বাধা উপেক্ষা করে এগোতে হবে: মানবেন্দ্র সরকার

0

স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এসইউবি) এর ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তরুণ শিক্ষক মানবেন্দ্র সরকার এর সাথে কথা বলেছেন নতুনকিছু. কম এর প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম নাবিল।

নতুনকিছু.কম:  স্যার শুভ অপরাহ্ন। কেমন আছেন?

মানবেন্দ্র সরকার: জি, শুভ অপরাহ্ন। এইতো ভালো আছি।

নতুনকিছু.কম:  আপনার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা জীবন সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি।

মানবেন্দ্র সরকার: গ্রাম থেকে উঠে আসা একজন আমি। অলিপুর আমডাঙ্গা হাই স্কুল আর সরকারি আকবর আলী কলেজ উল্লাপাড়া’য় শিক্ষা জীবনের হাতেখড়ি। এরপর ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হই হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। মাষ্টার্স সম্পন্ন করেছি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুড প্রসেসিং অ্যান্ড প্রিজারভেশন বিষয়ে।

নতুনকিছু.কম: ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয় কেন বেছে নেওয়া?

মানবেন্দ্র সরকার: ২০০৮ সালে যখন ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হই, তখন সীমিত সংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করতো এই বিষয়টিতে। এখানে যেহেতু গবেষণার সুযোগ আছে, তাই বিষয়টি বেছে নেওয়া।

নতুনকিছু.কম: কর্মজীবন নিয়ে কিছু বলেন।

মানবেন্দ্র সরকার: স্টেট ইউনিভার্সিটিতেই শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করি ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে। দেড় বছর ধরে আছি এখানে। বেশ ভালো সময় অতিবাহিত হচ্ছে।

নতুনকিছু.কম: আপনার স্বপ্ন জানতে চাই।

মানবেন্দ্র সরকার: আপাতত স্বপ্ন হচ্ছে দেশের বাইরে পিএইচডি করা, যেন দেশ এবং দেশের বাইরে সেবা করতে পারি।

নতুনকিছু.কম: ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়াশোনা করে একজন শিক্ষার্থী কোন কোন পেশায় যেতে পারে?

মানবেন্দ্র সরকার: চাকুরির বাজার এই সেক্টরে প্রসারিত হচ্ছে দেশে এবং দেশের বাইরে। সরকারি চাকুরি ‘বিএসটিআই’ খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং প্রাইভেট কোম্পানিসহ একজন ফুড ইঞ্জিনিয়ার চাইলে অভিজ্ঞতা দিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবেও পরিচালনা করতে পারেন নিজ প্রতিষ্ঠান।

নতুনকিছু.কম: এসইউবি’তে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?

মানবেন্দ্র সরকার: এখানে সবাই খুবই বন্ধুসুলভ। নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করছি। চেষ্টা করি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখাতে। শিক্ষার্থীরা খুবই আগ্রহী আর অনেকেই এখান থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করে বেশ ভালো করছেন এই পেশায়।

নতুনকিছু.কম: খাদ্যে ভেজাল নির্মূলে একজন ফুড ইঞ্জিনিয়ার কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে?

মানবেন্দ্র সরকার: একজন ফুড ইঞ্জিনিয়ারকে সবসময় থাকতে হবে সচেতন। নিজে উদ্যোক্তা হলে খাদ্যে কেমিক্যাল ব্যবহারে নিয়ম-নীতি মেনে চলতে হবে। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন থেকে অনুমোদিত ক্যামিক্যাল ব্যবহার করতে হবে। মানবদেহে ক্ষতিকারক নয় এমন প্রাকৃতিক বিকল্প ক্যামিক্যালের অনুসন্ধান চালাতে হবে।

নতুনকিছু.কম: আগামীতে এসইউবি’র ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগকে কোথায় দেখতে চান?

মানবেন্দ্র সরকার: বিভাগটি যেন হয় দেশের উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো একটি মডেল ডিপার্টমেন্ট। এখানকার শিক্ষার্থীদের গবেষণার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি যেন সকলের কাছে সুপরিচিত হয়, সেই কামনাই করি।

নতুনকিছু.কম: ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আগামী দিনের পরিকল্পনা ও শিক্ষার্থীদের উদ্দ্যেশে কিছু বলুন।

মানবেন্দ্র সরকার: আগামীতে বিভাগ থেকে বিভিন্ন সেমিনার আয়োজন করার পরিকল্পনা আছে, আর বড় বড় ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে শিক্ষার্থীদের পরিদর্শন করানোর যে কার্যক্রম আছে তা অব্যাহত থাকবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দ্যেশে বলবো, জীবনে অনেক বাধা আসবে, আর সেসব বাধা উপেক্ষা করে এগোতে হবে।

Share.

Leave A Reply

sixty eight + = seventy