মৌসুমি ফল তালের গুনাগুণ

0

অপ্রচলিত হলেও তাল ফলটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। তাল কচি ও পাকা দুটি অবস্থাতেই পাওয়া যায়। তাল যেমন নানা ভাবে খাওয়া যায় তেমনি রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ।

তালের জন্মস্থান মধ্য আফ্রিকাতে হলেও বাংলাদেশের খুলনা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, গাজীপুর প্রভৃতি এলাকায় উৎপাদন করা হয়। তবে অনেকের মতে তাল আমাদের উপমহাদেশীয় বৃক্ষ বা ফল।

তালের কোনো অনুমোদিত জাত না থাকায় এটির পার্থক্যকরনে সামান্য অসুবিধা হয়। তবে তালের আকার ও রং এর ভিন্নতার ওপর ভিত্তি করে এক জাতি থেকে অন্যকে আলাদা করা যায়। কোনো কোনো তাল গাছ বার মাসই ফল দেয়।

প্রচন্ড গরমে তৃষ্ণা মেটায় তালের কচি শাঁস ও এর ভেতরের সুমিষ্ট পানি। পাকা তালের রস দিয়ে নানা ধরনের পিঠা, গুড়, মিশ্রি, ইত্যাদি তৈরি করা যায়। কচি তালের শাঁস খেতে মিষ্টি ও সামান্য গন্ধ আছে। আজকাল তাল দিয়ে জিলাপি, রসমালাই, রোল, পুলি পিঠা, তালের বড়া ইত্যাদিও তৈরি করতে দেখা যায়। তাল-দুধ, তাল-মুড়ি, আঁটির ভেতরের সাদা শাঁস খুবই মুখরোচক খাবার।

আমসত্ত্বের মতো তৈরি করা যায় তালসত্ত্বও। আমসত্ত্বের প্রণালি অনুযায়ী তালের সাথে চিনি ও সামান্য পরিমানে লবন মিশিয়ে একই উপায়ে তৈরি করা যায় সুস্বাদু তালসত্ত্ব।

তালে রয়েছে বিভিন্ন পুষ্টিগুণ। পাকা ও কাঁচা তালের খাদ্যোপযোগী প্রতি ১০০ গ্রামে খনিজ ০.৮ গ্রাম, জলীয় অংশ ৭৭.৫ গ্রাম, আঁশ ০.৫ গ্রাম, চর্বি ০.৩ গ্রাম, আমিষ ০.৮ গ্রাম, শর্করা ২০.৭ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৮ মিলিগ্রাম ও খাদ্যশক্তি রয়েছে প্রায় ৮৭ কিলো ক্যালরি।

তালের রস শ্লেষ্মানাশক। এটা নিরারণ করে মূত্রকর, প্রদাহ ও কোষ্ঠকাঠিন্য। তালমিশ্রি সর্দি-কাশির মহৌষধ। যকৃতের দোষ নিবারক ও পিত্তনাশক। তালের তৈরি বিভিন্ন খাবার খেলে মুখের রুচি বাড়ে। হজমও হয় ভাল।

পাকা তালের মনমাতানো ঘ্রাণে মো মো করে অনেক স্থান। তবে নানা কারণে ক্রমেই কমে যাচ্ছে তাল গাছ। ফলে বাড়ছে এর দাম। তাল ফলও খাদ্য চাহিদা কমবেশি মেটায়। তাল গাছ রোপণ ও গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা আমাদের গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য।

Share.

Leave A Reply

− 1 = four