‘লাইফ রোড’ একটি এডভেঞ্চার ধর্মী গল্প

0

প্রথম পর্ব- 

তখন ছিল মধ্যরাত। ঘড়ির কাটা টিং টিং শব্দ করে বেজে চলেছে। অলিন ঘুমে আছন্ন চোখে মায়াবী স্বপ্ন তখন, ঘড়ির টিং টিং শব্দ কানে যেতেই ঘুম ভেংগে গেলো। চোখের সামনে ভেসে এলো অস্বাভাবিক আভাস। অলিন আশ্চর্য হয়ে দেয়ালে ঘড়ির দিকে তাকালো। আগে কখনো এমনভাবে ঘড়ির আওয়াজ হয়নি। তবে আজ কেন হচ্ছে? চোখের সামনে সব কিছুকেই অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে তার। একটি এপার্টমেন্টে অলিন একা থাকে। আপন বলতে দু’কূলে কোন আত্নীয় স্বজন নেই। জন্মের পর তার সময় কেটেছে রাস্তার পাশে নর্দমায়। বাবা মা’র পরিচয় দেবার মত ইতিহাস তার জানা নেই।

অলিন বড় হয়েছে একটি চার্জে। ছোটবেলা থেকেই বড় হয়ে ওঠা তার এই পৃথিবীর বুকে। কখনো বাবা মা’র ভালোবাসা পাওয়া হয়নি তার। ঘুমে চোখ টলছে অলিনের। এতক্ষণে ঘড়ির টিং টিং আওয়াজ থেমে গেছে। কিন্তু ঘুমানো আর হলনা তার। দরজা খুলতে হলো কলিংবেলের আওয়াজে। অলিন অবাক হলো এই মাঝরাতে কে এলো তার কাছে? বাহিরে কৃষ্ণ পক্ষের চাঁদ উদয় হয়েছে। ঘরের জানালা ভেদ করে মিটি মিটি আলোর কণিকা এসে পড়ছে। অলিন দরজার কাছে এগিয়ে গেলো এবং দরজা খুলতেই চমকে গেলো। কেননা দরজার সামনে পুলিশ দাঁড়িয়ে রয়েছে। পুলিশ কেন এসেছে এখানে? ভাবছে অলিন। সে মনে মনে একটু ভয় পেতে শুরু করলো।

আপনি কি অলিন আহমেদ সরাসরি প্রশ্ন করলেন পুলিশ অফিসার রফিক।
জী, কিন্তু কেন? কোন সমস্যা!
হ্যা, আপনাকে কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করার আছে।
কেন? জানতে চাইলো অলিন। আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ কেন? আমি কিছু বুঝতে পারছি না।
আপনি মনে হয় টিভিতে খবর খুব বেশি একটা দেখেন না। ঘরে টিভি আছে তো মিষ্টার অলিন?
জী, হ্যা আছে। আসলে এতো ঘুম এসেছিলো চোখে, টিভি আর দেখা হয়ে উঠেনি। কিন্তু অফিসার কি হয়েছে জানতে পারি?
কিন্তু সবকিছু বলতে হলে ভিতরে আসতে হবে আপনি যদি কিছু মনে না করেন। তাহলে, বসে আলোচনা করতে পারি।
ওহ! আমি দুঃখিত মিস্টার রফিক।
এই মাঝরাতে আপনাকে বিরক্ত করতে এসেছি বলে দুঃখিত।
কি হয়েছে সেটা বলুন।
অলিন নিশ্চুপ হয়ে বসে রইলো সোফাতে। অফিসার রফিক একটি সিগারেট ধরালো। অলিন একবার চা কফির অফার করেছিলো, অফিসার খাবে না বলে মানা করেছে।
শুনুন মিস্টার অলিন, আপনাকে তাহলে ঘটনাটা খুলেই বলি। আজ রাত ন’টার সময় আনুমানিক আমি নিশ্চিত নয় ডাক্তারি রিপোর্ট থেকেই সঠিক সময় জানা যাবে। আচ্ছা আপনি উপমা কে চিনেন তো? আপনার সাথে মনে হয় মেয়েটির জানাশোনা ছিলো! আমার ধারণা যদি ভুল না হয়।

মেয়েটি নতুন, সবে মাত্র মিডিয়া পাড়ায় এসেছিলো নিজের ভিত্তি মজবুত করতে। দু’একটা শর্ট ড্রামাতে কাজও করেছে, নাম ডাক হয়নি এখনও। সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াশোনা করছিল কোন এক বিশ্ববিদ্যালয়ে। আজ হঠাৎ করে খবর এলো থানায় যে মেয়েটি খুন হয়েছে, ফোন অবশ্য করেছিলো পাশের ফ্লাটের একজন বয়স্ক ভদ্রমহিলা। বুঝতেই পারছেন খুনের মামলা না গিয়ে উপায় নেই। ভদ্রমহিলাকে জিজ্ঞাসা করতেই তার নাম জানতে পারলাম উপমা। পুরো নাম জান্নাতুল ফেরদৌসি উপমা। সেখানে তার ডায়রিতে আপনার নাম এবং ঠিকানাটা পেয়ে গেলাম।

(ডেঞ্জারাস এবং এডভেঞ্চার গল্প ভয়ে শরীর হিম হয়ে যাওয়ার মতো কাহিনী নিয়ে লিখা আমার এই উপন্যাস টি। এটা মূলত একটা সিরিজ আকারে লিখা গল্প। ভালোবাসায় বিদ্বেষী অলিন কিভাবে তার ভালোবাসার মানুষগুলোকে খুন করে, তাই নিয়েই লিখা। অলিন অভিনব পদ্ধতিতে তার নায়িকাদের ভালবাসা দিয়ে খুন করে। আর দিনের আলোতে মুখোশ পড়ে থাকে ভালো মানুষের।)

লেখক: আমিনুল ইসলাম-

                                        তরুণ লেখক ও সাহিত্যিক, aminulislamsub@gmail.com

Share.

Leave A Reply

÷ nine = one