শচীনকে বোল্ড করে যাত্রা শুরু যে বাংলাদেশি ক্রিকেটারের

0

গোলাম ওয়াদুদ।।

‘স্লো লেফট আর্ম অর্থডক্স’ শব্দটি ক্রিকেট প্রেমী সকলের কাছে পরিচিত। বাংলাদেশ ক্রিকেটে ‘স্লো লেফট আর্ম অর্থডক্স’ বোলিং শব্দটি ব্যবহৃত হলেই প্রথমেই চলে আসে বাংলাদেশের প্রথম আইকনিস্ট ক্রিকেটার মোহাম্মদ রফিকের নাম। মোহাম্মদ রফিক বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রথম আইকন।যিনি তাঁর বোলিং ক্যারিশমায় বাংলাদেশকে এনে দিয়েছিলেন  অনেক বড় বড় জয়।

মোহাম্মদ রফিকের যখন জাতীয় দলে অভিষেক হয় তখন বাংলাদেশ ক্রিকেট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাড়া জাগানো কোন দল ছিল না। ১৯৯৪ সালে সার্ক ক্রিকেট নামের একটি প্রতিযোগিতায় অভিষেক হয় রফিকের। ভারতের কিংবদন্তি সব ক্রিকেটার নিয়ে গড়া টিম ইন্ডিয়ার ‘এ’ দলের বিপক্ষে নিজেকে প্রমাণ করেন রফিক।সেই থেকে আর পিছনে তাকাতে হয়নি ‘স্লো লেফট আর্ম অর্থডক্স’ এই বোলারকে। সেই প্রতিযোগিতায় শুধু ভারতকে নয় শ্রীলংকার বিপক্ষেও জয় পেয়েছিল সদ্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা দেওয়া টিম বাংলাদেশ।সেই প্রতিযোগিতায় ‘স্লো লেফট আর্ম অর্থডক্স’ যেমন কার্যকরী ভূমিকা রেখেছিল তেমনি তিনি যে একজন মারকুটে ব্যাটিং সেটাও বাঙ্গালী ক্রিকেট প্রেমীরা বুঝেছিলেন।

রফিকের জাতীয় দলে অভিষেক হয় ১৯৯৫ সালে শারজায় এশিয়া কাপ ক্রিকেটের মাধ্যমে।আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর প্রথম উইকেট ক্রিকেটের কিংবদন্তী শচিন টেন্ডুলকারের। হয়ত অনেকেই আমরা এই বিষয়ে জানি না। শচীনকে বোল্ড করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রফিকের যাত্রা শুরু।এর পর আর তাকে পিছনে তাকাতে হয়নি। নিজের বোলিং ক্যারিশমা ও মারকুটে ব্যাটিং এর মাধ্যমে হয়ে উঠেছিলেন সবার প্রিয় রফিক। ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি জেতায় অনন্য ভূমিকা পালন করেন মোহাম্মদ রফিক। বিশ্বকাপে প্রথম যে বার বাংলাদেশ কোয়ালিফাই করে সেই সময় রফিক ছিলেন সেই দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটার।

বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে জয়ও আছে বাঙ্গালি ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রিয় রফিকের হাত ধরেই।  কেনিয়ার বিপক্ষে সেই ম্যাচে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নেমে মারকুটে ব্যাটিং এ করেছিলেন ৭৭ রান , যা তাঁর ওয়ানডে ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ ইনিংস। আর সেই ম্যাচে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হন রফিক। ২০০৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টে ১১১ রানের ইনিংস তাকে স্মরণীয় করে রেখেছে হাজারো ক্রিকেট ভক্তের কাছে। বাংলাদেশ ক্রিকেটে ওয়ানডে এবং টেস্টে প্রথম ১০০ উইকেট শিকারী বোলার সবার প্রিয় মোহাম্মাদ রফিক। এর পর হয়তো অনেকে ১০০ উইকেট শিকার করেছে কিন্তু রফিকের কৃত্তি ক্রিকেট ভক্তদের কাছে সবসময় স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি যে মূহুর্তে ১০০ উইকেট পেয়েছেন সে সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট এখনকার মত এত উজ্জ্বল ছিলনা । তখন বাংলাদেশ ক্রিকেটে ভাল করা ছিল সবচেয়ে কঠিন। তখন এখনকার মত এত সুযোগ-সুবিধে ছিলনা। অবহেলিত বাংলাদেশ দলকে অনেকটাই বিশ্বের বুকে তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রথম এই আইকনিস্ট।

অভিষেক থেকে অবসর নেওয়া পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেটকে দিয়ে গেছেন তাঁর সর্বোচ্চটুকু। অবসরের পরও তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এখন ও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তাঁর ক্রিকেটীয় মেধা দিয়ে। রফিকের ক্যারিয়ার নিয়ে তাঁর কোন অতৃপ্তি নেই। যতটুকু তিনি খেলেছেন তা মন দিয়েই খেলেছেন এমন কথা তাঁর মুখে অনেকবার শোনা গেছে।

লেখক- গণযোগাযোগের শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মী।

Share.

Leave A Reply

three + three =