বাবু আজ প্রথম রোজা রেখেছে

0

আনমল হোসেন আসাদ

আজ রমজান মাসের প্রথম দিন। এই মুহূর্তে ঢাকা শহরের সব রেস্টুরেন্টে ভিড়। কতো রকমের ইফতার সামগ্রী! জিভে জল নিয়ে আসা সে সব খাবারের দিক থেকে চোখ ফেরানো দায়।

জীবনে আজ প্রথম রোজা রেখেছে যে শিশুটি, তার বাবা-মা’র আজ অনেক আনন্দ! পাড়া-প্রতিবেশী থেকে শুরু করে অফিসের সহকর্মীরাও জেনে গেছে সে খবর। বাবু আজ প্রথম রোজা রেখেছে। ইফতারে বাবু কী খাবে, তার জন্য মহাব্যস্ত বাবুর পরিবার।

এইতো সেদিনই বিয়ে হল উর্মীর। শ্বশুর বাড়িতে আজ সে কোমড় বেঁধে লেগে গেছে নানা রকমের ইফতার সামগ্রী বানাতে। উর্মীর মা বার বার ফোন করে জেনে নিচ্ছেন সে খবর।

পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী রুস্তম প্রথম রোজার ইফতারি করবে সে শ্বশুর বাড়ি। যেন পুরো চকবাজারই উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সে। বৌয়ের ছোট ভাই-বোনের কাছে মুখ থাকবে না তা না হলে।

মাহে রমজানে এই চিত্রগুলো চিরায়ত। সবাই অভ্যস্ত আমরা এর সাথে। এই চিত্রগুলো দেখতে সত্যিই খুব ভালোলাগে।

সকাল থেকে রিক্সা চালাচ্ছেন রহিম মিয়া। কখনো রোদে পুড়ে, কখনো বৃষ্টিতে ভিজে! বাড়িতে বউটা অসুস্থ, ওই অসুস্থ শরীরেই রোজা রেখেছে সেও। কিছু ভালোমন্দ খাবার কিনে নিয়ে বাড়ি ফিরতে চায় রহিম মিয়া। কিন্তু আজ তেমন আয় হলো না। ভাড়া দু’টাকা বাড়িয়ে দিতে বললেই লোকজন অন্য রিক্সা নিয়ে নিচ্ছে। অথচ বউটার জন্য আজ নাশপাতি কিনে নিয়ে যেতে চেয়েছিলো রহিম মিয়া।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা নিচ্ছেন লিজার স্বামী। আজ প্রায় তিনমাস ধরে চলছে তার এই চিকিৎসা। স্বামীর বিছানার পাশে একটি টুল নিয়ে ঝিমিয়েছে সে সারারাত। রাতে সেহরি খাওয়া হয়নি। তারপরও শুধু একগ্লাস পানি খেয়েই রোজা রেখেছে সে। এখন আশেপাশের আরও কিছু রোগীর আত্মীয়-স্বজনের ইফতার আয়োজন দেখে লিজার মনে হচ্ছে, ওরও কিছু খাওয়া দরকার।

সারাদিন প্রায় কয়েকটা বাড়িতে বুয়ার কাজ করেন মাজেদার মা। ইফতারের সময় সেও ভাবে, আজ খালাম্মা যদি আমার প্লেটে একটু বেশি ইফতার দিতো, নাতিটার জন্য কিছুটা নিয়ে যেতে পারতাম তাহলে।

বন্ধুরা! এইসব খণ্ডচিত্র নিয়েই চলে মাহে রমজান। প্রতিদিনের ইফতার আয়োজনে আমরা প্রায় অনেক কিছুর অপচয় করে থাকি। যতটুকু প্রয়োজন, তার চেয়েও বেশি আয়োজন করি, যা বেশির ভাগ সময়ই নষ্ট হয় বা ফেলে দিতে হয়।

প্রতিদিনের আয়োজন থেকে নষ্ট না করে যদি কিছুটা রেখে দিতে পারি আর তুলে দিতে পারি তাঁদের হাতে, যারা বিভিন্ন কারণে আয়োজন করে ইফতার করতে পারছে না।  তাহলে একদিকে যেমন খাবারের অপচয় থেকে বাঁচা যাবে, অপরদিকে পাওয়া যাবে মানুষের জন্য কিছু করতে পারার আনন্দ।

ত্যাগ তিতিক্ষার মাস রমজান। আর তাই এটুকু ত্যাগ স্বীকার আমরা তো করতেই পারি!

লেখক: প্রধান সমন্বয়কারী মার্স পার্ক লি.

Share.

Leave A Reply

ninety nine ÷ eleven =