বয়সকে হার মানিয়ে সফল জাহাঙ্গীর আলম

0

বয়সকে হার মানানো ৭৩ বছর বয়সী জাহাঙ্গীর আলম ১৯৪৬ সালে তেওতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পরিবারের ৪ ভাইয়ের মাঝে তিনি ছিলেন সবার বড়। তেওতা গ্রামে তার একটি সুন্দর বাড়ি আছে। সেখানে তিনি তার ছেলে মেয়ে নিয়ে থাকেন। পরিবারে তাঁর ৫ মেয়ে এবং ৩ ছেলে রয়েছে।

জাহাঙ্গীর আলম তার ছেলে মেয়ে নিয়ে খুব সুখেই বসবাস করছেন। তার পিতার নাম রইছ উদ্দিন আহম্মেদ। পেশায় তিনি ছিলেন মোহরি। জাহাঙ্গীর আলমের মায়ের নাম ছিল মাজেদা খানম। তিনি পেশায় ছিলেন গৃহিনী। পিতা-মাতার খুব আদরের সন্তান তিনি।

স্কুল জীবন শুরু করেন তেওতা একাডেমী থেকে। তিনি ১ম থেকে ৩য় কোন শ্রেণীতে না পড়েই সরাসরি ৪র্থ শ্রেণীতে ভর্তি হন। তখন তেওতা একাডেমীর প্রধান শিক্ষক ছিলেন জগেস দত্ত। জগেস দত্ত জাহাঙ্গীর আলমকে ইংরেজী, বাংলা এবং গণিতসহ সকল বিষয়ে যেকোন ধরনের প্রশ্ন করলেই জাহাঙ্গীর আলম সকল প্রশ্নের উত্তর সঠিকভাবেই দিয়ে দিতেন। ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত তেওতা একাডেমীতে পড়াশোনা করেন এবং পরবর্তীতে তিনি পাবনা জেলার ভারাঙ্গা একাডেমীতে ৯ম শ্রেণীতে ভর্তি হন।

সেখানে তিন মাস লেখাপড়া করলেন। সেখানে তার আর ভালো লাগলো না। সে চলে আসেন মানিকগঞ্জ জেলায়। আবার ভর্তি হন মানিকগঞ্জের গড়পাড়ার একটি বিদ্যালয়ে। এখানে তিন মাস লেখাপড়া করেন। এরপর তিনি চলে আসেন শিবালয়ে। শিবালয় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তখন এই বিদ্যালয়ের নাম ছিল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। ৯ম শ্রেণীতে তিনি এই স্কুলে পড়াশুনা করেন।

তেওতা একাডেমীতে ১০ম শ্রেণীতে এসে ভর্তি হয়। ১৯৬৪ সালে তিনি ১০ম শ্রেণীতে ছিলেন। তিন বারের প্রচেষ্টায় তিনি ১৯৬৭ সালে এস,এস,সি পাশ করেন। ১৯৯৭ সালে তিনি ঘিওর কলেজে ভর্তি হন। ১৯৬৮ সালে তার চাকরি হয় রেলওয়ে মেইল অপারেটরে। চাকরির পোষ্ট পরে কুষ্টিয়া জেলার পোড়াদাহ গ্রামে, তখন তিনি ১ম বর্ষ থেকে ২য় বর্ষে উঠে। ১৯৬৮ সালে তিনি এইচ,এস,সি পরীক্ষা দেন কিন্তু পাশ করতে পারেন না।

১৯৭৩ সালে তিনি রাজবাড়ি আদর্শ কলেজ থেকে এইচ,এস,সি পরীক্ষা দেন কিন্ত বাংলায় ফেল করেন। বর্তমানে কলেজটির নাম মহিলা আদর্শ কলেজ। ১৯৭২ সালে রাজবাড়ি থেকে বদলি হয়ে আসেন। তার পর তাকে বদলি করা হয় দিনাজপুরের পার্বতীপুর , রাজশাহী, রাজবাড়ী, যশোর এই সব স্থানে তিনি ৩ মাস ছয় বছর ৬ মাস চাকড়ি করেছেন। পরে তিনি আবার রাজবাড়ি চলে আসেন। সাধারণ একটি ব্রাঞ্চ দিয়ে চাকুরি শুরু করেন। এটি হচ্ছে চিঠি সর্ট ২ বছর পরে প্রমশন পেয়ে সেল ব্রাঞ্চে যান, তিন বছর প্রমশন পেয়ে রেজিষ্ট্রেশন ব্রাঞ্চে যায়।

৫ বছর পরে তিনি হেড মেইল অপারেটর হয়। তার আন্ডারে মোট ২৫ জন লোক কাজ করতেন। এদের মধ্যে ৯ জন ছিলেন মেইল অপারেটর, আর ১৬ জন ছিলো ৪র্থ শ্রেণীর কর্মকর্তা চাকুরির মেয়াদ ৫ বছর থাকা অবস্থায় পরে ১৯৯৮ সালে রিট্রার্ন দেন। তার জীবনে এত কিছু হয়ে গেল। তিনি কিন্ত হাল ছারেন নাই । তার পড়ালেখার প্রতি ছিল আনেক শোক। ২০১৪ সালে তিনি মানিকগঞ্জ উনমুক্ত কলেজে ভর্তি হন।

২০১৬ সালে তাঁর এইচ,এস,সি পাশ করেতে সময় লাগে ৪৯ বছর ৬ মাস। তার পরে এইচ,এস,সি পরীক্ষা পাশ করে তিনি মানিকগঞ্জ উনমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানে তিনি এক বছর পড়ালেখা করেন। শারীরিক অসুস্থাতার কারণে তার বর্তমান পড়ালেখা বন্ধ। সুস্থ হলে আবার পড়ালেখা চালাবেন।

Share.

Leave A Reply

− 6 = four