মায়ের কাছে তবলা বাজানো শেখা হাতেখড়ি

0

আমিনুল হক মুন্না- 

গীত, বাদ্য ও নৃত্য – এই তিনটিকে একত্রে সংগীত বলে। সংস্কৃত ভাষায় প্রণীত গ্রন্থাদি থেকে পাওয়া যে সংজ্ঞাটি অনুবাদ করে বাংলা দাঁড় করানো হয়েছে সেটি হলো ‘গীতং বাদ্যং তথা নৃত্যং ত্রয়ং সঙ্গীতমুচ্যতে। ছোট বেলা থেকে আমার এই তিনটি জিনিষের প্রতি আসক্তি ছিল, যা পরিবারের আদর্শের মাধ্যমে নিজের মধ্যে লালন করার সুযোগ পেয়েছি।

জন্ম নোয়াখালী জেলার মাইজদী শহরে। ১৯৯৩ সালের জুন মাসের ২৮ তারিখ।   ২০০৪ থেকে নোয়াখালী জেলা শিল্পকলা একডেমির নৃত্য প্রশিক্ষক ‘সজল মজুমদার’ এর হাতে গড়ে উঠেন দীপ। ২০০৫ বাংলাদেশ টেলিভিশন আয়োজিত জাতীয় প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুড়ি’ এর মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয়। সাথে সাথে বেলায়েত হোসেন, ফাল্গুনী মজুমদার ও ইভান শাহরিয়ার সোহাগ থেকে তালিম নেন। এরপর জাতীয় বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর প্রতিযোগিতা, বাংলাদেশ শিশু একডেমি আয়োজিত জাতীয় শিশু পুরুস্কার প্রতিযোগিতা, বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একডামির যৌথ আয়োজনে দেশব্যাপী বয়স ও বিষয়ভিত্তিক নৃত্য প্রতিযোগিতা প্রথম স্থান অধিকার করে। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ সরকারের আয়োজনে ২০ দিনের কালচারার সফর হয় কানাডা। ২০১০ সালে নোয়াখালী জেলার ‘হরিনারায়নপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়’ থেকে এস এস সি পাশ এবং নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে ২০১২ সালে এইচ এস সি পাশ করে বর্তমানে ‘স্টেট উনিভারসিটি অফ বাংলাদেশ’ আইন বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র। পাশাপাশি নিজের নৃত্যের অনুশীলন রাখার জন্য ধানমন্ডি অবস্থানরত ‘ছায়ানট সঙ্গীত বিদ্যায়তনে’ ভরতনাট্যম বিভাগে প্রশিক্ষণরত আছেন।

ছোটবেলায় মা এর হারমোনিয়াম এর সাথে তবলা বাজানোর নিয়ে এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের নামকরা হেভি মেটাল এবং পিউর রক ব্যান্ড গুলোর গান শুনেই ক্লাস সেভেন থেকেই ড্রামস বাজানোর ইচ্ছা শুরু হয়। ড্রামস এর অনুশীলন গুলো প্রথমে নোয়াখালী জেলায় ‘সুমন কর’ এর মাধ্যমে হাতে খড়ি হয় এবং পরবর্তীতে ২০১২ সালে ‘রাফ আল হাসান রাফা’ (এভোয়েড রাফা/সিভিয়ার ডেমেনসিয়া) এবং ‘আফিফ সরকার’ (মিরর ব্লেইজ/এক্সল্টার) থেকে বেশ কিছু অনুশীলন নেওয়া হয়েছে এবং এখনো অনুশীলন করে জাচ্ছি, কারণ জানার কোন শেষ নাই। বন্ধুরাসহ একটি ব্যান্ড করবো, সেটির সুযোগ হয়ে যায় ২০১০ সালের এস এস সি পরিক্ষার পরপরি। নোয়াখালী জেলার স্টেডিয়াম পাড়ার একটি ছোট্ট প্র্যাক্টিস প্যাড এ ৫ জন বন্ধু মিলে বাজানো এবং একসাথে আড্ডা দেওয়া শুরু হয় এবং ঢাকায় আসার পর আরেকটি ব্যান্ড এ জয়েন করি এবং শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ২ টি ব্যান্ডই বাজাচ্ছি, সেইগুলো হচ্ছে ‘টর্চার গোরগ্রাইন্ডার’ এবং ‘চক্রবুহ’।

পড়াশোনা এর পাশাপাশি মিউজিক (সঙ্গীত) আমার একটি অন্যতম সখ। এটি আমার রক্তের সাথে মিশে আছে। কোনভাবেই আমি এটিকে ছাড়তে পারবো না। তাছাড়া শুরু থেকে আমি আমার পরিবার এর দ্বারা পাহাড় সমান সুযোগ এবং স্বাধীনতা পেয়েছি। তো সেগুলোকে আমি কাজে লাগিয়েছি এবং ভবিষ্যতেও করব। এতকিছুর পিছনে উল্লেখযোগ্য মানুষ হচ্ছে আমার ‘বাবা’। এবং পরবর্তীতে শিক্ষাকেন্দ্রে শুরু থেকে আমার ডিপার্টমেন্টের  উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, বিভাগের প্রধান সহযোগি অধ্যাপক জিনাত আমিন অনেক সহায়তা করেছেন। পরিশেষে বলবো, পরাশোনা এবং নিজের সখ কে সামঞ্জস্য রেখে নিজের লক্ষে পৌছতে চাই।

সবচেয়ে বড় কথা ‘ভালো মানুষ হতে চাই’ অর্জন, জাতীয় শিশু পুরুস্কার প্রতিযোগিতা (২০০৬)- স্বর্ণপদক (সাধারন নৃত্য) জাতীয় শিশু পুরুস্কার প্রতিযোগিতা (২০০৭)- স্বর্ণপদক (লোকনৃত্য) জাতীয় শিশু পুরুস্কার প্রতিযোগিতা (২০০৮)- স্বর্ণপদক (ভরতনাট্যম) জাতীয় শিশু পুরুস্কার প্রতিযোগিতা (২০০৮)- রৌপ্যপদক (কত্থক) জাতীয় শিশু পুরুস্কার প্রতিযোগিতা (২০০৯) – স্বর্ণপদক (সাধারন নৃত্য) জাতীয় বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর প্রতিযোগিতা (২০১১) – প্রথম স্থান (সাধারন নৃত্য) জাতীয় বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর প্রতিযোগিতা (২০১১) – প্রথম স্থান (লোকনৃত্য) গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা আয়জনে জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্য প্রতীযোগিতা (২০১০-২০১১) – প্রথম স্থান (ভরতনাট্যম) গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা আয়জনে জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্য প্রতীযোগিতা (২০১০-২০১১) – প্রথম স্থান (যৌথ) (উচ্চাঙ্গ নৃত্য) সরকারি সফর ২০০৬ – কানাডা বেঙ্গল ক্লাসিক্যাল মিউজিক ফেস্টিব্যাল (অংশগ্রহণ এর সন্মাননা এ্যাওয়ার্ড) – ২০১৫

লেখক: দীপ নারায়ন রায়

১৫ তম ব্যাচ, শিক্ষার্থী স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। 

 

Share.

Leave A Reply

+ eighty = eighty six