মীনার গল্প

0

নতুনকিছু ডেস্ক  // 

আমি বাবা-মায়ের শত আদরের মেয়ে

আমি বড় হই সকলের ভালোবাসা নিয়ে……

গানটি শুনলেই আর বলার অপেক্ষা রাখে না এটা জনপ্রিয় মীনা কার্টুনের গানের অংশ। কার্টুনের প্রধান চরিত্র মীনা, দক্ষিণ এশিয়ার মেয়েশিশুদের একান্ত পরিচিত প্রতীক। ১৯৯২ সালে মীনার জন্ম।

ডেনমার্কের আর্থিক সহায়তায় তৈরি করা হয় অ্যানিমেশন কার্টুন ছবি মীনা। নয় বছরের মীনা ভীষণ হাসিখুশি একটি মেয়ে। সবার জন্য ভালো কিছু করতে মীনা সবার আগে থাকে। সব সময়ই তার আগ্রহ, কিসে এলাকার মানুষের উপকার হয়। যখনই মা-বাবার দরকার পড়ে, তখনই মীনা তাঁদের সাহায্য করে। ঘরের কাজও যেমন করে, তেমনি পড়ালেখাও করে। মীনা কার্টুন তৈরির ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে ইউনিসেফ বাংলাদেশ।

ফিলিপাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের অ্যানিমেশন স্টুডিও হান্না বারবারায় ১৯৯২ সালে মীনা কার্টুনের প্রথম বেশ কয়েকটি পর্ব নির্মাণ করা হয়। এরপর ভারতের রামমোহন স্টুডিওতে নির্মাণ করা হয় মীনা কার্টুন। বাংলা ভাষার পাশাপাশি হিন্দি, উর্দুসহ ২৯টি ভাষায় মীনা তৈরি হয়েছে। মীনার কার্টুন ছবি নিয়ে ২৩টি কমিক বইও বের হয়েছে। ৬৮টি ভ্রাম্যমাণ ফিল্ম ইউনিটের মাধ্যমে মীনা পৌঁছে গেছে দেশের আনাচ-কানাচে। প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন এনজিওর আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রকল্পে মীনা কমিক বইগুলো সহায়ক পাঠ উপকরণ হিসেবে ব্যবহূত হয়। এর পর থেকে বাংলাদেশের প্রত্যেকের কাছেই মীনা দারুণ জনপ্রিয়।

মীনা শুধু ছেলেমেয়ের সমান অধিকারের ব্যাপারে সবাইকে সচেতন করেনি, সে সবার কাছে স্বাস্থ্য-সচেতনতা, পরিবেশ-সচেতনতা এবং শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। মীনার মাধ্যমে বলা হয়েছে, শিশুদের খেলাধুলা করার ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের অধিকার আছে, শিশুর বৃদ্ধি ও পরিচর্যার ক্ষেত্রে বাবা ও মা উভয়ের সমান দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে, সব শিশুর মতামত প্রদানের অধিকার রয়েছে, মেয়েদের বাল্যবিবাহ ভালো নয়, যৌতুক নেওয়া একটি মারাত্মক সামাজিক অপরাধ ইত্যাদি।

মীনার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা হিসাব করে ১৯৯৮ সালে সার্কের পক্ষ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বরকে মীনা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। মীনার উল্লেখযোগ্য কার্টুনগুলো হলো: ‘মুরগিগুলো গুণে রাখ’, ‘বুদ্ধিমতী মীনা’, ‘মীনা এল শহরে’, ‘মীনা কি স্কুল ছেড়ে দেবে’, ‘জীবন বাঁচানো’, ‘মীনার তিনটি ইচ্ছে’, ‘যৌতুক বন্ধ করো’, ‘বিয়ের বয়স হয়নি’, ‘মীনা ও দুষ্টু ছেলেরা’, ‘মেয়েদের যত্ন নাও’, ‘জাদুর পাথর’, ‘মীনার বন্ধু অনু’, ‘নতুন বন্ধু পিনুই’, ‘রূপকথার দেশে মীনা’, ‘পরীর গল্প’ ও ‘মীনার যুদ্ধ’।

ইউনিসেফ বাংলাদেশ ২০০৫ সাল থেকে শিশুদের নিয়ে বা শিশুদের জন্য নির্মিত বিনোদনমূলক, সংবাদভিত্তিক ও জীবনধর্মী প্রতিবেদন, প্রকাশনা ও অনুষ্ঠানের জন্য মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড দিয়ে আসছে।

 

Share.

Leave A Reply

fifty five − = 52