স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ও শান্তির সাংবাদিকতা

0

হাকিম মাহি
সাংবাদিকতার জগতে একটি শব্দ সবচেয়ে বেশি পরিচিত ও অসমাদৃত। সেটি হলো, Yellow Journalism বা হলুদ সাংবাদিকতা। এখন প্রশ্ন হলো, সাংবাদিকতা কি কখনো হলুদ হয়? আর হলুদ সাংবাদিকতা মানে কি? এর সাথে ‘স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’ এর সাংবাদিকতা বিভাগের সাথে সম্পর্ক কোথায়? আমি যদি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেই, তাহলে প্রথমে বলতে হবে হলুদ সাংবাদিকতা মানে কোন চটকদার সংবাদ প্রকাশ করা। চটকদার সংবাদ দু’ধরণের হতে পারে, ভিত্তিহীন অথবা ভিত্তি আছে।

১৮৯০ সালের দিকে জোসেফ পুলিৎজারের New York world এবং উইলিয়াম হার্টসের New York Journal এর মাঝে এক নীরব প্রতিযোগিতা শুরু হয়। আর এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য ছিলো একে অপরকে হারিয়ে দেবার ও ব্যবসায়ীকভাবে সফল হবার। পত্রিকা দুটি পাঠক ধরে রাখতে বেশি বেশি খুন, ধর্ষণ/পর্ণগ্রাফী, রাহাজানি, দাঙ্গা, মারামারি ইত্যাদি সম্পর্কিত সংবাদ প্রকাশ করে। ঠিক ঐ সময় জোসেফ পুলিৎজার ‘The Yellow Kid’ নামে একটি কমিকস প্রকাশ করেন। আর ‘ইউলো কিড’ বলতে কাউকে ব্যঙ্গ করে অবোধ শিশু বা কাপুরুষ বুঝানো হতো। সে থেকে পশ্চিমা বিশ্বে যে কারো সাথে বাস্তবে বা কোন সিনেমায় ব্যঙ্গ করতে ইউলো শব্দটি ব্যবহার করা হয়। আর সেটি পরবর্তিতে বিশ্বের সাংবাদিক মহল অসৎ সাংবাদিকতার রূপরেখা হিসেবে ব্যবহার করে।

বৈশ্বিক সাংবাদিকতা দুটি আদর্শ লালন করে চলে। একটি Conflict journalism বা দ্বন্দ্ব সংক্রান্ত সাংবাদিকতা, আর অন্যটি Peace Journalism বা শান্তি বিষয়ক সাংবাদিকতা। ১৬০৫ সালের দিকে যখন আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকতা শুরু হয়, তখন কিন্তু একটি দেশের অর্থনীতিক সমৃদ্ধি ও শান্তির বানী প্রচারের জন্য সাংবাদিকতার আশ্রয় নেয়। কিন্তু আঠারো শতক পরে এই সাংবাদিকতা দ্বন্দ্ব সংক্রান্ত সাংবাদিকতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। আবার ১৯২০ সালের দিকে বিশ্বের আধুনিক সাংবাদিকতা সম্পূর্ণ ভুলে যায় শান্তির বার্তা দিতে। যেজন্য সংঘটিত হয় ইতিহাসের সবচেয়ে ঘৃণ্য প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ। আর এর পেছনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে বৈশ্বিক Conflict Journalism বা দ্বন্দ্ব সংক্রান্ত সাংবাদিকতা।

প্রশ্নটা কিন্তু থেকেই যায়, এর সাথে ‘স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’ এর সাংবাদিকতা বিভাগের সাথে সম্পর্ক কোথায়? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রোবায়েত ফেরদৌস স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের জার্নালিজম, কমিউনিকেশন এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের উপদেষ্টা। যিনি শান্তি বিষয়ক সাংবাদিকতায় মতাদর্শিক। কিন্তু দ্বন্দ্ব সংক্রান্ত সাংবাদিকতাও পাশাপাশি থাকবে শুধু অপরাধ সংক্রান্ত খবর পাঠককে জানানোর জন্য। কিন্তু এটার নেতিবাচক প্রভাব শিক্ষার্থীকে শেখানোর জন্য থাকবে না।

প্রফেসর রোবায়েত ফেরদৌসের সুদক্ষ পরিচালনায় এ বিভাগের স্থায়ী শিক্ষকেরা অ্যাকাডেমিক সফলতার পাশাপাশি প্রথম আলো, কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। এ ছাড়া প্রথম আলো পত্রিকা এবং এনটিভি, বৈশাখী, নিউজ টুয়েন্টি ফোর ও দীপ্ত টেলিভিশন চ্যানেলে কর্মরত বিভিন্ন সাংবাদিকেরা এখানে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। যারা নিজ নিজ কর্মস্থলে দেশ ও জনগণের মাঝে শান্তি বিষয়ক সাংবাদিকতায় নিজেদের নাম লিখিয়েছেন। আর তাঁদের শিক্ষার্থীদের এ মতাদর্শে লালন করে আগামীর বাংলাদেশ ও বিশ্ব শান্তিময় করে গড়ে তুলতে যার পর নাই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

২০১৮ সাল, ‘স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’ এর ‘জার্নালিজম, কমিউনিকেশন এবং মিডিয়া স্টাডিজ’ বিভাগের পাঁচ বছর চলছে। এখান থেকে এ পর্যন্ত তিনটি ব্যাচ স্নাতক পাশ করে প্রায় সবাই দেশের প্রথম শ্রেণীর সংবাদপত্র, টেলিভিশন, রেডিও, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং বাণিজ্যিক কর্পোরেট অফিসগুলোতে চাকরি করছে। অনেকেই স্ব-উদ্যোগে মিডিয়া হাউজ তৈরি করে দেশের বেকার শ্রেণির জন্য কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করছে। এখন দেশের প্রায় প্রত্যেকটি মিডিয়া হাউজে গেলে ‘স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’ এর শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের মিলন মেলা দেখা যাবে। মনে হবে এটি এসইউবি’র জেসিএমএস’ এর নব্য একাডেমিক ক্যাম্পাস।

মিডিয়ার দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা যদি বলি তাহলে প্রথমেই যে কথাটি বলবো, সেটি হলো সংবাদের যোগ্য সবকিছু প্রচার করা। কথাটি সত্য কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, যে সংবাদ প্রচার করাই শুধু মিডিয়ার কাজ নয়। বরং সবচেয়ে দায়িত্বশীল কাজ হলো To Educate বা পাঠককে, দেশের সর্বস্তরের জনগণকে প্রশিক্ষিত করা। কারণ মিডিয়ার কাজ হলো দেশের সরকার ও জনগণের মাঝে সকল ভুলকে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে শুধরিয়ে দেয়া। অপসংস্কৃতিকে দূর করে দেশীয় কৃষ্টি-কালচার ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা।

আর ‘স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’ এর ‘জার্নালিজম, কমিউনিকেশন এবং মিডিয়া স্টাডিজ’ বিভাগ সে রকম শান্তিকামী সাংবাদিক সৃষ্টিতে বিশ্বাসী। তাই Peace Journalism বা শান্তি বিষয়ক সাংবাদিকতার আদলে এখানে শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিশ্চিত করা হয়েছে। এজন্য যেখানেই শান্তির জয়গান, যেখানেই স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। এগিয়ে যাচ্ছে দেশ, এগিয়ে যাচ্ছে এসইউবি’র রূপকল্প ‘ দ্বন্দ্ব নয় শান্তিই হোক সাংবাদিক ও সংবাদের উপজীব্য বিষয়’।

লেখক: শিক্ষার্থী। জার্নালিজম, কমিউনিকেশন এবং মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।
hakimmahi2017@gmail.com

Share.

Leave A Reply

× 8 = forty eight