শুধু স্বপ্ন দেখা নয়, বাস্তবায়ন বেশি জরুরি

0

আমিনুল ইসলাম নাবিল ও ওয়াজি তাসনিম

জীবনে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠতে হবে। শিক্ষার্থীদের পরিশ্রমী হওয়ার সাথে সাথে ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হবে। একজন শিক্ষার্থীকে হতে হবে মোমবাতির মতো। একটি মোমবাতি থেকে জ্বালাতে হবে অনেকগুলো মোমবাতি। শিক্ষা জীবন থেকেই শুরু করতে হবে কিছু করে দেখানোর প্রচেষ্টা।

রাজধানীর কলাবাগানের স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের স্কলারস ইনে আয়োজিত স্প্রিং ২০১৮ এর নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্যে ঢাকা ইউনিভার্সিটি এলামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি, হামিম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এফবিসিসিআই এর সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ এসব কথা বলেন। শনিবার সকাল ১০টায় এ অনুষ্ঠান হয়।

বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ট্রাস্টি বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ডা. এ এম শামীম।

এ কে আজাদ বলেন, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে নীতি নৈতিকতার বিষয়টির ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে জেনে আমি সত্যিই আনন্দিত। আমি আশা করি, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা নতুন ভর্তি হয়েছে, তারা প্রত্যেকেই নিজেদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।

এ কে আজাদ নিজের জীবনে কীভাবে বিভিন্ন চড়াই উতড়াই পেড়িয়ে এতদূর এসেছেন-তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাধা আসবেই। কিন্তু তা অতিক্রম করে যাওয়ার জন্য মানসিক শক্তি, স্বপ্ন ও তার বাস্তবায়নও খুব জরুরি।

ট্রাস্টি বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ডা. এ এম শামীম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বাংলাদেশী হিসেবে গর্বিত হতে হবে। সচেতন হতে হবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে। ভালো বন্ধু নির্বাচন করতে হবে। মনে রাখবে বিনয় মানুষকে বড় করে তোলে।’ তিনি বলেন, আমরা প্রতিটি দিনই যুদ্ধ করছি। তোমাদেরকেও এমন মনোভাব গ্রহণ করতে হবে, যাতে প্রতিযোগিতার এ বিশ্বে নিজেকে জয়ী করতে পারো। এখানে পরাজিত হলে চলবে না।

স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. সাঈদ সালাম বলেন, ‘উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে শতভাগ ক্লাস করা একান্ত প্রয়োজন। আমরা শুধু স্নাতক পর্যায়েই না স্নাতকোত্তর পর্যায়েও ভার্সিটির গুণগত মান রক্ষা করি। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে সব রকম সহযোগিতা প্রদান করতে আমরা সদা প্রস্তুত।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আনোয়ারুল কবির বলেন, ‘সময় আজ তোমাদের সাথে, তোমরাই সময় পরিবর্তনের হাতিয়ার। তোমরা থাকবে সবসময় অবিচল নির্ভীক।’

রেজিস্ট্রার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মির্জা এজাজুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার পাশাপাশি কো-কারিকুলাম কার্যক্রমও চালিয়ে যেতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাবগুলোতে শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণ করে নিজেদের অারও বিকশিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে স্টেট ইউনিভার্সিটি বদ্ধ পরিকর। যে কোনো সমস্যায় বিশ্ববিদ্যালয় তাদের পাশে আছে ও থাকবে।

জেসিএমএস বিভাগের উপদেষ্টা প্রফেসর রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ চিন্তা করতে শেখা ও শেখানো। এ কারণে পরিশ্রম, সময়কে কাজে লাগানো এবং স্বপ্নের পেছনেই ছুটতে হবে। যে যত বড় স্বপ্ন দেখতে পারে সে ততবড় মানুষ হতে পারে।’

স্কুল অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির ডিন এবং আর্কিটেকচার বিভাগের উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল ওয়ারেস বলেন, ‘দেশের জন্য নয় মানুষের জন্য কাজ করে যেতে হবে। সে জন্য তৈরি করতে হবে নিজেকে। এ সকল কাজে সহায়তা করবে বিশ্ববিদ্যালয়।’

ইংরেজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শাহিন মাহবুবা কবীর তাঁর বক্তব্যে নতুন শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের কিছু প্রত্যাশা রয়েছে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভালো এবং মন্দের মাঝে পার্থক্য করার জ্ঞান অর্জন করতে হবে তোমাদের।’

বিজনেস স্টাডিজ বিভাগের এডভাইজার অধ্যাপক মুহাব্বত আলী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘স্টেট ইউনিভার্সিটি আকারে খুব বৃহৎ না হলেও এর কাঠামো খুবই গোছানো।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও পাবলিক হেলথ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. নওজিয়া ইয়াসমিন বলেন, আমরা সর্বাবস্থায় শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার করে যাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-শৃঙ্খলা রক্ষায় শিক্ষার্থীরা সব সময় প্রক্টরিয়াল বডির সহযোগিতা পাবে।

শেষ পর্যায়ে বক্তব্য রাখেন নতুন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ফারদিন খান। তিনি শিক্ষকদের সকল উপদেশ মেনে শতভাগ ক্লাসে উপস্থিত হওয়ার এবং একজন ভালো মানুষ হওয়ার প্রত্যয় জানান।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ (জেসিএমএস) বিভাগের লেকচারার সাহস মোস্তাফিজ।

Share.

Leave A Reply

twenty one ÷ = seven