শিক্ষা পূর্ণতা পায় সহশিক্ষার সমন্বয়ের মাধ্যমে

0

স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের আইন বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ও বিতার্কিক মো. নজরুল ইসলাম সুজনের সাথে কথা বলেছেন নতুনকিছু.কম এর প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম নাবিল।

নতুনকিছু.কম: শুভসকাল, কেমন আছেন?

মো. নজরুল ইসলাম সুজন: শুভসকাল, ভাল আছি।

নতুনকিছু.কম: শৈশবে বেড়ে উঠা নিয়ে শুনতে চাই ।

মো. নজরুল ইসলাম সুজন: জন্ম শরীয়তপুরের সদর উপজেলার পশ্চিম সারেঙ্গা গ্রামের নানা বাড়িতে। আর জন্মের পরপরই বাবা মা নিয়ে আসে ঢাকার ধোলাইপাড়। এরপর ২০০৬ সালে বিদ্যালয় পরিবর্তনের কারণে চলে আসি বাসাবো। শৈশব কেটেছে রাজধানীর এই  দু’টি এলাকায়।

নতুনকিছু.কম: আপনার শিক্ষাজীবন নিয়ে কিছু বলুন।

মো. নজরুল ইসলাম সুজন: ২০০১ সালে ধোলাইপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করি। এরপর রাজধানীর অন্যতম বিদ্যাপীঠ কদমতলা ‘পূর্ব বাসাবো স্কুল এন্ড কলেজ’ থেকে ব্যবসায় শিক্ষা গ্রুপ থেকে ২০১১ সালে মাধ্যমিকে A+ ও ২০১৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিকে  A পেয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করি। ২০১৪ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে হাবিবুল্লাহ বাহার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ব্যবস্থাপনা বিভাগে স্নাতকে ভর্তি হলেও আইন পড়ার তীব্র ইচ্ছার কারণে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে ভর্তি হই স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে। এখানেই আছি আর এপ্রিলে স্নাতক শেষ করব।

নতুনকিছু.কম: পড়াশোনার পাশাপাশি কো-কারিকুলাম একটিভিটিতে যুক্ত আছেন কিনা?

মো. নজরুল ইসলাম সুজন: আসলে সেভাবে কখনো খেলাধুলা বা সাংস্কৃতিক বিষয়ে পারদর্শী ছিলাম না। তবে, উচ্চ মাধ্যমিকে থাকাকালীন ১ম বার উপস্থিত বক্তৃতায় অংশ নিয়ে দ্বিতীয় হই। আর সব সময় বিতর্ক বা আলোচনা অনুষ্ঠান দেখতাম, ভাল লাগত। আর সেই ভালোলাগা থেকে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ডিবেটিং সোসাইটি’তে যুক্ত হই ২০১৪ সালের অক্টোবরে। এখন পর্যন্ত জ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে আছি। গত ৩ বছরে সোসাইটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছি। এছাড়াও স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ‘ল’ ডিবেটিং সোসাইটির বর্তমান সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ টি জাতীয় পর্যায়ের বিতর্ক উৎসব ও প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছি। তার মধ্যে এটিএন বাংলা ও এশিয়ান টিভিতে ৬ বার টেলিভিশন বিতর্ক করা হয়েছে। এছাড়াও জাতীয় পর্যায়ের মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া হয়েছে।

নতুনকিছু.কম: কয়েকটি প্রোগ্রামের নাম বলুন, যা কখনও ভুলতে পারবেন না?

মো. নজরুল ইসলাম সুজন: উল্লেখযোগ্য কিছু প্রোগ্রাম এর কথা বলতে গেলে অবশ্যই বলতে হবে চট্টগ্রামে আয়োজিত নিলস (নেটওয়ার্ক ফর ইন্টারন্যাশনাল ল স্টুডেন্টস) ১ম জাতীয় আইন বিতর্ক প্রতিযোগিতার কথা। এই প্রতিযোগিতায় আমার দল রানার্স আপ হয়। পুরো অনুষ্ঠানটি স্বপ্নের মত ছিল। এছাড়াও টিআইবি আয়োজিত কুয়েট বিতর্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেট হলে আয়োজিত ১১তম হেনরি ডনেট মুট কোর্ট কম্পিটিশন, যেখানে আমরা সেমিফাইনালে যাই। কিছু টিভি বিতর্কও খুব স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

নতুনকিছু.কম: পড়াশোনা এবং কো-কারিকুলাম একটিভিটি একসাথে কিভাবে সমন্বয় করেন?

মো. নজরুল ইসলাম সুজন: আসলে পড়াশোনা আমাদের যেমন প্রয়োজন, তেমনি পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমও প্রয়োজন। কারণ শিক্ষা পূর্ণতা পায় সহশিক্ষার সমন্বয়ের মাধ্যমে। নিয়মিত ক্লাস করার পাশাপাশি সপ্তাহে ২/১টি দিন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে থাকি।

নতুনকিছু.কম: আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের কেন বিতর্ক করা অপরিহার্য?

মো. নজরুল ইসলাম সুজন: আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিতর্ক করা ফরজ কাজের মত মনে হয় আমার কাছে। কারণ আইন পড়ে যদি কেউ বিচারক বা আইন ব্যবসা করতে চায়, তবে তাকে বিতর্কের চর্চা করতে হবে। কারণ বিতর্ক চর্চার মাধ্যমে যুক্তি সুন্দরভাবে উপস্থাপন ও যুক্তির বিশ্লেষণ করতে শেখা যায়। আইনজীবী হলে বা বিচারক হলে দুই জায়গাতেই যুক্তি তুলে ধরতে বা যুক্তি থেকে বিচার করতে সহায়তা করে।

নতুনকিছু.কম: বিতর্ক একটি সামাজিক আন্দোলন নাকি প্রতিযোগিতা?

মো. নজরুল ইসলাম সুজন: বিতর্ক একটি সামাজিক আন্দোলন হিসেবেই মনে হয়। কারণ, সমাজের বিভিন্ন সমস্যা, বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে এর গঠনমূলক আলোচনা সমালোচনা করার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে করণীয় সম্পর্কে তরুণ সমাজ সম্যক ধারণা পেতে পারে। আর এ থেকে যার যার নিজ আওতায় সমস্যা নিয়ে আলোচনা করার মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করা সম্ভব। সেদিক থেকে সামাজিক আন্দোলন বলা যায়।

নতুনকিছু.কম: আপনার লক্ষ্য কি?

মো. নজরুল ইসলাম সুজন: একটা সময় দেশের প্রধানমন্ত্রী, কখনও সাংসদ হবার খুব ইচ্ছা ছিলো। এখন অবশ্য সেই ইচ্ছা নেই। এখন চাই একজন আইনজীবী হতে। আমাদের দেশের অনেক মানুষ টাকার জন্য আইনি সহায়তা পায়না বা সরকারের পক্ষ থেকেও সম্ভব হয়না। সেজন্য নিজ জায়গা থেকে সমাজের মানুষের আইনি সেবা দিতে এবং পাশাপাশি বাবা মা’র স্বপ্ন পূরণে করতে একজন সফল আইনজীবী হতে চাই। ড. কামাল, ব্যারিস্টার রফিকদের মতো দেশের মানুষ আমাকে অ্যাডভোকেট নজরুল হিসেবে জানবে, এটাই চাই।

নতুনকিছু.কম: নিজ বিশ্ববিদ্যালয়কে ভবিষ্যতে কোথায় দেখতে চান?

মো. নজরুল ইসলাম সুজন: ভবিষ্যতে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ দেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হবে, যাতে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে গর্ব করে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়টির কথা বলতে পারি। তেমনই একটি জায়গায় দেখতে চাই আমার প্রাণের শিক্ষাকেন্দ্রকে।

নতুনকিছু.কম: জীবনের কোন অর্জনগুলো আপনাকে অনুপ্রাণিত করে?

মো. নজরুল ইসলাম সুজন: আসলে বিতর্ক বা মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা, টক’শো যাই করি না কেন, সব কিছু থেকেই কিছুনা কিছু অর্জন করি। তবে জীবনের ১ম বিতর্ক করা, রানার্স আপ হওয়া বা মুটে ভালো করা এগুলো খুব অনুপ্রেরণা দেয়। আমার একটি টেলিভিশন বিতর্ক সামাজিক যোগাযোগ ও প্রচার মাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়, যার কারণে দেশের অনেক অপরিচিত মানুষ আমার সাথে বিভিন্ন জায়গায় দেখা হবার পর আমার যখন প্রশংসা করেছে বা আমার অনুজ বিতার্কিকরা যখন আমাকে তাদের আদর্শ বলে বা শিক্ষকরা যখন খুব প্রশংসা করে, আমার ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখে দায়িত্ব দেয়, এই বিষয়গুলো অনুপ্রেরণা দেয়।

নতুনকিছু.কম: সফলতার পেছনের কারণ বলবেন কি?

মো. নজরুল ইসলাম সুজন: আমি আজকের নজরুল কখনই হতে পারতাম না, যদি আমার মায়ের তীব্র ইচ্ছা আর আমার বাবার সহযোগিতা না থাকত। আমার মা আমাকে কলেজ জীবন পর্যন্ত স্কুল কলেজে নিজে যেয়ে দিয়ে এসেছেন। আমার শিক্ষা বিষয়ক বা বিতর্কে কখনও বাধা দেননি, বরং উৎসাহ দিয়েছেন। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার অবস্থান থেকে আমি পড়বো তা কল্পনাও করিনি কখনো। কিন্তু যখন মা’কে বলেছি আমি আইন পড়বো, মা আমাকে কখনও বলেনি কীভাবে পড়াবো, বরং জিজ্ঞাসা করেছে কোথায় পড়বো? আমার জীবনের সকল সফলতার পেছনেই আমার মা। আর বাবা, আর্থিক অস্বচ্ছলতা বা কঠিন মূহুর্তেও আমাকে সহযোগিতা দিয়ে গিয়েছেন। অর্থাৎ বুঝতেই পারছেন আমার সফলতার মূল কারণ। আর নিজের ইচ্ছা তো আছেই। কারণ আমার যদি স্বপ্ন বা ইচ্ছা না থাকতো, তবে এতদূর আসতে পারতাম না। স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে ইচ্ছাটা দরকার। আর ইচ্ছা পূরণ করতে সংগ্রাম। সফল সেই অর্থে এখনও হইনি। সংগ্রাম করে যাচ্ছি, সফল হতে চাই। ধন্যবাদ নতুন কিছু পরিবারকে।

Share.

Leave A Reply

30 ÷ = three