বৃষ্টির দিনে গল্প বেশ জমে ওঠে

0

প্রথম পর্ব- 

লেখক আমিনুল ইসলামের জীবনে ঘটে যাওয়া বাস্তব গল্প ‘চোখ’ অবলম্বনে… 

জীবনে এই প্রথমবার আমি কারো চোখ দেখে থমকে গেছি। অনেক কল্পনা করেছি কিন্তু কখনো ভাবিনি এতোটা গভীরভাবে। কী তার চোখের ভাষা! চোখের আকার যেন বাঁকা ল্যান্সের মতো। চাহনি ভয়ার্ত হরিণীর পলকের মতো চোখের পাপড়িগুলো পরম যত্নে গড়া কী রূপ বিধাতার সৃষ্টি সে। এচোখের ভাষা বর্ণনা করা অর্থহীন, সম্পূর্ণ ফুটিয়ে তোলা সম্ভব নয়। সেজন্য আমিও আর বেশি কিছু বাহ্যিক বাড়াতে চাই না।

অনেকদিন হলো এই শহরে আছি। না, বিনা কারণে বা কর্মক্ষেত্রে চাকরিজীবী কোনটাই আমি নই। আমি সামান্য নরাধম বকে যাওয়া কোন স্টুডেন্ট। লেখাপড়ায় তেমন ভালো নই। আমি বলতে কোন প্রকার সংকোচ নেই আমার। পড়াশোনাতে কখনই  মন বসাতে পারিনি। এ জন্য লোকের মুখে অনেক সময় কটু কথা শুনতে হয়। আমারও সয়ে গেছে, এ আর নতুন কী প্রতিনিয়তই হয়ে যাচ্ছে। গা ঢাকা দিয়ে থাকার ছেলে আমি নই। গায়ে প্রচুর শক্তি মজুদ না থাকলেও বরাবরের মতো সাহসে আমি অটুট। বহুকাল এই জীর্ণ শীর্ণ শহর কূলে থাকার কোন ইচ্ছা আমার নেই।

আমি মফস্বলের মানুষ, শহরের রীতিনীতি কিইবা বুঝি আমি। কেবল অবোধের মতো তাকিয়ে থাকি আমি ইট পাথরের তৈরি দালান কোঠার দিকে। যেন মাথা তুলে আকাশের বুকে ঠাই দাঁড়িয়ে আছে খোলা আকাশের নিচে। এভাবেই শহরের এ গলি থেকে ও গলি ঘুরে ঘুরে দিব্যি আমার সময় কেটে যাচ্ছিলো। পাশাপাশি আমি লেখালেখি করি, যেমন গল্প, প্রবন্ধ, কবিতা, উপন্যাস, সাহিত্য সবই। নানা নামে আমি এখনও কারো কাছে পরিচিত নই। আমার পাঠক সংখ্যাও তেমন নেই। সেটা অবশ্য নিজের একান্তই দোষ। ইচ্ছে করে পাঠক সংখ্যা বাড়ানোর কোন ইচ্ছা আমার নেই। আমার কেবল হাতে ঘড়ি যুদ্ধক্ষেত্রের প্রস্তুতি সমন্ধে কোন ধারণা নেই। অনেকক্ষণ হলো এসব কথাই বলে চলেছে অলিক।

ক্যান্টিন পুরো ফাঁকা, কেউ নেই আশেপাশে। ছোট্ট একটি মেয়ে একটু দূরে ঠুমরী মেরে বসে আছে। মুখটা ভয়ে একেবারে কাচুমাচু। শীতকালের প্রভাব তখনও পড়েনি। তাই বোধ করি কাঁপা কাঁপির কোন প্রশ্নই আসে না। আমি কিছুক্ষণ তাক লেগে দেখলুম। অবশেষে ভেবেছিলুম সে আমার মতোই একাকীত্ব আনাড়ি। কথা বলার ইচ্ছে হলেও কথা বলার সাহস হলো না। কেননা আমি এই শহরে নতুন পরিবেশ পরিস্থিতি কাহাকে বলে আমি জানি না।

হঠাৎ মাঝখানে কথা বলে তালগোল পাকিয়ে দিলো রনি। ছেলেটা বড্ড কথা বলে কিছুতেই মুখ বন্ধ রাখতে পারে না। বাইরে প্রচণ্ড জোরেশোরে বৃষ্টি হচ্ছে আন্দাজ করা গেলো গা ঝিম ঝিম করা শব্দে। এমন বাদলা দিনে আমি মোটেই বাইরে বের হইনা। আমি ছাদের ঘরে থাকি একা ছ’তলা বাড়ীর। জানালাটা খোলাই ছিলো, তাই পরিষ্কার বৃষ্টি দেখতে পাচ্ছিলুম। রনি ও মবিন তারা দু’জন নিচতলার দ্বিতীয় ফ্লোরের ভাড়াটিয়া। ইতোমধ্যে তারা যে কোন প্রকারেই হোক যেনে গিয়েছিলো যে আমি একজন লেখক। তাই তাদের সঙ্গে পরিচিতিটাও হয়ে গেলো খুব জাঁকজমক ভাবেই। লোকে এখনও বিশ্বাস করে, যে যারা কবি সাহিত্যিক তারা নাকি অনেক রসালো গল্প করতে জানে।

সত্যি কিনা জানিনা কথাটা তবে আমি বেশ গল্প প্রেমিক লোক। পাকড়াও করে ফেললো তারা দুজন আমাকে গল্প না শোনালে কোন ছাড়াছাড়ি নেই। আমি তাদের বলেছিলুম যে বিকেলে আমি একা থাকি কোন কাজ কাম নেই আমার, এই সময়ে তোমরা দুজন আসতে পারো। আজ বৃষ্টি হচ্ছে সেজন্যই ভেবেছিলুম তারা কেউ আজ আর গল্প শুনতে আসবেনা। কিন্তু নেশা তাদের পিছনে তাড়া করে সর্বক্ষণ। সুযোগ কিছুতেই হাতছাড়া করতে চায় না। বৃষ্টির রিমঝিম, ঝমঝম শব্দে আমার চোখ টলতে লাগলো। ভাবলুম একটু ঘুমিয়ে নিলে মন্দ হয় না।

কিন্তু দরজায় কড়াঘাত শুনেই দরজা খুলে দিলাম। রনি ও মবিন এসেছে এই বৃষ্টিতে ভিজে গল্প শোনার জন্য। বৃষ্টির দিনে গল্প বেশ জমে ওঠে। আমি নেশা করি না, কখনো নেশার আশেপাশেও যাই না। রনি মবিন টুকটাক সিগারেট খায়, বৃষ্টিতে হাত জমে যাচ্ছে বলে একটু পর পর সিগারেট ধরাচ্ছে। আমি রাত জেগে লেখালেখি করি, তাই ব্ল্যাক কফি খাওয়ার অভ্যাসটা আমার ছিলো। আমি তাদের দেখেই বললুম আরে তোমরা এসে গেছো, ভেবেছিলুম তোমরা আজ আর আসবেই না। এসেছো ভালো করেছো। মবিন বললো, কি যে বলো অলিক তোমার গল্প না শোনে কী আমরা শান্তিতে দু’দন্ড বসতে পারি! কথার পিঠে কথা বলে উঠলো রনি, কোন কথা বলার সুযোগই সে হাতছাড়া করতে চায় না।

মিহি গলা তার তবে বেশ সাটালো। রনি বললো, ভাই অলিক কি যে বলো এই গল্প শুনবো বলেই তো বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে চলে এলাম। চেয়ার দু’টো টেনে তাদের বসতে দিলাম, আমি খাটের উপর পা ঝুলিয়ে বসে পড়লাম। গল্প বলা শুরু হলো। রনি বললো ভাই অলিক তোমার লেখা গল্প আমরা অনেক পড়েছি, অনেক শুনেছি সব কেবল সুন্দরী মেয়েদের রূপের প্রশংসা হাসির প্রশংসা ইত্যাদি ইত্যাদি।

(এটি একটি বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে লেখা গল্প। একটি মেয়ে, যার সৌন্দর্য আর চোখ আমাকে গভীরভাবে আকৃষ্ট করেছিলো। এই চোখ নিয়ে আমার ছিলো নানা জল্পনা কল্পনা। অবশেষে চোখ নামের একটি ছোট গল্প লিখে ফেললাম। হয়তো আমি মেয়েটির চোখের প্রেমে পড়ে গেছি।) বাকি অংশ আগামী পর্বে……… 

Share.

Leave A Reply

15 − 14 =