পুরান ঢাকার বাহারি ইফতার

0

সিনথিয়া করিম-

১৭মে, রোজ বৃহস্পতিবার । এরই মাঝে দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র মাহে রমজান। আগামীকাল (১৮ মে, শুক্রবার)  থেকে অত্যন্ত সংযম এর সাথে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ পবিত্র রমজান পালন করা শুরু করবেন। রমজান মাসের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশ যেমন- সেহরি, ইফতার, তারাবি’র মাঝে অন্যতম আকর্ষণ হল ‘ইফতার’।

সারাদিন সিয়াম সাধনার পর সকলেই ইফতারে একটু জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন চায়। হরেক রকমের ইফতারি বাড়ির টেবিলে লক্ষ করা যায়। গলির মোড়ে মোড়ে ইফতারির পসরা সাজিয়ে বসেন বিক্রেতাগণ। কিন্তু সব কিছুকে ছাপিয়ে আজও সবকিছুর উর্ধে পুরান ঢাকার ইফতার বাজার। যেই ইফতার বাজার জানান দেয় চার শতাব্দীর ইফতার ঐতিহ্য।

ঢাকার আদিকাল থেকেই ইফতারকে বলা হত ” রোজা খোলাই”। রোজা খোলাই বলতে মূলত ইফতার করাকে বোঝায়। পুরান ঢাকার অনেক স্থানে এখনও এই শব্দটির প্রচলন রয়েছে। পুরান ঢাকার বাসিন্দাগণ অনেক জাঁকজমকপূর্ণভাবে তাদের ইফতারির পসরা সাজিয়ে বসেন। পুরান ঢাকার বিখ্যাত ইফতারির খাবারগুলোর একটিরও নাম শোনেনি এমন কারও দেখা পাওয়া দায়।

রোজা খোলাই বা ইফতার মাগরিবের আযানের সাথে সাথে শুরু হলেও এর আয়োজন চলতে থাকে সেই সাত সকাল থেকে। প্রায় সকলেই উৎসব উৎসব  ভাব নিয়ে ইফতার বানানোর কাজে নেমে পড়েন।

অন্যান্য নামকরা ইফতার বাজার থাকলেও পুরান ঢাকার চকবাজার সবগুলোর মাঝে অন্যতম। এছাড়াও, রায়সাহেব বাজার, নাজিরাবাজার উল্লেখযোগ্য। চকবাজারের ইফতারির মাঝে মোঘল ঘরানার পদের আনাগোনা বেশি লক্ষ করা যায়। যেমন- আস্ত মুরগির কাবাব, কোয়েল পাখির রোস্ট, মরগ মুসল্লাম, বটিকাবাব, শামিকাবাব, সুতিকাবাব, পানীয় লাবাং, কাশ্মীরি শরবত ইত্যাদি শত রকমের বাহারি পদের সাথে রয়েছে বিশেষ আকর্ষণ, ৩৬ উপকরণ বিশিষ্ট খাবার ” বড় বাপের পোলায় খায়”।

ইফতারির এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন চলে প্রথম রোজা থেকে শেষ রোজা পর্যন্ত প্রতিদিন। পদগুলোর দাম সাধ্যের মধ্যে থাকাতে এগুলোর স্বাদ নিতে পারবেন যে কেউ। তবে আর দেরি কেন? প্রথম রমজানেই ঘুরে আসা যাক এই ঐতিহ্যবাহী ইফতারি মেলায়।

Share.

Leave A Reply

seventy four ÷ thirty seven =