প্লাস্টিক থেকে জ্বালানি তেল

0

মোহাম্মদ তওহিদুল ইসলাম। পরিত্যক্ত প্লাস্টিক থেকে জ্বালানি তেল তৈরির উদ্ভাবক। শোনা যাক, তাঁর এই সফল উদ্ভাবনের পেছনের গল্প।

উচ্চমাধ্যমিক পড়াকালীন তওহিদুলের মাথায় আসে বিষয়টি। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র হবার সুবাদে পড়েছিলেন প্লাস্টিক ও জ্বালানি তেলের গঠন। পড়ার সময় জানতে পারলেন, প্লাস্টিক এবং জ্বালানি তেলের গঠনে ভিন্নতা থাকলেও উপাদান একই। ঠিক সে সময় নিজের মনে সমস্ত ছক এঁকে ফেলেছিলেন।

ভাবলেন যদি পলিথিনের আণবিক গঠন পরিবর্তন করতে পারেন তবে আমাদের পরিবেশের এক বড় শত্রু , প্লাস্টিককে অতি সহজে অনেক মূল্যবান সম্পদে রূপান্তর করতে পারবেন।
শুরু করলেন টুকটাক কাজ। বড় ভাইদের সাথে এ ব্যাপারে কথা বললেন। কিন্তু সঠিক পথে নিয়ে যাওয়ার মত কোন পথপ্রদর্শক ছিলেন না।

শেষ পর্যন্ত হাল ছাড়েননি। জানতে পারলেন, পলিথিনকে যদি অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে উচ্চ তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করা যায় তাহলে তার নিজ আণবিক গঠন পরিবর্তন করে জ্বালানি তেলের আণবিক গঠনের রূপ ধারণ করে। ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে এই উৎপাদনে পরীক্ষামূলকভাবে সাফল্য অর্জন করেন তিনি।

তবে উৎপাদন কম হওয়ার কারণে তা জনসম্মুখে আনেননি তিনি। এর ফলে শুনতে হয়েছে অনেক কটু কথা। চারপাশের মানুষ তাঁকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করতেন। তবে ছায়ার মত সাথে ছিলেন তওহিদুলের মা। ছেলে যতক্ষণ রাত জেগে কাজ করতেন, তিনিও দু’চোখের পাতা এক করতেন না।

প্রথম থেকেই নিজ ছেলের ওপর আস্থা ছিল তাঁর। তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করতেন, তাঁর ছেলে একদিন বড় কিছু করবেন। খুব কষ্ট করে একটি স্বর্ণের চেইন বানিয়েছিলেন। ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে সেটি বিক্রি করে ছেলের হাতে টাকা তুলে দেন। তবে পরবর্তী উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ কোথায় পাবেন তা ভেবে তিনি দিশেহারা।

তওহিদুলের মতে তিনি তাঁর এই প্রকল্প ২০১৪ সালে বাণিজ্যিকভাবে সফল করেন। নিজের তেল উৎপাদনের ছোট্ট মেশিন দিয়ে বর্তমানে যে পরিমাণ তেল উৎপাদন করতে পারছেন তা আশপাশের প্রতিবেশী,দোকান, গ্যারেজ এগুলোতে বিক্রি করে যে টাকা পান তা দিয়ে দুইজন শ্রমিকের বেতন দেন। তবে নিজের ভাগে যা জোটে তা খুবই সামান্য। গ্যারেজ মিস্ত্রি সামীউল বলেন, তওহিদুলের তৈরি করা জ্বালানি তেল অন্যান্য তেলের তুলনায় মানে উন্নত।

মোটরসাইকেল চালাতে ভালোবাসেন তওহিদুল। যদিও নিজের মোটরসাইকেল এখনো কিনতে পারেননি তবে পরিচিত এক ভাইয়ের কাছ থেকে ধার করে চালান। একটু তেল নিয়ে গেলে সেই ভাই থেকে ২ ঘণ্টা মোটরসাইকেল চালানোর অনুমতি পান। মোটরসাইকেলে করে ঘোরার সময় নিজেকে মুক্ত বিহঙ্গ মনে হয় তাঁর। মোটরসাইকেল কেনার সামর্থ্য না থাকলেও নিজের তৈরি করা তেলে তা চালাচ্ছেন এটা ভাবতেই তাঁর কাছে অনেক ভালো লাগে। তাঁর বিশ্বাস, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিবেশ বাঁচানোর যেই আন্দোলন তা অনেকাংশে ফলপ্রসূ হবে।

Share.

Leave A Reply

twenty one ÷ three =