বার্ধক্য রোধে করনীয়

0
 প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী বয়সের সাথে প্রতিদিন বার্ধক্যের দিকে আমরা সবাই অগ্রসর হই। কিন্তু অস্বাভাবিক হচ্ছে বয়সের আগেই বার্ধক্য চলে আসা। বিভিন্ন কারণে অকাল বার্ধক্য দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, ঘুম কম হওয়া, শারীরিক অসুস্থতা, খাবারে অনিয়ম, অস্বাস্থ্যকর খাবার ইত্যাদি কারণে বার্ধক্য দেখা যায়।  কিছু কিছু নিয়ম মেনে চললে বার্ধক্য বেশ কিছুদিন আটকে রাখা সম্ভব সেই সাথে দূরে থাকবে রোগ ব্যাধিও। তবে এ জন্য  প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টযুক্ত খাবার থাকতে হবে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায়।
খুব একটা দামী খাবার নয় অ্যান্টি-অক্সিডেন্টযুক্ত খাবারগুলো। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকাতেই এটি পাওয়া যায়। বিটাক্যারোটিন, আলফা ক্যারোটিন, লাইকোপিন, ক্রিপট্যোআনথিন, পলিফিনলিক এসিড, ট্যানিন, ভিটামিন এ, সি, ই, কপার, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম, আয়রন ইত্যাদি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বার্ধক্য প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।
পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা বলেন, পালংশাক, পুঁইশাক, লাউশাক, কুমড়াশাক, ধনে পাতা, পুদিনাপাতা, সজনে ডাটা, নটেশাক ইত্যাদিতে রয়েছে বিটাক্যারোটিন। ঢেঁড়স, সয়াবিন, মটরশুটিতে রয়েছে আলফা ও বিটাক্যারোটিন। টমেটো, তরমুজ ও লাল নটেশাকে আছে প্রচুর লাইকোপিন যা উঁচুমানের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। পাকা কুমড়া, পাকা পেঁপে, কমলালেবু, পাকা আম ইত্যাদিতে আছে ক্রিপটোঅ্যানথিন এবং বিভিন্ন রঙিন শাক-সবজি ও ফলমূলে রয়েছে ক্যারোটিনয়েড শ্রেণির প্রায় ৩০০ ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট।
টাটকা শাক-সবজিতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ছাড়াও আছে ভিটামিন এ ও সি, কালো জামে লিউটন, আনারস, টমেটো, বাতাবীলেবুসহ সব রকম লেবু, আপেল, কলা, পেয়ারা, বেদানা ইত্যাদিতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি যা ফ্রি-রেডিকেলের মাত্রা কমিয়ে দেয় এবং শরীরের কোষ প্রাচীরে ভিটামিন ই নি:সরণে সাহায্য করে।
নানা রকম শস্য যেমন— চাল, গম, সয়াবিন, ডাল, কিশমিশ, মরিচ, খেজুর, বাদাম, সামুদ্রিক মাছ, দুধ অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের অনন্য উৎস। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের মসলা যা আমরা রান্নায় ব্যবহার করি তাতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা বার্ধক্য রোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে। সুস্থ নীরোগ জীবন এবং বার্ধক্য বিলম্বিতসহ দীর্ঘজীবী জীবন পেতে হলে খাবারে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট অবশ্যই গ্রহণ করা উচিৎ।
Share.

Leave A Reply

sixty ÷ fifteen =