শৈশবের আল্পনা, তারুণ্যের ডেকোরেশন…

0

চুলে পাক ধরেছে আগেই। প্রথম প্রথম খুশিই হয়েছিলাম। কান বরাবর পাকা শুরু করেছিল। ধনী মানুষের আলামত। পরে এ ভুল ভাঙল। কালো চুলের ভিড়ে মাথা জুড়ে সাদা চুলের আনাগোনা। একদিন ভেবেছিলাম, মাথার ওপরে মোবাইলের ক্যামেরা ধরে শুধু মাথার একটা সেলফি তুলব। শৈল্পিক চর্চা। মনে হবে, সাদা মেঘের ভিড়ে অজস্র খণ্ড খণ্ড কালো মেঘ।

সেটা আর করা হয়নি। যখন দেখলাম, খোঁচা দাড়ির কয়েকটাতে পাক ধরেছে। মনটা খারাপ হয়ে যায়। কিছুদিন পর দেখব, এক তরুণী কাপ বাড়িয়ে দিয়ে বলবে, ‘আব্বা, আপনার চা।’ পোলার বউ।

বয়সটা এমন হু হু করে বেড়ে যাবে স্বপ্নেও ভাবিনি।

আজ সাত সকালে ভার্সিটি আসার সময় দেখলাম, শত শত কিশোর কিশোরী ছাত্রী লাইন ধরে রাস্তায় হাঁটছে। ভ্যানে অর্ধশত বাচ্চা। বাদ্য বাজনা চলছে। একটি স্কুলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। এমনিতেই সকালে থাকে জ্যাম। এতে কিছুটা বেড়েছে। তবে সঙ্গে থাকা শিক্ষকেরা গাড়ি চলাচলের রাস্তা করে দিচ্ছে। আমি বাইকে। যাচ্ছি না। আস্তে আস্তে চালাতে থাকি। ওই বাচ্চাদের ভ্যানদের সঙ্গে। এ প্রথম ঢাকার জ্যামটা ভালো লাগছে। যতক্ষণ জ্যাম থাকবে, এ বাচ্চাদের সঙ্গে থাকা যাবে।

বাচ্চাদের হইহই রইরই আওয়াজ। আমিও শুরু করে দিলাম। বাচ্চারা হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ছে। এক বাচ্চা বলল, ‘আংকেল, আমাকে মোটরসাইকেলে চড়াবেন?’ আবার হাসাহাসিতে গড়াগড়ি। পাক্কা আধ ঘণ্টা কাটলো এ বাচ্চাদের সঙ্গে।

তারপর পৌঁছলাম ভার্সিটি। এখনও তেমন কেউ আসেনি। সবে আসতে শুরু করেছে। কিছুক্ষণের মধ্যে দেশের সকল ভার্সিটি ভরে উঠবে তারুণ্যে।

আমার মতো বুড়োরা ভাগ্যবান, বাচ্চাদের সঙ্গে থাকা যায়, তারুণ্যের সঙ্গে থাকা যায়। বাচ্চাদের হাসিতে গড়াগড়ি, আদুরে আংকেল ডাক আর তারুণ্যের ছোঁয়ায় বুড়োরাও বাচ্চা হয়ে ওঠে, তরুণ হয়ে ওঠে। বাচ্চা যখন বাবা ডাকে, তখন অদ্ভূত এক শক্তি পাই।

মাথার ওপর মোবাইলের ক্যামেরা বসিয়ে একটা সেলফি তুলেই ফেলি। অজস্র কালো রঙের মাঝে সাদা সাদা রং, শৈশবের আল্পনা, তারুণ্যের ডেকোরেশন…

একমাত্র বুড়োদের মাথা ছাড়া আর কোথাও এ আল্পনা নেই, ডেকোরেশন নেই…

লেখক: কাজী এম. আনিছুল ইসলাম।

জ্যেষ্ঠ প্রভাষক, জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ। স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।

Share.

Leave A Reply

4 + 2 =