বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চা শিল্প

0

শাহ ইসরাত আজমেরি-

সরুপথের দুইপাশে বিস্তৃত সবুজ স্নিগ্ধ চা বাগান বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে অতিমাত্রায় নান্দনিকতায় রূপান্তরিত করেছে। এ দেশে বৃটিশ শাসনামল থেকেই চা বাণিজ্যের প্রচলন শুরু হয়। আজও চা বাগানের মাঝে বৃটিশ শাসনামলের ঐতিহ্য বিদ্যমান।

পাটের পরেই চা বাংলাদেশের দ্বিতীয় রপ্তানীযোগ্য অর্থকরী ফসল। বাংলাদেশের বিভিন্নস্থানে আনুমানিক ১৬৩ টি চা বাগান রয়েছে। এর মধ্যে ৩টি বৃহত্তম চা বাগান রয়েছে যা থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে চা উৎপাদিত হয়। প্রায় ৩ লক্ষ শ্রমিক চা শিল্পে যুক্ত রয়েছে যার ৭৫% নারী শ্রমিক এবং ২৫% পুরুষ শ্রমিক। চা পাতা উত্তোলনে নারী শ্রমিকেরাই বেশী পারদর্শী ঽয়ে থাকে পুরুষের তুলনায়। আদিবাসী নারী ও পুরুষ এই পেশায় নিবেদিত রয়েছেন।

ব্রিটিশ শাসনামলে মধ্য ভারত থেকে শ্রমিক রপ্তানি করা ঽতো। সাধারণত উচ্চভূমি, উষ্ণ ও আদ্র জলবায়ু এবং অতি বৃষ্টি প্রবণ এলাকা চা উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ। বাংলাদেশের সিলেট, হবিগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার, চট্টগ্রাম, পঞ্চগড় এবং রাঙ্গামাটিতে চা উৎপাদিত হয়।

ধারণাগত দিক থেকে ইস্ট কোম্পানি ১৮৪০ সালে প্রথম বাংলাদেশের চট্টগ্রামে চা ব্যবসা শুরু করে। কলকাতা বোটানিক্যাল গার্ডেন থেকে চীনা চায়ের গাছ এনে চট্টগ্রাম ক্লাবের পাশে রোপন করা হয়। ১৮৪৩ সালে চট্টগ্রামের কর্ণফুলি নদীর তীরে প্রথম চা উৎপাদন করা হয়। পরবর্তী সময়ে সিলেট অঞ্চলের মালনীছড়া চা বাগানে বাণিজ্যিকভাবে ১৮৫৭ সালে চা চাষ শুরু হয়।

বিশ্ববাজারে চা শিল্প বাংলাদেশকে উন্নত পর্যায়ে নিয়ে গেলে শ্রমশক্তি নির্ভর এই চা শিল্প দেশের শ্রমিকদের আদৌ মূল্যায়ন করা হয়নি। মানবেতর জীবনযাপনেই তারা অভ্যস্ত, যেখানে জীবনযাত্রার মান অতিনিম্ন এবং সুবিধাবঞ্চিত। চা শ্রমিকেরা যে অর্থ দৈনিক মজুরি হিসেব পেয়ে থাকেন তা অন্যত্র শ্রমিকদের তুলনায় খুবই নগণ্য।

শিক্ষা, সাস্থ্য এবং আনুষঙ্গিক সুবিধা সমুহের অভাবে শ্রমজীবী আদিবাসীদের জীবন দু্র্বিসহ। শিশুদের জন্য নেই পর্যাপ্ত শিক্ষা ব্যবস্থা, নেই কোন সাস্থ্যসেবা। আজও তারা চা মালিকদের ভূমিতে বসবাস করে। তাই তারা চায় ভূমি অধিকার, চায় ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো। তাদেরও অধিকার রয়েছে এ দেশের নাগরিক হিসেবে। শ্রমিকদের দক্ষতাই এনে দিতে পারে একটি দেশের অর্থনৈতিক সাফল্য।

বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন এসব দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সোচ্চার, তথাপি তা মূল্যায়ন করা হয়নি। তাই সরকারি এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে চা শিল্প শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সমান্তরাল ভূমিকা পালনের মাধ্যমেই উক্ত সমস্যা সমাধান করা সম্ভবপর হবে।

চা বাগান পর্যটন অঞ্চল হিসেবে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। পরিশেষে বলা যায়, চা শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তেমনি চা বাগানের সৌন্দর্য শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রমেরই অংশ। তাই তাদের ন্যায্য অধিকার ও সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার অধিকার রয়েছে।

Share.

Leave A Reply

forty eight ÷ = six