পুজোয় সুস্থ থাকার উপায়

0

পুজো মানেই প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে মানুষের ভিড়। পরিবার, পরিজন, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে মন মতো বাইরে খাওয়া, আড্ডা, আরও কত কী! তবে এমন সময় কিছু বিষয়ে সতর্ক না হলে অসুস্থ হয়ে পুরো পুজোটাই মাটি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এই পুজোয় স্বাস্থ্যের দিকে একটু নজর দিতেই হবে।
পুজোর দিনগুলিতে জীবাণুর আনাগোনা থাকেই যা পরিবারের সকল সদস্যকে চরম সমস্যায় ফেলে দিতে পারে। তাই নির্বিঘ্নে পুজো কাটানোর কিছু উপায়ঃ

১। রান্না করা টাটকা খাবার খান— বাইরে খাওয়া মানেই সঙ্গে করে অনেক ক্যালরি নিয়ে ফেরা। তবে টাটকা খাবার ছাড়া বাইরে কিছু না খাওয়াই ভালো। দেখবেন, গরম খাবার যেন গরমই খেতে দেওয়া হয়, আর ঠান্ডার ক্ষেত্রে ঠান্ডা। চোখের সামনে রান্না হচ্ছে, এমন খাবার খাওয়াই ভালো। যেমন রোল, স্যান্ডউইচ ইত্যাদি। বাসি খাবার থেকে দূরে থাকতে হবে। এছাড়া বাইরের কোনও খাবার নিয়ে মনে প্রশ্ন থাকলে, সেই খাবার না খাওয়াই ভালো।

২। সাথে রাখুন পানি— এই সময় আবহাওয়া গরম থাকে। পাশাপাশি বাতাসে জলীয় বাষ্প থাকার কারণে ঘাম হওয়া স্বাভাবিক। তাই রোজ অন্তত ২ থেকে ৩.৫ লিটার পানি পান করা দরকার। তেষ্টা পেলে কোল্ড ড্রিংকস বা অন্য কোনও পানীয় পান করার তুলনায় সাধারণ পানি খাওয়া অনেক ভালো। তাই সবসময় নিজের সঙ্গে জল নিয়ে যাওয়া ভালো।

৩। হ্যান্ড স্যানিটাইজার সঙ্গে রাখুন— বাইরে গেলে বোঝা সম্ভব নয় কোন জায়গা বা কোন জিনিস কতটা পরিষ্কার। তাই সঙ্গে একটা ছোট স্যানিটাইজার রাখাই ভালো। কারণ কিছু খাবার আগে সবসময় হাত ধোয়ার জন্য পরিষ্কার জল ও হ্যান্ড ওয়াশ পাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্যান্ডেলে প্রসাদ, রেস্টুরেন্ট কিংবা রাস্তার ধারে খাবার দোকান সহ বিভিন্ন জায়গায় খাওয়ার আগে স্যানিটাইজার ব্যবহার করা দরকার।স্যানিটাইজার ব্যবহার করলে জীবণু সংক্রমণ হওয়া কিছুটা হলেও আটকাবে।

৪। প্রসাধনী ব্যবহারে সতর্কতা— দুর্গা পুজোয় সেজেগুজে ঘুরতে যাওয়ার রোমাঞ্চই যেন আলাদা! আজকের সোশ্যাল মিডিয়ার জমানায়, ভালো ছবি বা ভিডিওর জন্য প্রসাধনী ব্যবহার করা সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায়, প্রসাধনীতে কোন ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে, সেই নিয়ে ব্যক্তিবিশেষের কোনও জ্ঞান নেই। তাই প্রসাধনীর ক্ষেত্রেও খেয়াল রাখা দরকার যে তা তাঁর ত্বকের জন্য ভালো না খারাপ। না হলে, ক্ষণিকের আনন্দের জন্য অনেক সর্বনাশ হতে পারে।

৫। মশাবাহিত রোগ থেকে সাবধান— দুর্গা পুজো শরৎকালে হয়ে থাকে। অর্থাৎ বর্ষার একদম পরপরই। গত একদশকে বারবার দেখা গিয়েছে, দুর্গা পুজোর সময়েও বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর এই সময়ে মশাবাহিত রোগের আশঙ্কাও বাড়ে। এর ফলে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াজাতীয় রোগের প্রকোপ যথেষ্ট পরিমাণে দেখা যায়। সবসময়ে যে মশার আক্রমণ বাড়িতেই হয় এমনটা মোটেই নয়। দুর্গা পুজোর সময়ে যখন জনসমাগম খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার, তখন মশার কামড় খেলে অবাক হবেন না! অতএব বিশেষ সতর্কতা নেওয়া এই ক্ষেত্রে খুবই প্রয়োজনীয়। জ্বর হলে বা তাপমাত্রা বাড়লে, কোনওরকম দেরি না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। এছাড়া মশাবাহিত রোগ এড়ানোর জন্যে যে প্রাথমিক নিয়ম রয়েছে, তা মেনে চলতে হবে।

৬। শৌচাগার ব্যবহারে সতর্কতা— দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে শৌচাগার ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা স্বাভাবিক হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে শৌচাগার পরিচ্ছন্ন নয় কিংবা সংখ্যায় প্রয়োজনের চেয়ে কম। এই তুমুল জনসমুদ্রের মাঝে পরিচ্ছন্নতা খুবই প্রয়োজনীয় বিষয়। বিশেষত, মহিলাদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও গুরুতর। অনেক জায়গাতেই দেখা যায়, মহিলাদের জন্য আলাদা শৌচাগার নেই। এই বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা প্রয়োজন। তবে সুলভ শৌচাগার ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা একটি আলাদা মাত্রা অবশ্যই এনে দিতে পারে। এখন বাজারে মহিলাদের টয়লেটে ব্যবহারের জন্য নানা জীবাণুনাশক স্প্রে মেলে। টয়লেটে ব্যবহারের জন্য বিকল্প কিছু পদ্ধতিও রয়েছে। চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে সেগুলি কিনে নিতেই পারেন।

৭। নিয়ম মতো ওষুধ খান— পুজোর ছুটির আনন্দে মশগুল হয়ে নিজের ওষুধ খেতে ভুলবেন না। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ সহ নানা ধরনের ক্রনিক রোগের ওষুধ নিয়ম করে খেয়ে যেতে হবে। কোথাও ঘুরতে গেলে অবশ্যই ওষুধগুলি সঙ্গে করে নিয়ে যাবেন এবং নির্দিষ্ট সময়ে খেয়ে নেবেন।

৮।শিশুর প্রতি বিশেষ খেয়াল— পুজোয় অনেক সময়েই দেখা যায় যে, শিশুরা পায়ে তাল মিলিয়ে হাঁটছে বড়দের সঙ্গে। এর ফলে বাচ্চারা ক্লান্ত তো হয়ে পড়েই, অনেক সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়াও অস্বাভাবিক নয়। তাই শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি খেয়াল রাখা খুবই প্রয়োজনীয়। দরকারে আগেভাগে ডাক্তারের পরামর্শ মতো কিছু ওষুধ সঙ্গে রাখতেই পারেন।

৯। ঘুরতে যাওয়ার আগে— পুজোর সময়ে অনেকেই ঘুরতে যান। পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার সময়ে যেমন বয়স্করা থাকেন, সেরকম শিশুরাও থাকে। তাই আগেভাগেই গন্তব্যের আবহাওয়া এবং অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে জেনে নিন। ঠিক সেই জায়গার মতো করে আগে থেকেই তৈরি হয়ে থাকুন। চিকিৎসকের পরামর্শ মতো হাতের কাছে কিছু অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ওষুধও রাখতে পারেন। সাথে অবশ্যই রাখবেন ছাতা। বৃষ্টির দিনে হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে এটি।

সুত্র ঃ বর্তমান পত্রিকা অবলম্বনে

Share.

Leave A Reply

41 − = thirty three