প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রাণী বিরিশিরি

0

প্রকৃতির অকৃপণ সৌন্দর্যের ভান্ডার বিরিশিরি গ্রাম। অনেকে একে সাদা মাটির দেশও বলে থাকেন। নদী, পাহাড় আর সবুজে ঘেরা বিরিশিরিতে একবার গেলে ফিরে আসতে চাইবে না মন।

ঢাকা থেকে মাত্র ১৮০ কিলোমিটার উত্তরে ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেঁষা নেত্রকোনা জেলার
সোমেশ্বরী নদীকে বিরিশিরির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যমণি বলা যায়। চারপাশে পাহাড়ে ঘেরা সোমেশ্বরীর উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে পাল্টে যায় পানির রংও। গ্রীষ্মের মৌসুমে হেঁটে পার হওয়া গেলেও বর্ষায় থাকে কানায় কানায় পূর্ণ। এই নদী পারাপারের জন্য রয়েছে নৌকার ব্যবস্থাও।

Image result for বিরিশিরি

শুধুমাত্র প্রাকৃতিক রূপের অধিকারী নয় বিরিশিরি। প্রাকৃতিক দৃশ্যের পাশাপাশি এখানে দেখা যায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী। বনই, বুনা, গারো, মান্দি আর হাজংদের আবাসভূমী আছে এখানে। গারো ও হাজং ছাড়া প্রায় সবকটি গোষ্ঠীই বাংলা ভাষাভাষি। এখানকার বেশির ভাগ কর্মজীবীই গারো আর হাজং।

এখানে রয়েছে একটি কালচারাল একাডেমি। একাডেমির পাশেই রয়েছে তেভাগা আন্দোলনের কিছু স্মৃতিস্তম্ভ। রয়েছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জাদুঘরও। জাদুঘরের দুটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরিতে রয়েছে পাহাড়িদের লেখা বই ও জার্নাল। এখান থেকে নিয়মিত একটি সাময়িকীও প্রকাশ করা হয়।

বিজয়পুর সীমান্ত ঘেঁষা সাদামাটির পাহাড় বা দুর্গাপুর চীনামাটির পাহাড়। যা দেখতে সাদা, ধূসর আর খানিক লালচে রঙের।
পাহাড়ের চারপাশের সাদা মাটি যেন পানির রংটাকে আরো গাঢ় করে দিয়েছে।

দুর্গাপুর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার উত্তর সীমান্তেই রয়েছে গোপালপুর পাহাড়। গোপালপুর পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে রাণীখং গির্জা।

বিরিশিরি ইউনিয়ন পরিষদের পাশেই রয়েছে কমলা রাণীর দীঘি। একে সাগরদীঘিও বলা হয়। রাজমহলরাজা সুসংয়ের রাজমহল- যার নামানুসারে এই উপজেলার নামকরণ করা হয় সুসং দুর্গাপুর।

কুলাপাড়ার কাছে আছে দাশা-বুশা মন্দির, রামকৃষ্ণ মন্দির এবং লোকনাথ মন্দির। পথে পেয়ে যাবেন সেন্ট যোসেফের গির্জা। কমলা বাগান আর দারুচিনি বাগানের ঘ্রাণ মুহূর্তেই আত্মভোলা করে ফেলতে পারে।

pic

বিরিশিরির প্রায় সর্বত্রই রিকশা কিংবা ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে করে ভ্রমণ উপযোগী। খুব অল্প খরচেই সবকটি স্থান ঘুরে ফেলতে পারবেন।

মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে সরাসরি নেত্রকোনা। ভাড়া ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। ৪-৫ ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে যাবেন দুর্গাপুর। সেখান থেকে বাস বা অটোরিকশাতে মাত্র ২৫ মিনিটের পথ। মহাখালী থেকে সরাসরিও যেতে পারেন দুর্গাপুর। খেয়াল রাখতে হবে শেষ ৩ কিলোমিটার পথ খুবই উঁচু-নিচু এবং ভঙ্গুর। তাই সরাসরি না যাওয়াই ভালো।

দুর্গাপুরে এসি/নন এসি সব ধরনের হোটেলই রয়েছে। তবে এগুলো সস্তা নয়। সস্তায় থাকতে হলে আপনাকে কালচারাল একাডেমির গেস্ট হাউজ কিংবা ওয়াইএমসি নামক প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিতে হবে। এছাড়া তাঁবু খাটিয়ে নিতে পারেন। বিভিন্ন মধ্যমানের রেস্টুরেন্টে সব ধরনের খাবার পাওয়া যায়। পাবেন বকের মাংসও।

সুতরাং আপনি যদি ভ্রমণ পিয়াসু হন, বিশেষত প্রকৃতি প্রেমীক, বিরিশিরি সে ক্ষেত্রে আপনার জন্য হবে এক বিশাল ভালোলাগার স্থান। তাই দেরি না করে ঘুরে আসুন বিরিশিরি।

Share.

Leave A Reply

× six = fifty four