বিজ্ঞানের বিস্ময় ‘কোয়ান্টাম কম্পিউটার’

0

পৃথিবীর মানুষ এখন প্রযুক্তি নির্ভর। এই গ্রহে বসবাস করা মানুষজন এই শতাব্দীর আগে থেকেই কম্পিউটার ব্যবহার করা শিখছে। কি এক অবিশ্বাস্য ক্ষমতা এই কম্পিউটারের। তবে বর্তমানে এই যন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীগণ।

বিগত পঞ্চাশ বছরে গণিত, পদার্থ এবং কম্পিউটার গবেষণার ব্যাপক উন্নয়নে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং তত্ত্ব থেকে মানুষের জীবনে ব্যবহারযোগ্য হয়েছে। বর্তমানে কোয়ান্টাম কম্পিউটারে প্রবেশ করা যায় ক্লাউডের মাধ্যমে। নতুন কিছু শেখা, গবেষণা পরিচালনা এবং নতুন সমস্যার সমাধান খুঁজতে কোয়ান্টাম কম্পিউটার ব্যবহার করছেন অনেকে।

মূলত কোয়ান্টাম-মেকানিক্যাল তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে এই কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। এটা গতানুগতিক বাইনারি ডিজিটাল ইলেকট্রনিক কম্পিউটার থেকে ভিন্ন। বাইনারি কম্পিউটারে তথ্য-উপাত্তগুলো বাইনারি ডিজিটে এনকোড হতে হয়। কিন্তু কোয়ান্টাম কম্পিউটার ব্যবহার করে কোয়ান্টা বিট। তত্ত্বীয়ভাবে এই কম্পিউটারটি হলো কোয়ান্টাম টিউরিং মেশিন। এটা ইউনিভার্সেল কোয়ান্টাম কম্পিউটার নামেও পরিচিত। বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানীর হাত ধরে ক্রমশ সমৃদ্ধ হয়েছে এই পদ্ধতি।

তথ্য-উপাত্ত বিষয়ক অপারেশন পরিচালনের জন্যে সুপারপজিশন এবং এনট্যাঙ্গেলমেন্টের মতো সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। এখন পর্যন্ত পরিপূর্ণতা পায়নি কোয়ান্টাম কম্পিউটার। তবে নিরন্তর গবেষণা চলছেই। এর বাস্তবিক এবং তাত্ত্বীক দিনগুলো ব্যবহার্য করার বিষয়ে বিস্তৃত গবেষণা চলছে। বিভিন্ন উন্নত দেশের সরকার ও প্রতিরক্ষা বাহিনী কোয়ান্টামকে এগিয়ে নিতে গবেষণা চালাচ্ছে। এই কম্পিউটারের শক্তিমক্তা সম্পর্কে বলে বোঝানো যাবে না। এমন কিছু সমস্যা এরা নিমিষে সমাধান করতে সক্ষম যা আধুনিককালের প্রচলিত শক্তিশালী কম্পিউটারও করতে পারবে না। কাজেই এটা যার বা যাদের কাছে থাকবে সে বা তারা তথ্য-প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎ গতিতে এগিয়ে থাকবে।

একটা প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আমরা যেসব কম্পিউটার ব্যবহার করি তা দেখতে কেমন সবাই জানেন। একটা সিপিইউয়ের বাক্স আর মনিটর থাকে। কিন্তু কোয়ান্টাম কম্পিউটার দেখলে হয়তো হতাশ হবেন। এটাকে দেখে কোনো ইলেকট্রনিক জঞ্জালের মতোই মনে হবে। কিন্তু এই জঞ্জালের দাম হবে ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যা ১২৫ কোটি টাকারও বেশি। যদিও এটা নাকি প্রস্তাবিত দাম হতে যাচ্ছে। বোঝাই যাচ্ছে, এটা সবাই ব্যবহার করতে পারবেন না। আবার টাকা থাকলেই যে কিনতে পারবেন তাও নয়। কেবল নির্বাচিত ব্যক্তিরাই ব্যবহার করতে অনুমতি পাবেন। এটা যার বা যাদের অধীনে থাকবে, তারা বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর হিসেবে আবির্ভূত হবেন।

বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অত্যন্ত দ্রুত গতির এই মেশিন, যা সুপার-ফাস্ট কম্পিউটার হিসেবে পরিচিত। ধারণা করা হচ্ছে, কম্পিউটিংয়ের ক্ষেত্রে এটি এক বিপ্লব ঘটাবে। এই কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ করবে ভবিষ্যতের কোয়ান্টাম জগৎ। অত্যাধুনিক সব কম্পিউটার দিয়েও যেসব সমস্যা সমাধান করা যাচ্ছে না, সেসবও সমাধান করা সম্ভব হবে এই কম্পিউটারের মাধ্যমে।
যুক্তরাজ্যে সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বিজ্ঞানী উইনফ্রিড হেনসিঙ্গার বিবিসিকে বলেছেন, বৃহদাকার একটি কোয়ান্টাম কম্পিউটার একই সময়ে অনেক হিসাব নিকাশ করতে সক্ষম হবে।

ব্রিটেনের বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি এই গবেষণা কাজে অংশ নিচ্ছেন ইন্টারনেটে সার্চ ইঞ্জিন গুগল, ডেনমার্কের আরহুস বিশ্ববিদ্যালয়, জাপানের রিকেন রিসার্চ ইন্সটিটিউট এবং জার্মানির জিগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা।এর আগে কানাডার একটি প্রতিষ্ঠান ডি-ওয়েইভ কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি করেছে।যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা, গুগলসহ প্রতিরক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই কম্পিউটারটি ব্যবহার করছে।
সূত্র: ইন্টারনেট

Share.

Leave A Reply

+ seventeen = twenty