প্রতিবন্ধী মেয়ে ফাতেমার স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প

0

সেরিব্রাল পালসি রোগে আক্রান্ত ২২ বছর বয়সী ফাতেমা আক্তার। ছোটবেলা থেকেই স্বাভাবিক চলাফেরায় অক্ষম তিনি। তবে সব বাধা কাটিয়ে আজ সফলতা ছুঁয়েছে তার পদচিহ্ন।

মাত্র দশ বছর বয়সে ফাতেমার মাকে ছেড়ে বাবা চলে যায়। শুরু হয় অভাবের দিন। প্রতিবন্ধী মেয়েটাকে নিয়ে যেন মায়ের সাগরের মধ্যিখানে ভেসে যাওয়ার যোগাড়।এতো অভাবের মাঝেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার অদম্য ইচ্ছে ছিল ফাতেমার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পঞ্চম শ্রেণীর গণ্ডির বাইরে আর যেতে পারেননি।

২০১৬ সালে একটি এনজিও-এর দেওয়া ১৫০০০ টাকা পুঁজি দিয়ে ছোট পরিসরে শুরু করেন মাশরুম চাষ। তারপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি ফাতেমাকে। মাশরুম চাষের মাধ্যমে প্রতিমাসে ৫-৬ হাজার টাকা আয় করেন তিনি। এই পর্যন্ত ১২-১৩ হাজার টাকা সঞ্চয় করেছেন। এখন তিনি নিজের টাকা দিয়ে নিজে চলতে পারেন, নিজের প্রয়োজন মেটাতে পারেন।

এ সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমি এখন সফলতার মুখ দেখেছি। এখন আমাকে কারো মুখাপেক্ষী হতে হয়না। নিজের টাকা দিয়ে নিজে আনন্দ করতে পারি, নিজের ইচ্ছা মত চলতে পারি। প্রতি কেজি ২০০-৩০০ টাকা দরে দিনে ৩-৪ কেজি পর্যন্ত মাশরুম বিক্রি করি। এক একটা মাশরুমের প্যাকেট ১৫ টাকা দিয়ে কিনি এবং প্রতি প্যাকেট থেকে ৪০ টাকার মাশরুম বিক্রি হয়। প্রতি প্যাকেটে ২৫ টাকার মত লাভ হয়’’।

পড়াশোনার প্রতি অসীম আগ্রহ ছিল ফাতেমার। তাই পড়াশোনা না করতে পারার বেদনা রয়েই যায়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার ছোটবেলা থেকে ইচ্ছে ছিল আমি অনেক পড়াশোনা করবো। নিজের পায়ে দাঁড়াবো , নিজের যোগ্যতা সবাইকে দেখাবো। আমার ভিক্ষা করার কোন ইচ্ছা ছিলোনা। যেন মানুষ আমাকে লাথি-উষ্ঠা না দেয়। আমি অনেক সফল হয়েছি। আমার অনেক ভালো লাগে এখন। আমি মনে করি চেষ্টা থাকলে সবই করা সম্ভব’’।

সুত্রঃ বিবিসি

Share.

Leave A Reply

+ 77 = seventy eight