মিট করুন মিটিং এর সঙ্গে

0

ফাহমিদ অন্তু,

প্রোফেসনাল লেভেলে মিটিং এ নিয়মিত অংশগ্রহণ করা যারা এখনো শুরু করেননি,তাদেরকে ধারণা দেয়ার জন্য এই লেখাটি। যদি আপনি মিটিং এর প্রতি আগ্রহী নাও হয়ে থাকেন,তাহলেও বিভিন্ন মিটিং এ অংশগ্রহণকারীরা কেমন হয়ে থাকে তার কিছু বিষয় সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন। বলা তো যায় না,হয়তো মিটিং এর বিচিত্র চরিত্রগুলো আপনাকে আগ্রহী করে তুলতে পারে।

সময়ের প্রতিদ্বন্দ্বীঃ কিছু ব্যক্তি এমন থাকেন যিনি মিটিং এর জন্য সময় যদি ৪ টায় নির্ধারিত হয়ে থাকে তাহলে উনি উপস্থিত হবেন কম করে হলেও ৩-৩০ মিনিটে।  উনারা ট্রাফিক জ্যাম,ওইয়েদার রিপোর্ট সবকিছু যাচাই বাছাই করে চলেন এবং সারাদিন কী কি করবেন তার একটি তালিকা আগের দিনই তৈরি করে রাখেন। উনারা যখন হাঁটেন তখন ঘড়ির কাঁটার সুযোগ হয় উনাদের হাতে হাত রেখে চলার আর যখন উনারা দৌড়ান তখন ঘড়ি কাঁটাও উনাদের পিছনে পড়ে যায়।অফিসের বসদের চোখে  উনারাই থাকেন সবসময় দৃষ্টান্ত হয়ে। প্রায়শই  বসকে বলতে শোনা যায়, অমুক সাহেবকে দেখে আপনার সময়জ্ঞান নেয়া উচিৎ। হিংসে হলেও উনিই কিন্তু মিস্টার পার্ফেক্ট এর প্রতিচ্ছবি।

লেট লতিফসঃ একজন অন্তত এমন থাকেন যিনি ট্রাফিক জ্যামে আটকে পড়েছিলেন,না হয় তার গাড়ির চাকা নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। এধরণের লেট লতিফ সর্বত্র বিরাজমান। শুধুমাত্র মিটিং বলে কথা না, প্রায় প্রতিমাসেই তাঁর বেতনের কিছু অংশ চলে যায় মালিকের উন্নয়ন তহবিলে। কেননা তিনদিন লেট হলেই একদিন যে নাই হয়ে যায়। তবে বসের কাছে দেনদরবার করে তা পু্নরায় পকেটস্থ করা যেতে পারে।

বিচ্ছিন্ন জনপদের বাসিন্দাঃ এমন একজন থাকবেন যিনি সুযোগ পেলেই চলে যাবেন মেন্টাল হলি’ডেতে। বসের বোরিং লেকচারকে উনি থোড়াই কেয়ার করেন। তাকে দেখা যাবে মোবাইল টিপতে। মিটিং এর মধ্যে হঠাৎ বেজে ওঠা ম্যাসেঞ্জারের নোটিফিকেশন টোনের উৎস উনার হাতের মোবাইলটিই। বস বিরক্ত হলে তাঁকে দেখতে কেমন লাগে তা উনার চাইতে ভালো আর কেউ জানেন না।

এ্যাটেনশন শিকারিঃ মিটিং এর আলোচনা যাই হোক না কেন,আলোচনা নিয়ন্ত্রণের ছড়ি যার হাতেই থাকুক না কেন উনাকে অন্তত একবার হলেও খেয়াল করতেই হবে। তেমন কিছু না পেলে উনি সামনে রাখা পানির গ্লাসটি ফেলে দিতেও কুণ্ঠাবোধ করবেন না। সুতরাং পানির গ্লাস বাঁচাতে চাইলে নিজ দায়িত্বে তার দিকে মনোযোগ প্রদান করুন,উনি কী বলতে চায় শুনুন।

 ক্লান্ত ব্যক্তিটিঃ কিছু ব্যক্তি এমন থাকবেন যিনি মিটিংটি সফল করার জন্য কাজ করেছেন নাকি বিশ্বযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তা আপনি তার চেহারা দেখে বুঝবেন না। হয়তো তিনি মিটিং এর আগের রাতে ঘুমাননি, সারারাত জেগে প্রেজেন্টেশন তৈরি করেছেন। আবার মিটিং করেও অনেকে ক্লান্ত হয়ে পড়েন, আলোচিত ভারী বিষয়ের বোঝা অনেকে না টানতে পেরে ক্লান্ত হয়ে যান অনেকে। তাদের চোখ হয়ে যায় রক্তবর্ণ। তাদেরকে দেখলে আপনার চরম মায়া হবে, আপনি হয়ে উঠবেন মানবতার মূর্ত প্রতীক।

Share.

Leave A Reply

three × = twenty seven