‘স্টেটে প্রচুর ভালো কাজ হয়, প্রচার বাড়ানো জরুরি’

0

নতুন কিছু ডট কম স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগের তরুণ শিক্ষকদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে। স্টেট ইউনিভার্সিটির সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে এ তরুণ শিক্ষকদের চিন্তা-ভাবনা, তাঁদের নিজস্ব পরিকল্পনা প্রভৃতি জানা ও তা বাস্তবে প্রয়োগ করার ক্ষেত্র তৈরি করাই এ কার্যক্রমের উদ্দেশ্য। আজ প্রকাশিত হলো দ্বিতীয় পর্ব।

বিভাগের সর্বকনিষ্ঠ শিক্ষক তিনি। পড়াশোনা শেষ করে বাবা-মার পথ প্রদর্শনে হয়েছে শিক্ষক। ইতোমধ্যেই হয়েছে বিভাগের পরিচিত এক মুখ। বলছিলাম ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ফারিহা-তুয্-যাহরা চৌধুরীর কথা। সম্প্রতি তিনি তাঁর শিক্ষকতা জীবন নিয়ে কথা বলেছেন নতুনকিছু ডট কমের সুপ্রিয় সিকদারের সাথে, ক্যামেরায় ছিলেন আবদুল্লাহ আল মাসুম, ও অনুলিখন করেছেন ওয়াজি তাসনিম

ম্যাডাম কেমন আছেন?
ভালো আছি। সেমিস্টার মাত্র শুরু হচ্ছে, একটু চাপমুক্ত আপাতত।

আপনার শৈশব, লেখাপড়া সম্পর্কে যদি বলতেন
আমার শৈশব কেটেছে ঢাকায়। পুরান ঢাকা, নতুন ঢাকা দু’জায়গা মিলিয়ে ছিলাম। মোহাম্মদপুরের প্রিপারেটরি স্কুল এবং হলিক্রস কলেজ থেকে পড়ালেখা করেছি। এরপর ঢাকা ইউনিভার্সিটির ইংলিশ ডিপার্টমেন্ট থেকে অনার্স মাস্টার্স শেষ করেছি।

আপনি খুব অল্প সময় স্টেট ইউনিভার্সিটির সঙ্গে। শিক্ষকতায় কেন আসলেন ?
আমার মা পেশায় একজন একজন চিকিৎসক এবং আমার বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। ছোটবেলা থেকেই তাঁদেরকে দেখেছি নিজেদের অবস্থান থেকে সবসময় তাঁরা সমাজের জন্যে নিবেদিত প্রাণ থেকেছেন। সেই বোধ থেকে আমি অনুপ্রাণিত হয়েছি সমাজে আমার কাজের মাধ্যমে কিছু অবদান রাখতে। শিক্ষকতা পেশায় এসেছি কারণ আমার মনে হয় শিক্ষকতার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে যাওয়া যায়, তাদের চিন্তা-ভাবনা এবং তারা কী কী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে সেগুলো জানা যায়। সেই অনুযায়ী তাদেরকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারলে তারা নিজেদেরকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে এবং দেশ ও জাতির জন্যে আদর্শ হিসেবে তৈরি হবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকেই আমার শিক্ষকতায় আসা।

শিক্ষক হিসেবে স্টেট ইউনিভার্সিটি কেমন লাগছে?
স্টেট আমার কাছে খুবই আশাপ্রদ মনে হয়। বয়স অনুযায়ী এর কার্যক্রম চমৎকার। অর্গানাইজিং, কারিকুলাম ও ক্লাসের সিস্টেম সব মিলিয়ে বেশ ভালোই চলছে। শিক্ষকদের ট্রেনিং ও ফ্যাকাল্টি ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামগুলো ভালোর দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

আপনি এর আগে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেছেন। আগের প্রতিষ্ঠান থেকে স্টেটের পার্থক্য কি মনে হয় আপনার কাছে ?
প্রথমেই পার্থক্য জানতে হলে সে প্রতিষ্ঠানের সাথে অনেক দিন যুক্ত থাকতে হয়। যেহেতু আমার শিক্ষকতা জীবন মাত্র শুরু তাই সে সুযোগটি হয়নি। তবে সে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের শিক্ষা প্রদানে খুব বেশি স্বাধীনতা দেয়া হয়নি। যদি গাইডলাইনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিজের মতো করে পড়ানোর স্বাধীনতাটুকু দেয়া হয় আমার মনে হয় শিক্ষার্থীদের বুঝতে একটু সুবিধা হবে। সে স্বাধীনতা টুকু আমি এখানে এসে পেয়েছি।

ডিপার্টমেন্ট হিসেবে ইংলিশ ডিপার্টমেন্ট কেমন লাগছে ?
ভালো লাগছে। সাজানো গোছানো একটি ডিপার্টমেন্ট। যার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের সকলের জানা রয়েছে। কোন প্রসেস এর মধ্য দিয়ে গেলে লক্ষ্য অর্জন হবে সেভাবেই এগোচ্ছি।

ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীদের কেমন লাগছে?
শিক্ষার্থীরা সকলেই অনেক আগ্রহী। সকলে যে শতভাগ মার্কস পাবে তা নয়। তবে তাঁদের আগ্রহ প্রশংসনীয়।

নতুন শিক্ষক হওয়ায় কোন সমস্যা হয়েছে ?
না কোন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি এ পর্যন্ত। শিক্ষার্থীরা সকলেই অনেক কো-অপারেটিভ। সেই সাথে আমিও তাদের সাথে কাজগুলো যেভাবে সুবিধার হবে সে অনুযায়ী করছি। সকলের নিজ নিজ অবস্থান থেকে একটু হলেও উন্নতির দিকে অগ্রসর করানোর চেষ্টা করছি। যে কারণে প্রতি ক্লাসেই আমি তাঁদের ফিডব্যাক নিয়েছি। প্রতি ক্লাসে নাম-আইডি ছাড়া একটি কাগজে ক্লাসের ভালোলাগা এবং খারাপলাগাগুলোকে লিখতে বলি তাঁদের। পরবর্তিতে সেগুলো পর্যবেক্ষণ করে নেক্সট ক্লাসে সমস্যার সমাধানের চেস্টা করি।

স্টেটের উন্নয়নের জন্য আপনার কী মতামত?
স্টেটে অনেক ভালো কাজ হচ্ছে তবে বাইরের মানুষ খুব বেশি উন্নয়নের কথা জানে না। আমার মনে হয় প্রচার চেষ্টা কিছু বাড়ানো উচিৎ।

আপনার ডিপার্টমেন্ট নিয়ে যদি কিছু বলেন
ডিপার্টমেন্টের সর্ব কনিষ্ঠ সদস্য আমি। সে ক্ষেত্রে সিনিয়রদের থেকে অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। গাইডলাইন এবং নির্দেশনা পেয়েছি পুরোপুরিভাবে। নেগেটিভ কিছু চোখে পড়েনি এখনও। আশা রাখি, অনেক ভালো করবে ডিপার্টমেন্ট।

নতুনকিছু মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য কোন বার্তা যদি থাকে ?
শিক্ষার্থীদের একটি কথা বলতে চাই, একই সময়ে বিভিন্ন কাজ না করে যেন একটি কাজের উপরেই মনোনিবেশ করে তাহলে সে কাজ পরিপুর্ণতা লাভ করবে। মানুষের মস্তিষ্ক এক সময়ে একাধিক কাজের জন্য তৈরি হয়নি তাই একটি সময়ে একটি কাজ করাই উত্তম।

নতুনকিছু ডট কম নিয়ে যদি কিছু বলতেন?
নতুনকিছু ডট কম চিরচেনা নিউজ পোর্টালগুলোর মতো নয়। নতুন কিছুর নামেই এর স্বার্থকতা প্রকাশ পায়। শুভ কামনা রইল নতুন কিছুর জন্য।

ধন্যবাদ ম্যাডাম, আপনার মূল্যবান সময় আমাদের দেয়ার জন্য।
আপনাদেরও ধন্যবাদ।

Share.

Leave A Reply

seven + one =