সাংবাদিকতায় সিনেমা ‘জোডিয়াক’

0

সাদমান শাওন

পরিচালক ডেভিড ফিঞ্চার এর পরিচালনায় সত্যি ঘটনা অবলম্বনে তৈরি অসাধারন ক্রাইম ইনভেস্টিগেটিভ, থ্রিলার সিনেমা ‘জোডিয়াক’ যা ২০০৭ সালে মুক্তি পায়। মূলত সিনেমাটিতে একজন পলিটিক্যাল কার্টুনিস্ট (রবার্ট গ্রেস্মিথ) ও একজন ক্রাইম রিপোর্টার (পল এভরি) মিলে একটি সিরিয়াল কিলারকে খুঁজে বেড়ায়।

এ সিনেমাটি একটি সত্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে, যার সমাধান আজো হয়নি। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কুখ্যাত অপরাধগুলির মধ্যে একটি। সিনেমাতে দেখা যায়, ১৯৬০ এর শেষে ও ১৯৭০ এর শুরুর দিকে জোডিয়াক নামে এক সিরিয়াল কিলার। যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিস্কো উপসাগারীয় অঞ্চলের ভ্যালেও নামক শহরে। ৬ই জুলাই রাতে এক বিবাহিত যুবতী তার তরুণ প্রেমিককে নিয়ে লাভার’স লেন-এ যায়। তাদের মনে হয়, একটি গাড়ি তাদেরকে অনুসরণ করছে। গাড়িটি দেখে খুব ভয় পেলেও মেয়েটি ছেলেটিকে কিছু করতে নিষেধ করে। সেই গাড়িতেই ছিল খুনি, যার গুলিতে মেয়েটি মারা যায়, ছেলেটি ঘটনাক্রমে বেঁচে যায়। এই একই খুনি এর আগের আরেক প্রচেষ্টায় প্রেমিক-প্রেমিকা দু’জনকেই মারতে সমর্থ হয়েছিল। পুলিশকেও জানায় খুনি। এভাবে একের পর এক, খুনি ভিন্ন মজার খেলায় খেলতে লাগলো। খুনি(জোডিয়াক) পত্রিকাগুলোতে বিভিন্ন ক্লু পাঠাতে লাগলো। কিন্তু পত্রিকাগুলো তার সম্পর্কে কোন তথ্য খুঁজে বের করতে পারে না।

ছবিতে, সিনেমায়  ক্রাইম রিপোর্টার(পল এভরি) ও পলিটিক্যাল কার্টুনিস্ট(রবার্ট গ্রেস্মিথ)

একসময় সিনেমাটিতে একজন পলিটিক্যাল কার্টুনিস্ট ও একজন ক্রাইম রিপোর্টার এ সমস্যাকে সমাধানের চেষ্টা চালায়। যাকে বলে পুরোদমে ক্রাইম ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম ইনভেস্টিগেশন একের পর এক করেই যায় কিন্তু ক্লু যা পাওয়া যায় খুবই কাছাকাছি মিলেও মিলেনা। দীর্ঘ ৩ ঘণ্টার এই সিনেমা একটুর জন্যও একঘেয়েমি লাগবে না। সাসপেন্স আছেই সেইসাথে আবার সত্যি ঘটনা নিয়ে , কার্টুনিস্ট এক যুগের অধ্যবসায়ের পর অবশেষে সে একজনকে জোডিয়াক ভেবে নেয়ার যথেষ্ট কারণ খুঁজে পায়। তারপর একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে তার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়, তার চোখের দিকে চোখ তুলে তাকায়। এই তাকানোর মুহূর্তটি তৈরির জন্য নির্মাতা ফিঞ্চার প্রায় দুই ঘণ্টা সময় ব্যয় করেছন,এতেই তা এত গাঢ় হয়েছে।

ছবিতে, পত্রিকাগুলোতে খুনির(জোডিয়াক) পাঠানো ক্লু।

সব মিলিয়ে অসাধারণ সাসপেন্সমূলক সিনেমা। পুরো কাহিনীর জন্য আপনাকে অবশ্যই সিনেমাটি দেখতে হবে নয়তো সিনেমার রস নিতে পাড়বেন না। এই লিখা কেবল সিনেমা দেখার আগ্রহ তৈরি করা। অবশ্যই ক্রাইম থ্রিলার কিংবা ক্রাইম ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম সিনেমাপ্রেমিদের জন্য ‘জোডিয়াক’ দেখা বাঞ্ছনীয়।

চলচ্চিত্রের লেখার প্রশংসা, নির্দেশনা, অভিনয় এবং ঐতিহাসিক সত্যতা। রাশিয়ার বিভিন্ন পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল এবং ফিঞ্চার ২007 সালে ডাবলিন ফিল্ম সমালোচকদের বৃত্ত থেকে “সেরা পরিচালক” পুরস্কার জিতেছিলেন ।

রিলিজ ডেট – 2 march , 2007
গল্প – zodiac by graysmith
রেটিং – 7.7

Share.

Leave A Reply

nine × one =