রঙের পাখি বাডজিরগার

0

পাখিটির নাম বাডজিরিগার। লোক মুখে লাভ বার্ড বলেও পরিচিত।যদি ও লাভ বার্ড আসলে আরেকটা জাত। তো ফিরে আসি বাডজিরিগারে। বড় নাম বলে অনেকে এক বাডজি বলেও ডাকে। এরা মূলত আমাদের দেশীয় পাখি না,তা সবাই জানি। এদের বংশীয় পরিচয় হল এরা অস্ট্রেলিয়ান। অস্ট্রেলিয়ার বনে এদের বাস হলেও সময়ের আবর্তে এখন সৌখিন মানুষদের বাসায় এদের বাস। ঘরে বাস করতে করতে এদের এমনই অবস্থা দাড়িয়েছে যে, এরা এখন প্রকৃতির কাছেই অপরিচিত। আমাদের দেশে এই পাখির জনপ্রিয়তা শুরু হয় বাবু নামের এক ব্যক্তির হাত ধরে।যাকে সুলতান বাবু বলেই চিনে এই পাখির সংশ্লিষ্ট সকলে। মীরপুরে যিনি খামার করেছেন পালন করছেন এগুলোকে।

এই পাখির জনপ্রিয়তা পাবার প্রধান কারণ আসলে এর রঙ। লাল এবং গোলাপি ব্যতিত সকল রঙ ই এই পাখি পেয়ে থাকে। তাই একেক খাচায় একেক রঙ দেখে অনেকেই ভাবে এগুলো অন্য কোন প্রজাতি। আর রঙ, প্রজাতিভেদে এদের অনেক শ্রেণীবিভাগ ও করা হয়েছে। লুটিনো, পাইড এগুলো রঙের ভিত্তিতে আর ক্রেস্টেড, ইয়োলো ফেস এগুলো জাতের ভিত্তিতে। তবে হ্যা, এই পাখি পালতে বন বিভাগের কোন আপত্তি নেই কারণ এগুলো একে তো আমাদের দেশীয় না আর তাছাড়া এগুলো এখন বনের পাখিও না।তবে অনেকেই অনেক পরিশ্রম করে এগুলোকে পোষ মানিয়েছে যার জন্য টানা ৬-৮ মাস সময় প্রয়োজন। আবার অনেকে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করে বছরে ২-৩ বার এদের দিয়ে ডিম ফুটিয়ে থাকে। স্বাস্থ্য, মেটিং এর কাল এবং খাবার তালিকার উপর ভিত্তি করে এরা ৪-১২ টি ডিম দিয়ে থাকে এক বার সময়কালে। যেগুলো ২০-২১ দিন ভিতর ফোটে। আর প্রতিটা ডিম ১-৩ দিন পর পর দিয়ে থাকে। চীনা,কাউন, গুজিতিল এদের পছন্দের খাবার। এছাড়াও পোলাওর ধান, তিশি ও নানা রকম সবজি এদের প্রিয় খাবারের তালিকায় রয়েছে। অনেকে আবার আপেল, ডিম, দই এগুলোতে অভ্যস্ত করে ফেলে এদের।

নিজের পালিত পাখি নিয়ে লিখেছেন আবু সালেহ মুসা।

Share.

Leave A Reply

fifty nine − 54 =