মন্ত্রী যখন অভিনেতা

0

ফারুক আহমেদ-

পড়ন্ত বিকাল। অফিস শেষ করে দ্রুত বেরিয়ে পড়লাম। গন্তব্য শিল্পকলা একাডেমি। সঙ্গী হাকিম মাহি দা, নতুন কিছু ডট কম অন লাইন নিউজ পোর্টালের বার্তা সম্পাদক। উদ্দেশ্য নাগরিক নাট্যদলের সাড়া জাগানো নাটক গ্যালিলিও দেখবো। রাস্তায় দীর্ঘ গাড়ির সারি দেখে আর যানবাহনে উঠার সাহস পেলাম না। মাহি ভাইয়ের অনুপ্রেরণায় শুরু করলাম হাঁটা।

শো শুরু হওয়ার ত্রিশ মিনিট পূর্বেই একাডেমি প্রাঙ্গনে পৌঁছলাম। পুরো প্রাঙ্গনে গুনীজনদের ভিড়। আশির দশকের মঞ্চ কাঁপানো শিল্পীরা প্রায় ২০ বছর পর আবারও রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির থিয়েটার কক্ষে অভিনয় করছেন। এ এক বিরল অভিজ্ঞতা অর্জন করতে যাচ্ছি আমরা। একই মঞ্চে দুই কিংবদন্তী সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এবং শক্তিশালী অভিনেতা আলী জাকের এর অভিনয় দেখতে চলেছি। এর থেকে সুখকর আর কী-ই বা হতে পারে!

ভিড় ঠেলে আমরা আমাদের আসন গ্রহণ করলাম। আমাদের চারপাশে তারাদের মেলা। ছোটবেলায় যাদেরকে টিভিতে দেখে আসছি, তাদের অধিকাংশই আমাদের চারপাশে বসা। এ এক অন্য রকম অনুভূতি! মনে হচ্ছিলো কতগুলো আপনজনের মাঝে আমরা বসে আছি।

শুরু হলো নাটক। মঞ্চে আলো পড়তেই দেখা গেল গ্যালিলিও আর তাঁর প্রিয় ছাত্র আন্দ্রেকে। গ্যালিলিও চরিত্রে অভিনয় করছেন আলী জাকের আর আন্দ্রে চরিত্রে ছিলেন নির্দেশক পান্থ শাহরিয়ার। গ্যালিলিও সৌরজগতের গ্রহগুলির গতিবিধি অধ্যয়নরত অবস্থায় আবিষ্কার করেন, যে গ্রহগুলি সূর্যের চারদিকে ঘুরছে। এতে গ্যালিলিও মতবাদের সাথে রোমান ক্যাথলিক চার্চের মতবাদের দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রোমে ভ্যাটিকানে আনা হয়।

অত্যাচারের হুমকির মুখে গ্যালিলিও তাঁর তত্ত্বটি পুনর্বিবেচনা করেন। প্রাচীন বিজ্ঞানী গৃহবন্দী হন এবং গির্জা তাকে পর্যবেক্ষণ করার জন্যে একজন যাজক নিয়োগ করেন। মৃত্যুর পর তিনি তার সমস্ত লেখা প্রকাশ করার জন্য তার এক অনুগত ছাত্রকে প্রদান করেন। যাজকের চরিত্রে আসাদুজ্জামান নূর অসাধারণ অভিনয় করেন, যা দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে। গ্যালিলিও সত্যের জন্য যুদ্ধ করেছেন এবং ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন।

দর্শকরা ধন্যবাদ জানিয়েছেন নাটকটির নির্দেশক পান্থ শাহরিয়ারকে। প্রায় দুই দশক পর জার্মান লেখক বার্লট ব্রেশটের গ্যালিলিওকে মঞ্চে আনার জন্য। নাটকটি অনুবাদ করেছেন অধ্যাপক আব্দুস সেলিম এবং প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন আলী জাকের, আসাদুজ্জামান নূর, কাওসার চৌধুরী, রুহী তামান্না লাবন্য প্রমুখ।

শেষ হলো নাটক। দেড় ঘণ্টার জন্য আমরা চলে গিয়েছিলাম সেই সতের শতকে। ধন্যবাদ অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস স্যারকে ও মাহি দা’কে এতো সুন্দর একটা নাটক দেখার সু্যোগ করে দেয়ার জন্য। জয় হোক বিজ্ঞানের, জয় হোক সত্যের।

লেখক: এক্সিকিউটিভ, জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।

Share.

Leave A Reply

fifty four − = forty four