রাস্তার কুকুরদের সাথে জন্মদিন পালন ছোট্ট শিশুর

0

সুমাইয়া জামান-

রাস্তায় চলার সময় আমাদের চোখে যে জিনিসটি খুব স্বাভাবিক ভাবে ধরা পড়ে, তা হলো রাস্তার যেখানে সেখানে বিশৃঙ্খল ভাবে ঘুরে বেড়ানো কিছু কুকুর। তাদের দিকে আমরা কখনো ফিরেও তাকাই না, আবার অনেক সময় অনেক ভাবে বিরক্ত ও হই তাদের উপর। কিন্তু এই রাস্তার কুকুরদের সাথেই জন্মদিন পালন  নিজের প্রথম সন্তানের, ভাবতে একটু অবাক লাগে।

ভারতের বাগুইআটি অঞ্চলের ছোট্ট শিশু রানার জন্মদিন এভাবেই পালন করা হয় প্রতিবছর। তবে এভাবে জন্মদিন পালন করার পেছনে রয়েছে একটি কাহিনীও।

বাগুইআটি অঞ্চলের এক তরুনী রুমনা দাস। ভারতের এক বিখ্যাত চলচিত্র ‘রোটি’ থেকে অনুপ্রাণীত হয়ে নিজের বাড়িতে একটি কুকুর পোষা শুরু করেন তিনি । নাম দেন ‘ রুনা’। কুকুরটি রুমনার জীবনের সাথে খুব গভীর ভাবে জড়িয়ে যায়। রুনার পাশাপাশি রুমনা পাড়ার অন্য অভুক্ত কুকুরদেরও দুবেলা একটু খাওয়ার ব্যবস্থা করেন।

একসময় রুমনার বিয়ে হয়ে যায় বাগুইআটিরই এক তরুণ তামালকান্তি এর সাথে। তবে রুনাকে নিজের কাছ থেকে কখনোই ছাড়ে নি রুমনা। এমনকি সাতপাক ঘোরার সময়ও তাদের সাথেই ছিলো রুমনার এই পোষ্যটি।

বিয়ে হওয়ার প্রায় এক বছর পরেই সবাইকে কাঁদিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয় রুনা। রুমনা এবং তার স্বামী তামালকান্তি ভেঙ্গে পড়েন একেবারেই। তবে সেই বছরেই তাদের সংসার আলো করে জন্ম নেয় ছোট্ট শিশু। তার নাম রাখা হয় রানা। রুমনার ধারণা রুনাই তাদের কাছে আবার ফিরে এসেছে রানা হয়ে।

তাই তার পর থেকে প্রতিবছরই রানার জন্মদিন পালন করা হয় পাড়ার কিছু অভুক্ত কুকুরদের নিয়ে। জন্মদিনে কোনো কেক কাটা হয় না, জ্বলে না কোনো মোমবাতিও, থাকে না কোনো মেহমানের ভিড়। অনেক সুস্বাদু রান্না করা হয়, তবে তা শুধু এই অবহেলিত, অভুক্ত কুকুরদের জন্য।

আমাদের চার পাশে এমন অনেক কিছুই রয়েছে, যা আমাদের কাছে অতি সাধারণ ব্যপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু একটু অন্য দৃষ্টি দিয়ে তাকালেই আমরা তাদের কষ্ট, দুঃখ বুঝতে পারবো। আমরা মানুষ তো সবার সেরা জীব নিজেদের বিবেকের দ্বরাই। তাই যদি আমরা বিবেকহীনের মতো কাজ করি, তাহলে সেরা জীব হিসাবে আমরা হবো কলঙ্কিত।

অন্যের কষ্টকে সবাই মিলে বুঝতে শিখলে, অন্যের কষ্টকে সবাই মিলে লাঘবের চেষ্টা করলে এগিয়ে যাবে দেশ, এগিয়ে যাবে মানবতা।

সুত্রঃ kolkata24/7

Share.

Leave A Reply

+ two = nine