যে বাড়িতে স্বাধীনতার ইতিহাস

0

আহসান হাবীব-

ধানমণ্ডি ৩২ একটি রাস্তার নাম। যে নামটি উচ্চারিত হলে চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটি বাড়ির ছবি। এর বাহিরটা সাধারণ হলেও ভেতরটা ক্ষত-বিক্ষত রক্তে ভেজা। এখানে জমা আছে একজন মৃত্যুঞ্জয়ীর জীবনের গল্প ও একটি স্বাধীন দেশের ইতিহাস। প্রতিদিন হাজারও মানুষের বিবেককে জাগিয়ে চলেছে এই বাড়িটি। যার নাম এখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর।

১৯৬১সালের ১লা আক্টোবর থেকে বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে এই বাড়িতে বসবাস করতে শুরু করেছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় কাটিয়েছেন এই বাড়িতে।  স্বাধিকার সংগ্রামে জাতিকে দিক নির্দেশনা, দলের নেতা কর্মীদের সাথে মতবিনিময়, সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা শুনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলো এই বাড়িটি।

এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, ৭ই মার্চের বিখ্যাত সেই ভাষণের রূপরেখাটি বঙ্গবন্ধু তৈরি করেছিলেন ৩২ নম্বর বাড়িটির কণফারেন্স টেবিলে বসে। নির্মাতা আর নৃশংসতা সবকিছুকে হার মানিয়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট প্রাণ দিতে হয়েছিলো তাঁকে এবং পরিবারের সবাইকে।

গা শিউড়ে ওঠা সেই ঘটনাটির সাথে পরিচিত হতে এখানে প্রতিদিন আসেন নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। তাঁরা বলেন, আমাদের উচিৎ বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে স্মরণ করে বাংলাদেশকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আর তাঁর স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে তা বাস্তবায়িত করা।

১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার হাতে বাড়িটি হস্থান্তর করা হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৭ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে নামকরণ করা হয়। বর্তমানে প্রথম তলায় দুটি এবং দ্বিতীয় তলায় তিনটি কক্ষ জাদুঘর হিসেবে বরাদ্দ রয়েছে। জাদুঘরটিতে ঢুকলে প্রথমেই চোখে পড়বে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি। প্রথম তলায় জাদুঘরটির প্রথম কক্ষে ছবির মাধ্যমে ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠার সময় এখানেও চোখে পড়বে সেই রাতের তাণ্ডবলীলার নিদর্শন। দোতলায় গিয়ে যে কক্ষগুলো দেখা যায়, তাতে রয়েছে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের নানান স্মৃতি চিহ্ন। এগুলো কোন একটি পরিবারের স্মৃতি চিহ্ন নয়। এগুলো একটি জাতির ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

বুধবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি ৬দিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে। বর্তমানে জাদুঘরটি সরকারি নিয়ন্ত্রানাধীন। সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য পুলিশ এবং আধা-সামরিক বাহিনী নিয়োজিত আছেন। ভেতরে প্রবেশ করার সময় ব্যাগ, ক্যামেরা, খাবার নিয়ে ঢোকা নিষেধ রয়েছে। এগুলো কাউন্টারে জমা দিয়ে একটি টোকেন নিয়ে প্রবেশ করতে হয়।

লেখক: শিক্ষার্থী, জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।

Share.

Leave A Reply

seventy six − sixty seven =