স্বপ্নের ফেরিওয়ালা

0

সাদমান সাকিব

প্রমিত বাংলা ও সুমধুর কণ্ঠে পরিশীলিত যার কথা। মুক্তার মালার মতো সাজানো যার স্বপ্ন। জীবন যুদ্ধে পদতলে দৃঢ় যার মাটি। তাঁকে আর সফলতার পথে দমায় কে! যিনি সবসময় ভালোবাসেন নিজের ও অন্যের মাঝে আশার স্বপ্ন বুনে দিতে। যে মানুষটি এই বিশাল ও মহৎ হৃদয়ের অধিকারী, তিনি হচ্ছেন সকলের প্রিয় ও শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব মির্জা তারেকুল কাদের (মির্জা তারেক)।

ছাত্র জীবনে তিনি ছিলেন প্রখর মেধাবী। পড়াশোনা করেছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে, প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কর্মজীবন শুরু করেন অধুনাবিলুপ্ত ‘দৈনিক দেশ’এ সংবাদ কর্মী হিসেবে। এরপর তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও প্রকাশনা দফতরের প্রধান হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে ২০০২ সালে তিনি গড়ে তোলেন ‘বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া’ (বিজেম)। মির্জা তারেক বলেন, ‘আজ থেকে ১৫ বছর আগে সরকারি দু’একটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া আর কোথাও সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ছিলো না। তাই আমি নিজের উদ্যোগে বিজেম’কে যুগোপযোগী করে প্রতিষ্ঠা করি’।

বিজেম হচ্ছে সরকারি নিবন্ধন প্রাপ্ত দেশের একমাত্র সাংবাদিকতা তথা গণমাধ্যম বিষয়ক বেসরকারি ইন্সটিটিউট। যেটি তরুণ প্রজন্মের অন্যতম জনপ্রিয় পেশা ‘টিভি সংবাদ উপস্থাপনা’ এবং ‘টিভি সাংবাদিকতা’র মধ্যমণি হলো এই প্রতিষ্ঠান।

বর্তমানে, বিজেম মোট ১১ টি প্রশিক্ষণ কোর্স সফলভাবে পরিচালনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে; সংবাদ উপস্থাপনা, সাংবাদিকতায় ডিপ্লোমা, সাংবাদিকতার বুনিয়াদি কোর্স, ভিডিও ক্যামেরা পরিচালনা, ডিজিটাল ভিডিও এডিটিং, জনসংযোগ (পাবলিক রিলেশন) সহ আরও অনকেগুলো কোর্স। কর্মমুখী এই কোর্সগুলো, তরুণ প্রজন্মের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। মির্জা তারেক বলেন, ‘বিজেমে থেকে এই পর্যন্ত ৯ হাজার জনেরও বেশি শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী বর্তমানে দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে’।

বিজেমের প্রতিটি কোর্স মানসম্পন্ন এবং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের জন্য প্রতিষ্ঠানটির সুনাম এখন সমগ্র দেশ জুড়ে। সেজন্য অনেক শিক্ষার্থী আসেন বিজেমে দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল হতে।

এই সফলতার পিছনে রয়েছে প্রতিষ্ঠাতা মির্জা তারেকুল কাদের এর নিরলস পরিশ্রম, মেধা ও দক্ষতা। শুধু একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রেই নয়, লেখালেখি ও গবেষণাতেও মির্জা তারেক রয়েছে ব্যাপক খ্যাতি।

১৯৯৩ সালে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয় তার সাড়া জাগানো বৃহদাকার গবেষণা গ্রন্থ ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্প’। দেশ-বিদেশে বিপুলভাবে সমাদৃত এবং সুধীজন কর্তৃক উচ্চ প্রশংসিত এই গ্রন্থটি, তাঁকে একজন সফল লেখক ও গবেষক হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত করে তোলে।

১৯৯৭ সালে ভারতের শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনা সংস্থা ‘আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড’ কর্তৃক প্রকাশিত চলচ্চিত্র বিষয়ক একটি অনবদ্য সংকলন গ্রন্থে বাংলাদেশ হতে একমাত্র তাঁর গবেষণা নিবন্ধ স্থান পায়। এছাড়া ২০০২ সালে প্রকাশিত হয় আরেকটি সর্বজন খ্যাত গ্রন্থ ‘জনসংযোগ ও প্রকাশনা’। এ দুটি বই বর্তমানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা, মিডিয়া স্টাডিজ, ফিল্ম স্টাডিজ বিভাগে পড়ানো হয়।

দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিকের পাশাপাশি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় এবং বিদেশে প্রকাশিত দৈনিকেও তাঁর অসংখ্য লেখা প্রকাশিত হয়েছে। সাংবাদিকতা, জনসংযোগ, শিক্ষা ও গবেষণায় অসামান্য অবদানের জন্য মির্জা তারেক দেশ-বিদেশের একাধিক পুরুষ্কারে ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো; পশ্চিমবঙ্গের তিস্তা-তোরষা সম্মাননা, জাতীয় প্রেসক্লাব লেখক পদক, স্বাধীনতা সংসদ এডুকেশন অ্যাওয়ার্ড প্রভৃতি। এ গুণী ব্যক্তিকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমার কাছে সবচেয়ে বড় সম্মান হলো, আমার বিজেমের শিক্ষার্থীরা যখন দেশের নামীদামী মিডিয়ায় কাজ করে তাঁদের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যায়’।

সাংগঠনিক ক্ষেত্রেও তিনি অসামান্য অবদানের দাবীদার। মির্জা তারেক বাংলাদেশ জনসংযোগ সমিতি, বাংলাদেশ সম্পাদনা ও প্রকাশনা সমিতিসহ আরও বেশ কয়েকটি সংগঠন/ সংস্থার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবের একজন সদস্য।

বর্তমানে তিনি ‘স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’এ জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের অ্যাডজাংক্ট প্রফেসর। এছাড়া বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটসহ আরও কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত রিসোর্স পার্সনও তিনি।

১৯৫৯ সালের ২৬ জুলাই পিতা ড. এম আব্দুল কাদের এবং মাতা জনাব কাদের এর ঘর আলো করে জন্ম নেন এই গুণী মানুষটি। বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া (বিজেম) এর মাধ্যমে তরুণ শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন পূরণের জন্য তিনি নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। স্বপ্ন দেখতে ও দেখাতে এবং স্বপ্ন বুনে দিতে ভালোবাসেন পরম শ্রদ্ধেয় মির্জা তারেকুল কাদের।

লেখক সহযোগী:হাকিম মাহি।

Share.

Leave A Reply

× 2 = eight