সোনালি ডানার চিল : ‘আমার মেয়ে মেডিকেলে চান্স পাবে দেইখো’

0

সাদমান শাওন

জনপ্রিয় নির্মাতা আশফাক নিপুনের চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় ঈদ উল আযহা উপলক্ষে বানালেন নাটক ‘সোনালি ডানার চিল’। নাটকটি চ্যানেল আইতে প্রচারণার পর পর বেশ সারা ফেলেছে। চারপাশে কিছু অনিয়ম ঘুরাফেরা করছে যা সহ্য হচ্ছে না। মানতে কষ্ট হয়। সেই সমস্যাকেই তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন পরিচালক।

নাটকের মূল ঘটনায় আসি, সকলেরই কিছু স্বপ্ন থাকে যা পূরণের আশায় বুক বাঁধে। অপেক্ষা করে কিন্তু এক সময় তা ভেঙে চৌচির হয়ে যায়। কিন্তু আবারো মানুষ স্বপ্ন দেখে বাঁচার আশায়। আর সেই স্বপ্ন নানা ভাবে অল্প বিস্তর পূরণের মধ্য দিয়েই বাঁচে মানুষ। কখনো কখনো কারো পুরনোই হয়না।

নাটকে বাবা (রাইসুল ইসলাম আসাদ) ও মা(সাবেরী আলম) এর অনেক দিনের স্বপ্ন তার মেয়ে (মেহজাবিন) ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে মেডিকেলে চান্স পাবে। নিজের ও মা বাবার স্বপ্ন পূরণে অনেক পড়াশুনা করে মেয়েটি। কিন্তু আচমকা এক ভয় এসে ভিড় করলো মায়ের মনে। স্বামীকে বললেন, আজ কাল প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যায় পরীক্ষার আগেই। কিনতে পাওয়া যায়। আমার মেয়ে এতো পড়াশুনা করেও চান্স না পায়? তখন কি হবে? তাই তিনিও প্রশ্ন কিনে দিতে চান মেয়ের জন্য। এতো দিনের স্বপ্ন নষ্ট হতে দিবেন না। স্বামী বিষয়টি মানতে চান না এবং বলে, আমার মেয়ে মেধাবী। দেখে নিও আমার মেয়ে এমনি চান্স পাবে।
শুরু হয়ে যায় মা বাবার মধ্যে দ্বন্দ্ব। একদিকে মায়ের ভয় আর অন্যদিকে বাবার জোরালো বিশ্বাস মেয়ে চান্স পাবেই। সময়মত পরীক্ষা দেয় মেয়েটি। অপেক্ষায় দিন যায় রেজাল্ট এর। ফলাফলে চান্স পেলো না মেয়েটি। অথচ তারই বান্ধবী(কান্তা), এতোটাও পড়ুয়াও নয়। সে চান্স পেয়ে মিষ্টি পাঠায় তাঁদের বাড়িতে। কান্তার বাবা পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্ন কিনে দিয়েছিলো আর তাই চান্স পেয়েছে। বিষয় গুলো আর নিতে পারছিল না মা। বাবাও নিশ্চুপ। কি করবেন তিনি?

সবশেষে আবারো পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয় মেয়েটি। কিন্তু এইবার বাবার মনে ভয় ভিড় করে আবারো যদি চান্স না পায়? ভাবতে ভাবতে এক রাতে স্বপ্নই দেখে ফেললেন, মেয়ে আত্মহত্যা করছে। সকল ভয় কাঁটিয়ে ঠিক করে ফেললেন। তিনিও প্রশ্ন কিনে আনবেন। মেয়ের জীবনটা নষ্ট হতে দেয়া যাবেনা। এর জন্য যা করা লাগে করবেন। কিন্তু ভাগ্যের কি পরিহাস, প্রশ্ন কিনতে গিয়ে ধরা পড়েন পুলিশের কাছে। একজন শিক্ষকের কাছে এটা কতো বড় লজ্জা যা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

টিভি, পত্রিকার সংবাদে এই খবর ছড়িয়ে পড়ে। মান সম্মান , সামাজিক অবস্থান সব মিলে কি যে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে বলার অপেক্ষা রাখে না। বাবার এমন অপমান, পরিস্থিতি সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করে বসে মেয়েটি। শেষ দৃশ্য খুব করুণ। কোর্টে চালান করে দিবে তার আগে মেয়ের লাশ দেখেতে আসে বাবা। বুক ফাটা কান্নায় বাবা ভেঙে পড়েন। লাশ কাঁধে করে বাবা নিয়ে যাচ্ছেন। এই দৃশ্যটির সময় রবীন্দ্রনাথের গান বেজে উঠে ‘ সকাতরে ওই কাঁদিছে সকলে,শোনো শোনো পিতা। কহো কানে কানে, শুনাও প্রাণে প্রাণে মঙ্গলবার্তা’ । নাটকটি দেখার পর বেশ নাড়া দিবে আপনাকে। যারা টিভি পর্দায় দেখেননি আজই দেখে ফেলুন, ইউটিউবে রয়েছে।

সমালোচনা : মানুষ বাঁচে স্বপ্নের আশায়। কিন্তু সব পূরণ হয়না। কিংবা কিছু হয় কিছু হয়না। এইতো জীবন। ছোট থেকে মেডিকেলে পড়বেন স্বপ্ন থাকতেই পারে কিন্তু তাই বলে আর কোন পথ নেই তা হতে পারে না। জীবনকে নানা দিকে অনুসন্ধান করুন দেখবেন অনেক পথ রয়েছে। সেইসাথে মেধার অপচয় কেউ চাই না। প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রশাসনের আরও জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন ।

Share.

Leave A Reply

five × ten =