সাংবাদিকের জীবনের গল্প নিয়ে নাটক ‘নিজস্ব প্রতিবেদক’

0

সাদমান শাওন

সাংবাদিক সালমান তারেক শাকিলের রচনায় ও স্বাধীন ফুয়াদের পরিচালনায় নাটক ‘নিজস্ব প্রতিবেদক’। প্রত্যেকটা মানুষের কর্ম জীবনের মাঝে কেবল কর্ম নয় ব্যক্তিগত জীবনও একই সাথে গাঁথা। তেমনি সাংবাদিক বিজয়ের জীবনের নেমে আসে এক ভয়ঙ্কর ঝড়।

নাটকে দেখা যায়, ইসরাফিল বিজয় একজন সাংবাদিক। সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত একটি সংবাদ মাধ্যম প্রতিষ্ঠানে। বেশ সুনামের সাথেই কাজ করে যাচ্ছিলেন। পাশাপাশি দিতি নামে এক মেয়ের সাথে প্রেম করতেও ভুলেনি। সেই প্রেম কাবিনে এসে পৌছায়। এখনো শ্বশুর বাড়ি নেয়া হয়নি।

দিতি ঢাকার অদূরে থাকে। আচমকা ফোনে দিতি বিজয়কে জানায় একদিন পরেই সে ঢাকায় আসছে মাস্টার্সে ভর্তির জন্য। আর তাকে যেন বিজয় নিতে আসে কমলাপুর রেল স্টেশনে।

পরের দিন, প্রতিদিনের মতো বিজয় অফিসে যায়। দিতিকে আনার জন্য যখনি বের হবে আচমকা অফিস থেকে কাজের চাপ আসে, জঙ্গি হামলা হয়েছে রিপোর্ট করতে হবে। উপায় না পেয়ে বিজয় সারাক্ষণ ফোনে দিতির খোঁজ নিলেও অন্যদিকে অফিস থেকে জঙ্গি হামলার খবর সংগ্রহের জন্য ব্যস্ত হয়ে। বিজয় একটু চিন্তায় পড়ে, তাই তার এক বন্ধু অনিমেষকে(পুলিশ) বলে দীপ্তি একটি নির্দিষ্ট জায়গায় আসবে তাকে যেন সে নিয়ে আসে।

এইদিকে,জঙ্গি হামলার খবর সংগ্রহের পর আরও একটি সংবাদ সংগ্রহের জন্য তার বস ফোন করে। একটি মেয়ে চলন্ত বাসে রেপ হয়েছে সেইসাথে মার্ডার হয়েছে রিপোর্ট করতে হবে। দুশ্চিন্তায় পরে যায় বিজয় দীতিকে নিয়ে, মেয়েটা শহরের কিছুই চেনেনা। তার বন্ধু অনিমেষর সাথে দেখা হল কিনা। এইদিকে কাজের চাপ।

এতো সমস্যার মাঝেও, বিজয় রেপ কেসের রিপোর্ট করতে যায়। সেখানে পুলিশের কাছ থেকে রেপ এর সকল তথ্য নিচ্ছেন, তখনও ভুলেননি প্রিয় মানুষটির খবর নিতে। আবারও বন্ধুকে ফোন দেন জানতে, দীতি দেখা করেছে কিনা। কিন্তু বিজয়ের বন্ধু (অনিমেষ)জানায়, এখনো দেখা বা ফোন দেয়নি। এমনবস্থায় আবারও কাজের দায়িত্ব অনুযায়ী রেপ এর রিপোর্টে ফিরে আসে বিজয়।

পুলিশের কাছ থেকে আবারও রেপ এর রিপোর্টের জন্য তথ্য জানতে চায়। আচমকা রেপ হওয়া মেয়েটির নাম শুনে বিজয় মাটিতে বসে পরে। দৌড়ে গিয়ে হাসপাতালে লাশ দেখতে চলে যায়। বিজয় লাশের চাদরটি উঠিয়ে দেখে এই মেয়ে আর কেউ নয় তারই সদ্য বিবাহিত ভালবাসার দীতি। টপটপ করে চোখে পানি পড়ছে বিজয়ের। পাশে বন্ধু অনিমেষ। এই অনিমেষই প্রথম বাসটিকে জব্দ করে। তখনও জানতো না এই দীতিই তার বন্ধুর ওয়াইফ। বিজয় কান্নায় ভেঙে পড়ে। বিজয় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। আর এভাবেই শেষ হয় নাটকটি।

নাটকটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন জোভান, টিনাদিয়া মিম, সাব্বির আহমেদ প্রমুখ। নাটকটি বর্তমানে ইউটিউবে দেখা যাচ্ছে।

নাটকটির রচনায় সালমান তারেক শাকিল বলেন, ‘নাটকের গল্পটি কাল্পনিক হলেও আমার সাংবাদিকতা জীবনের ছায়া ধরে লেখার চেষ্টা করেছি। কারণ, আমাদের সাংবাদিকতা জীবনে সংবাদের পেছনে রাত-দিন ছুটতে গিয়ে ব্যক্তিগত এমন অনেক ঘটনাই ঘটে, যেগুলো আসলে সংবাদ হয়ে ধরা দেয় না পাঠক-দর্শকদের কাছে। সেই দুঃখবোধ নিয়েই নাটকটি লিখেছি।

Share.

Leave A Reply

15 − six =