা ৫১ ফুট এবং গোল্ড প্লেটেড। সেখান থেকে পরের দিন যাই দোচলা। প্রথমবারের মত মেঘ ছুঁতে পেরেছিলাম সেখানে। বিকালের ঘোরার তালিকায় প্রথমেই ছিল পুনাখার বিখ্যাত ‘হেঙ্গিং ব্রিজ’। সেখানে দাঁড়িয়ে মনে হয়েছিলো যেন স্বর্গের দ্বারপ্রান্তে আছি।

আমরা ‘হিরন্য ২৬’ যতবার সুযোগ আসবে বার বার ভুটানে আসতে চাই। এর মাধ্যমে আমাদের ভুটানের ভ্রমণ শেষ এবং আমরা দার্জিলিং এর উদ্দ্যেশ্যে রওনা দেই। পথটা মনে হয় শেষ না হলেই ভালো ছিল। মেঘে ভাসছিলাম। সবার চোখে ছিল জল।
দার্জিলিং-এ আরও বেশি ঠাণ্ডা। জিপে করে আসতে আসতে ৭১০০ ফুট পাড়ি দিয়ে পৌঁছে গেলাম আমাদের হোটেলে। পরের দিন দেখতে গেলাম ‘কাঞ্চনজংঘা’। পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু রেলওয়ে ষ্টেশন, বাতাসিয়া লুপ, বুদ্ধিস্ট টেম্পল পিস প্যাগোডা, রক গার্ডেন।

মুখে বলে এসব সৌন্দর্য শেষ করা যাবেনা। সব মনের ক্যানভাসে সজীব থাকুক সারাটা জীবন।

Share.

Leave A Reply

fifty four − fifty one =