বাইপোলার মুড ডিসঅর্ডার জানা অজানা

0

সিনথিয়া করিম-

বাইপোলার মুড ডিসঅর্ডার, যা পূর্বে ‘ম্যানিক ডিপ্রেশন’ নামে পরিচিত ছিল। আসলে এটি একটি মানসিক ব্যাধি, যার কারণে একজন ব্যক্তির মাঝে সাময়িক ডিপ্রেশন এবং মুড এর তারতম্য লক্ষ্য করা যায়। এই ডিসঅর্ডারটির কারণে কোন ব্যক্তি অস্বাভাবিকভাবে আনন্দিত হবে, নিজের মাঝে এক অন্য রকম শক্তি অনুভব করবে, অথবা খিটখিটে মেজাজ প্রদর্শন করবে।

বাইপোলার ডিসঅর্ডার এমন এক ডিসঅর্ডার, যার মাধ্যমে মানুষের মুড মুহুর্তের মধ্যে পরিবর্তিত হতে পারে। মুড উচ্চ পর্যায়ে থাকলে ‘ম্যানিয়া’ এবং নিম্ন পর্যায়ে থাকলে ‘ ডিপ্রেশন’ বলা হয়ে থাকে।  কখনো কখনো একজন ব্যক্তির মাঝে দুটির সংমিশ্রণ দেখা যায়।  ফলে একজন ব্যক্তিকে একই সময় আনন্দিত এবং একই সময় হতাশাগ্রস্ত হতে দেখা যায়।

যে কারণে এবং যাদের হয়:

সাধারণত ২৫ বছর এর উর্ধে যাদের বয়স, তাদের মাঝে এর প্রবনতা দেখা দেয়। হতাশা, পারিবারিক কলহ, আত্মবিশ্বাসের অভাব, অনিদ্রা, খাদ্যভাসে অনিয়ম ইত্যাদিকে এই ডিসঅর্ডার  এর কারণ হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

‘ম্যানিয়া’র ৭ ধরণের লক্ষণ: 

১) অতিরিক্ত আনন্দ অনুভব হবে। ২) শরীর পর্যাপ্ত নিদ্রা নিতে চাইবে না। ৩) অতিদ্রুত কথা বলা। যেন কোন প্রতিযোগিতা চলছে। ৪) অত্যন্ত হুড়োহুড়ি লক্ষ্য করা। ৫) খুব সহজে মনযোগে বিঘ্ন ঘটা। ৬) অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের অধিকারী হওয়া। ৭) ঝুঁকিমুলক কাজকর্মে নিজেকে জড়ানো।

‘ডিপ্রেশন’ এর ৭ লক্ষণ:

১) অধিক সময়ের জন্য হতাশাগ্রস্ত থাকা। ২) পরিবার ও বন্ধুবান্ধব এর সাথে দুরত্ব। ৩) এক সময়ের উপভোগ্য কাজে হতাশা প্রকাশ। ৪) ক্ষুধা  মন্দা দেখা দেয়া ৫) এনার্জি ঘাটতি দেখা দেওয়া ৬) স্মৃতি  শক্তি কমে যাওয়া, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা লোপ পাওয়া। ৭) আত্মহনন করার কথা ভাবা ও চেষ্টা করা।

প্রতিকার:

১) ইতিবাচক চিন্তা করা। ২) পর্যাপ্ত ঘুমানো। ৩) সহনশীল হওয়া। ৪) স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। ৫) আত্মবিশ্বাসী হওয়া। ৬) লোক সমাগমে থাকা। ৭) বেশি সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া।

Share.

Leave A Reply

+ twenty two = thirty one