বিদায়ী সুরে শেষ বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসব ২০১৭

0

বছরের শেষ দিনের সকালে সঙ্গীতপ্রেমীদের মনে উপমহাদেশের অন্যতম সেরা বংশীবাদক পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার বাঁশির সুরের মধ্যদিয়ে শেষ হল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্লাসিক্যাল মিউজিক ফেস্টিভাল ‘বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসব ২০১৭’।

রাজধানীর ধানমন্ডির আবাহনী মাঠে ৫ দিনব্যাপী সঙ্গীতানুষ্ঠানের শেষ দিন ছিল আজ। সন্ধ্যা ৭ টায় অনুষ্ঠান শুরু হলেও রাত ১২ টার পরেও উৎসবে সঙ্গীতপ্রেমীদের ভিতরে প্রবেশ ছিল চোখে পড়ার মতো।

কয়েক হাজার দর্শকের ঘুম আড়াল করে মনকে আরেক জগতে নিয়ে যায় উৎসব। সমাপনী বক্তব্যে মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, অবসান হয়েও হলোনা শেষ। শেষ মানেই পরবর্তী আসরের জন্য অপেক্ষায় থাকা। বংশীবাদক পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাঙ্গালীরা রুচিশীল, সমৃদ্ধ ও সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী। এটা আমাদের চরিত্র।

বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জনাব আবুল খায়ের উপস্থিত সবাইকে নববর্ষের আগাম শুভেচ্ছা জানান। তিনি স্কয়ার, ব্র্যাক ব্যাংকসহ সকল স্পন্সরদের ধন্যবাদ জানান।

৫ম দিনের শুরুটা হয় বিদুষী সুজাতা মহাপাত্রের নৃত্য দিয়ে। ওড়িশি নৃত্য দিয়ে মঞ্চ আলোকিত করেন তিনি। পরিবেশনাটি ছিল অর্ধনারীশ্বর ও রামায়ণ-লঙ- এ দুই পর্বে বিভক্ত। রাগ মল্লিকা ও তাল মল্লিকা ভিত্তিক প্রথম পর্ব অর্ধনারীশ্বরের কোরিওগ্রাফি ও নৃত্য রচনা করেছিলেন প্রয়াত পদ্মবিভূষণ গুরু কেলুচরণ মহাপাত্র; সংগীত পদ্মশ্রী রঘুনাথ পানিগ্রাহী ও পণ্ডিত ভুবনেশ্বর মিশ্রের।

এরপর শুরু হয় বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসবের সমাপনী অধিবেশন। এমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ফজলে হাসান আবেদ,  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও ছায়ানটের সভাপতি ড. সনজীদা খাতুন, ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও চ্যানেল আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর ও আবাহনী লিমিটেডের ডিরেক্টর ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) কাজী নাবিল আহমেদের পক্ষে তার মা জেমকন গ্রুপের পরিচালক আমিনা আহমেদ।

অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, হারিয়ে যাওয়া উচ্চাঙ্গসঙ্গীতের ঐতিহ্য ফিরিয়ে নিতে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ আমাকে অনুপ্রানিত করেছে। তাঁদের প্রতিবছরের এই উৎসব আমাদের জন্য গর্বের।

জনাব ফজলে হাসান আবেদ বলেন, শিল্প-সাহিত্যে বিনিয়োগ সবচেয়ে লাভজনক বিনিয়োগ। তাই অনেক আশংকা কাটিয়ে এই উৎসব আয়োজন করতে পারা অনেক ইতিবাচক ব্যাপার।

অধিবেশনের পরে আবারও শুরু হয় বাদন পরিবেশনা। মোহন বীনা পরিবেশন করেন পন্ডিত বিশ্ব মোহন ভট্ট। তাকে তবলায় সঙ্গত করেন সুভেন চ্যাটার্জি। এরপরে খেয়াল পরিবেশন করেন ব্রজেশ্বর মুখার্জি। এরপর সেতারের যুগলবন্দি পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে আসেন পিতা-পুত্র পণ্ডিত কুশল দাস ও কল্যাণজিত দাস। তারা সেতারে যোগ কোষ পরিবেশন করেন। তাদেরকে তবলায় সঙ্গত করেন পণ্ডিত শুভঙ্কর ব্যানার্জি।

উল্লেখ্য, ২০১২ সাল থেকে প্রতিবছর এই উচ্চাঙ্গসঙ্গীত আয়োজন করছে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন। গত পাঁচবার আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হলেও প্রথমবারের মতো আবাহনী মাঠে অনুষ্ঠিত হল এই অনুষ্ঠান।

 

Share.

Leave A Reply

− 3 = 6