সেহেরি-ইফতারের স্বাস্থ্যকর খাবার

0

রমজানে প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের দিনভর না খেয়ে রোজা রাখতে হয়। সেই সাথে বিপুল পরিমাণ খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন হয় ইবাদতের এই মাসে। তবে রমজান মাসে রোজা রাখা নিয়ে দেখা দেয় নানাবিধ স্বাস্থ্য সমস্যা। এসিডিটি কিংবা পেপটিক আলসার জনিত সমস্যা দেখা দেয় অনেকেরই। যে কারণে অনেকেই রোজা রাখতে অনীহা প্রকাশ করেন। তাই রোজা নিয়ে মানুষের স্বাস্থ্য ভাবনার শেষ নেই।

আমাদের দেশের খাদ্যাভ্যাসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অস্বাস্থ্যকর খাবার। যা রমজান মাসে খাওয়া পরিপূর্ণ বাঞ্চনীয়। রমজানে খাবারের দুইটি প্রধান সময় সেহেরি ও ইফতারে খাবার খেতে হবে স্বাস্থ্যসম্মত। খাবার নির্বাচনে বিবেচনায় রাখতে হবে রোজাদারের বয়স ও স্বাস্থ্যের অবস্থা।

মূলত বছরের বাকি ১১ মাস স্বাভাবিক নিয়মে খাওয়া-দাওয়া হয়। রমজানে হঠাৎ করেই সেহরি খাওয়ার নিয়মটি শুরু হয়। তাই এদিকে বিশেষ যত্ন না নিলে স্বাস্থ্য বিপর্যয় ঘটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। স্বাভাবিকভাবে যে কোনো ধরনের খাবারই সেহরিতে খাওয়া যায়। তবে লক্ষ রাখতে হবে খাবারটা যেন সহজপাচ্য ও স্বাস্থ্যসম্মত হয়। ভাত বাঙালির মুখ্য খাবার। তাই সেহরিতে অবশ্যই সাদা ভাত রাখাটা জরুরী। তবে ভাতের সঙ্গে রাখতে হবে উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন মাছ, মাংস ও ডিম। স্বল্প খরচে ভাতের সঙ্গে শুধু ডিম ও ডাল। ডাল উদ্ভিজ প্রোটিন বলে এতে ক্ষতিকর চর্বি নেই। সেহরির খাবার তালিকায় যে কোনো একটি সবজি থাকা বাঞ্চনীয়। ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, পেঁপে, করলা, আলু, টমেটো_ এর কয়েকটি বা যে কোনো একটি রাখলে চলবে। পাকস্থলিতে উত্তেজনা ও অস্বস্তি সৃষ্টি করে এমন কোনো খাবার খাওয়া উচিত নয়।

বেশির ভাগ রোজাদারদের দেখা যায় ইফতারের সময় অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে। তারা মনে করেন, সারা দিন না খাওয়ার অভাবটুকু ইফতারে পুষিয়ে নেবেন। কিন্তু এটি ভুল ধারণা। ইফতার শুরু করতে হবে শরবত দিয়ে। বাজারে অনেক কৃত্রিম রঙ মেশানো শরবত পাওয়া যায়, যেসকল অবশ্যই বাঞ্ছনীয়। ইফতারে ফলের রস বেশ উপকারী। বুট, ছোলা ও মুড়ি খেতে পারেন এ সময়। দই, চিড়া ও কলা খেলে ভালো। তবে প্রচলিত বেগুনি ও পেঁয়াজু সর্বদা পরিহার করবেন। তেলে ভাজা এসব খাবার স্বাস্থ্য বিপর্যয় ঘটাতে সক্ষম। তা ছাড়া খাবারগুলো পুরনো তেলে ভাজা হলে ক্ষতির পরিমাণটা বেড়ে যায়। তেল বারবার গরম করলে ক্ষতিকর পলিনিউক্লিয়ার হাইড্রোকার্বন তৈরি হয়, যার মধ্যে থাকে বেনজোপাইরিন। এটা ক্যান্সারের সৃষ্টি করে। তাই ইফতারে খেজুর ও বিভিন্ন ফল রাখা ভালো। সেহরি এবং ইফতারির সময় প্রচুর পানি পান করবেন।

 

Share.

Leave A Reply

seventeen − = 15