ভালোবেসেছি একটি মুক্ত আকাশ তোমায় দিবো বলে

0

পর্ব-০২

মেয়ে শব্দের অর্থ আমার কাছে বহুমাত্রিক মনে হয়। যেমন মেয়ে হয়ে জন্মানোর জন্য বাবা মা ভাই বোনদের কথা মেনে নিতে হয়, বিয়ে করতে হয়, একজন অপরিচিত মানুষকে যার সাথে আগে কখনো আলাপ হয়নি এমন মানুষের জন্য কোরবানি করে দিতে হয় নিজের চাওয়া পাওয়া আকাঙ্ক্ষাকে। একজনের সাথে দীর্ঘদিনের পরিচিত সম্পর্কটা ভেঙে দিতে হয়, দুটি চোখের পলক ফেলার সময়টুকুতে আপন করে নিতে হয় অল্প চেনা মানুষকে।

নাবিল নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আছে নীল আকাশের নিচে। আজ তার প্রিয় মানুষটি আসবে নাম রাত্রি। রাত্রি কথা দিয়েছিল আজ নাবিলের সাথে দেখা করবে। পুরো দু’মাস পর তাদের দেখা হতে যাচ্ছে। নাবিলের মনে আর এখন আগের মতো রঙ নেই, সেজন্য আর নিজেকে বদলানোর প্রয়োজন মনে করলো না। মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি হয়েছে চুলগুলো উষ্কখুষ্ক হয়ে আছে, ঝিরি ঝিরি বাতাসে এখন আর দোল খায়না। নদীর জলে ঢিল ছুড়ে ছুড়ে অপেক্ষা করতে লাগলো, এক সময় অপেক্ষার অবসান হলো। রাত্রি এসেছে তার কাছে পড়নে নীল রঙের শাড়ী নাবিলের খুব পছন্দের। তবে, আজ কেন জানি রাত্রিকে শাড়ীতে আগের মত অপরূপ রাজকন্যার মত মনে হচ্ছে না। দেখে মনে হচ্ছে কোন আধার রাতের যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে সবে ছাড়া পেয়ে এসেছে, চোখের নিচে কালি জমেছে বেশ। নাবিল তাকাতে পারছে না, সে কি ভুল দেখছে, না তার এটা কোন অক্ষমতা, যে সে আসল রূপ চিনতে ভুলে গেছে!

রাত্রি বললো তুমি কি এখনও আমার জন্য অপেক্ষা করো? নাহ, সরল উত্তর নাবিলের। তবে পথ চেয়ে বসে থাকি হয়তো তুমি আসবে, আমার সাথে একটু সময় কাটাতে কোন বিনিদ্রক্ষণে। আমি নদির জলে তোমার ছবি এঁকেছি তুমি জান না। যখন তুমি আড়ালে থাকো, দূরে কোথাও হারিয়ে যাও, তখন জলের ছায়ায় তোমার রূপ দেখি, আর নিজেকে শান্তনা দেই এই বলে যে তুমি কখনোই আমার ছিলে না, আর কখনোই আমার হবে না। আমি ভুল সময়ে তোমার জীবনে এসেছিলাম।

তুমি জানো নাবিল! আমার বিয়েটা করা ছাড়া উপায় নেই। আমি মেয়ে আমার সাহস নেই মা বাবার কথার অবাধ্য হওয়া। মেয়েদের অনেক কিছু ত্যগ করতে হয়, ভুলে যেতে হয় অতীতকে, ভবিষ্যতকে ভেবে এগিয়ে যেতে হয়। আমি তোমাকেও খুব ভালোবাসি, ঘর বাধার সপ্ন দেখি, কিন্তু পূরণ করার সামর্থ্য আমার নেই। তাইতো দীর্ঘ দিনের পরিচয়টা ভেঙে দিচ্ছি চোখের পলকে, জানি তুমি কষ্ট পাবে। পাবো আমিও হয়তো অনেক কাঁদবে আমার জন্য কাঁদবো আমিও। এই ক’দিন আমি তোমাকে নিয়েই ভেবেছি, নাবিল আসলে আমি কি চাই তোমাকে, না নতুন পরিচিত মানুষটাকে! যেই মানুষটাকে পরিবার আমার জন্য নির্ধারণ করেছে। কি ভেবে পেলে তুমি জানতে চাইলো নাবিল।

পেয়েছি অনেক কিছু তবুও ছাটাই করেছি নিজের ভালোলাগাকে। আচ্ছা নাবিল আমি যদি তোমার জীবন থেকে হারিয়ে যাই, তোমার কি খুব কষ্ট হবে আমার মত?
নাহ! তবে আমি বোবা হয়ে যাব, তোমাকে বিদায় বাণী শুনাতে পারবো না। আমি হতাশায় কাঁদবো না, আবার দেবদাস হয়ে মদও ধরব না। আমি তখন নিজের চোখের মাঝে জলছবি আকবো তোমাকে দেখার ইচ্ছে হলেই যেন দেখতে পাই। যাকে ইচ্ছে হলেই দেখতে পাবো, তার জন্য আবার কষ্ট কিসের? আমি তো কষ্ট পেতে ভালোবাসি রাত্রি! আমি তোমাকে বন্দি খাঁচায় বন্দি করে রেখে দিবো বলে ভালবাসিনি। ভালবেসেছি একটি মুক্ত আকাশ তোমাকে দিবো বলে, যে আকাশে ভেসে বেড়াবে তুমি নিজের স্বাধীনতা নিয়ে।

(বি:দ্র: একটি মেয়ের কথা শুনে আজ আমার একটু খারাপ লেগেছে। ভেবেছিলাম কথাটার গুরত্ব নেই, কিন্তু অল্পক্ষণ পরেই বুঝতে পারলাম একটি শব্দের নানাবিধ অর্থ থাকে। শুনে মনে দাগ কেটে গেলো আমার সেজন্যই লেখা।)

 লেখক: আমিনুল ইসলাম-

                                         তরুণ লেখক ও সাহিত্যিক, aminulislamsub@gmail.com

Share.

Leave A Reply

seventy four − = seventy one