মিষ্টি যেভাবে কঙ্কালে পরিণত হয়

0

আহমেদ ফারুক-

যতদূর মনে পড়ে তখন আমি ক্লাস টু তে পড়তাম। সুমন তখনও স্কুলে যাওয়া শুরু করে নি। আমরা দু’ ভাই। ও যখন মা’র পেটে ছিল, সবাই ভেবেছিল মেয়ে হবে আর তার নাম রাখা হবে ‘মিলি’। মিলনের বোন মিলি। সে আশা আর পূরন হল না। যাই হোক, আজ আপনাদের একটা গল্প বলব। দুই মিষ্টি পাগলের গল্প।

আব্বা ঈদের আগের দিন এক কেজি মিষ্টি আর এক ভাড় দই আনিতেন। সে ঈদেও তার ব্যতিক্রম হইল না। রাতের খাবারের পর মা আমাদের দুই জনকে একটা করিয়া মিষ্টি খাইতে দিলেন কিন্তু আমাদের মন ভরিলো না। পরদিন ঈদ তাই সবাই তাড়াতাড়ি শুইয়া পড়িলেন। কিন্তু আমাদের দুই জনের ঘুম আসিল না। কারন আমাদের মন পড়িয়া ছিল মিষ্টির প্যাকেটের ভিতর। লোভ সামলাইতে না পারিয়া আমরা ফ্রিজ খুলিয়া মিষ্টির প্যাকেট টা বাহির করিলাম। ভাব দেখিয়া বুঝিলাম মা মিষ্টিগুলো গুনিয়া রাখিয়াছেন কারন তিনি জানিতেন আমাদের মিষ্টি চুরি করিবার অভ্যাস রহিয়াছে।

কোন উপায় না দেখিয়া আমরা একটা বুদ্ধি বাহির করিলাম। মিষ্টির গায়ে লাগিয়া থাকা ছানার গুড়ো গুলো আমরা চাটিয়া খাইতে পারি। শুরু করিলাম চাটা। একে একে সবগুলো মিষ্টি চাটিয়া চাটিয়া পরিষ্কার করিয়া ফেলিলাম। তাতেও আমাদের স্বাদ মিটিল না। এবার সুমন বুদ্ধি বাহির করিল যে আমরা কিন্তু মিষ্টিগুলোর রস চুষিয়া লইতে পারি। দেরি না করিয়া এইবার আমরা রস চুষিতে লাগিলাম। কিছুক্ষণ পর যেটা পড়িয়া রইল ওগুলোকে মিষ্টি বলিলে ভুল হইবে। মিষ্টিগুলো কংকালে পরিণত হইল। মিষ্টিগুলোর চেহারা দেখিয়া নিজেদেরই খারাপ লাগিতে লাগিল। সকালের কথা চিন্তা করিয়া বুকের ভেতর ধক করিয়া উঠিল। পরের দিন কি হইয়াছিল তা না হয় আর নাই বা শুনিলেন ।

Share.

Leave A Reply

+ eighty one = 85