বয়সের ছাপ কি কমানো যায়

0
এন্টি এজিং ইন্ডাস্ট্রিসহ যারা বয়স কমিয়ে দেয়া বা বয়স ধরে রাখার চমকপ্রদ প্রচারণার মাধ্যমে মানুষকে ঠকাচ্ছে তাদের সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের জেরিয়েট্রিক বিভাগের অধ্যাপক ড. থমাস পার্লস। তিনি গবেষণালব্ধ তথ্য উপস্থাপন করে উল্লেখ করেছেন বয়স বাড়ার প্রক্রিয়া থামিয়ে দেয়া বা বিলম্বিত করার দাবির কোনো যৌক্তিকতা নেই এবং এটা স্রেফ হাতুড়ে চিকিত্সা ছাড়া আর কিছুই নয়।
anti-agingতিনি বয়স ধরে রাখা বা মানুষকে তারুণ্যদীপ্ত রাখার প্রচারণা সম্পর্কে বলেন, এটা এমন একটা দাবি যা কেবল একটি রকেটশিপ তৈরি করে তাতে মানুষকে প্লুটো গ্রহে ভ্রমণ করানোর প্রতিশ্রুতির মতো হাস্যকর।
সম্প্রতি আমেরিকান সোসাইটি অব এজিং আয়োজিত ‘ব্রেইন হেলথ’ শীর্ষক এক সেমিনারে ড. পার্লস এ কথা বলেন। তিনি যাদের বয়স শতবর্ষ অতিক্রান্ত হয়েছে এবং তারা কীভাবে অপেক্ষাকৃত কম স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে এতটা বছর পার করলেন অথবা স্বাস্থ্য সমস্যা কীভাবে মোকাবেলা করেছেন তার ওপর গবেষণা করেন।
ড. পার্লস মনে করেন অনেক আমেরিকান নাগরিক তাদের বয়স ধরে রাখার জন্য অলৌকিক কিছু আশা করে যা তাদের জীবন-যাত্রার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং এসব ওষুধ বা সাপ্লিমেন্টের আদৌ কোনো কার্যকারিতা ও প্রয়োজনীয়তা নেই। তিনি অবশ্য এজন্য শুধু ভোক্তাদের দায়ী করেছেন তাই নয়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ডায়েটরি সাপ্লিমেন্ট হেলথ এন্ড এডুকেশন অ্যাক্ট ১৯৯৪-কেও দায়ী করছেন। এই অ্যাক্টের ফলে এন্টি এজিং ব্যবসায়ীদের ব্যবসার দরজা উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে।
তিন আরও মনে করেন টেসটেস্টেরন ও গ্রোথ হরমোনসহ অনিয়ন্ত্রিত এন্টি এজিং সাপ্লিমেন্ট ও ওষুধ ব্যবহার অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং গবেষণায় প্রতীয়মান হয়েছে এ ধরনের ব্যয়বহুল হরমোন, ডায়েটরি সাপ্লিমেন্ট ও ওষুধের বাস্তবে বয়স ধরে রাখে বা বুড়িয়ে যাবার গতি নামিয়ে দেয়ার কোনো শক্তি নেই। ড. পার্লস এসব ওষুধ ও সাপ্লিমেন্ট থেকে অনেক অনেক দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ভোক্তাদের।
Share.

Leave A Reply

three + 4 =