পর্যটকদের স্বপ্নের দেশ নেপাল

0

নতুন কিছু ডেস্ক-

মানুষ বরাবরই সৌন্দর্যের পূজারী । অধিকাংশ মানুষ পাহাড় বা সমুদ্রের প্রতি বেশি আকর্ষন বোধ করে। যেখানে পাহাড় ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মিশ্র দৃশ্য উপভোগের কথা মাথায় আসে, সেখানেই নেপালের নাম মনে আগে ঊকী দেয়।

বরফ ঘেরা পাহাড়ের চারদিকে সবুজ দেয়ালে ঘেরা নেপাল, যুগ যুগ ধরে পর্যটকদেরকে আকর্ষন করে আসছে। শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, শত বছরের পুরান মন্দির, অদ্ভুত কিছু পণ্য,নেপালের জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ভিন্নতা ও রঙ্গিন উৎসব এই সব কিছুই নেপালকে করেছে পর্যটকদের কাছে স্বপ্নের দেশ। নেপালে আপনার জন্য দেখার অনেক স্থান রয়েছে।

১। কাঠমান্ডু

কাঠমান্ডু নেপালের রাজধানী। সৌন্দর্যের আকর্ষন শুরু হয় এখান থেকেই। এখানে দেখার ও ঘোরার অনেক কিছুই  রয়েছে, যার ছবি  আপনাকে মুগ্ধ করবেই। কাঠমান্ডুর প্রধান আকর্ষন এখানের দরবার হল। দরবার হলটি সম্প্রতি এক ভূমিকম্পে বেশ ক্ষতিগ্রস্থ হয় ।বর্তমানে এর মেরামত চলছে। এখানে পাহারের উপরে একটি প্রাচীন বৌদ্ধ কমপ্লেক্স রয়েছে, যার নাম সয়ম্ভুনাথ যেটি এখানের একটি বিশেষ আকর্ষন।

Image result for কাঠমান্ডু

২। অন্নপূর্ণা
অন্নপূর্ণার নেপালের একটি অন্যতম জনপ্রিয় স্থান। এখানের সবচেয়ে জনপ্রিয় পথ হচ্ছে অন্নপূর্ণা সার্কিট।  অন্নপূর্ণা একটি প্রাকৃতিক সংরক্ষিত এলাকা। পেশাদার পর্বতারোহীদের জন্য এটি একটি প্রিয় ট্র্যাক রুট। অন্নপূর্ণাতে অনেক সুউচ্চ পাহাড় রয়েছে। তবে এর সবচেয়ে উঁচু চূড়াটির উচ্চতা হচ্ছে ৮০০০ মিটার এবং এর পাসের চূড়াটির উচ্চতা ৭০০০ মিটার। এই চূড়া গুলো সব সময় তুষারাবৃত থাকে এবং এটিই পর্যটকদের কাছে প্রধান আকর্ষণ ।

Image result for অন্নপূর্ণা নেপাল

৩। নাগরকোট
নেপালের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন স্থান হচ্ছে নাগরকোট। এটি কাঠমন্ডু থেকে ৩২ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। এখানের  হিমালয়ের সবথেকে উঁচু  চূড়ার নাম প্যানরোমা। হিমালয়ের আরো কিছু চূড়া রয়েছে।  যেমন- মানাস্লু, গণেশ হিমেল, লেঙ্গান, চোবা ভাম্রি গৌরীশঙ্কর। এসব চূড়া নাগরকোট থেকে স্পষ্ট ভাবে দেখা যায়।

Image result for নাগরকোট

৪। পোখরা
পোখরা  নেপালের একটি প্রতিবেশি শহর। অন্যপূর্নার বেজ ক্যাম্পের প্রবেশ দ্বার হিসেবে এটি পরিচিত। এই শহরটি জনসংখার হিসাবে নেপালের কাটমন্ডুর পরেই দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর । শহরটি কাটমন্ডু থেকে ২০০ কিলোমিটার বা ১২০ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত। এখানে রয়েছে গোরখা সেনাদের বসবাস। পর্যটন ক্ষেত্র হিসেবে শহরটি পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়।

Image result for পোখারা ভ্রমণ

৫। লুম্বিনি
লুম্বিনি হচ্ছে গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান। তাই এটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বিদের জন্য একটি তীর্থস্থান। লুম্বিনি নেপালের একটি ছোট্ট শহর। প্রত্নতাত্ত্বিক ভাবে এটি ৫৫০ খ্রিষ্ট পূর্বের নিদর্শন বহন করছে। এই পৌরাণিক স্থানটি জ্ঞানী, বিজ্ঞানী এবং কৌতোহলী দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। বৌদ্ধের মাতা মায়া দেবী বাগানের যে গাছের কাছে বৌদ্ধের জন্ম দিয়েছিলেন সেখানে তার নামে একটি মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে। মন্দিরটি একটি ছোট পার্কের মাঝখানে  স্থাপিত  হয়েছে। এই কমপ্লেক্সে একাধিক মঠ, পবিত্র পুকুর, মেডিটেশন সেন্টার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সুবিধা আছে।

Image result for লুম্বিনী

৬। শাঙ্কু

শাঙ্কু একটি লাল ইটের প্রাচীন শহর। এক সময় তিব্বতের রাজধানী লাসা ও কাঠমান্ডুর বানিজ্যিক পথের একটি গুরুত্বপূর্ণ যাত্রা বিরতির স্থান ছিল। ঐ ঐতিহ্যের চিহ্ন আজও দৃশ্যমান। এই প্রাচীন নগরীর অন্যতম স্থান হল , বজ্রযোগিনী মন্দীর। এই মন্দির শঙ্কু  নগরীর উত্তরের একটি পাহাড়ের উপর অবস্থিত। তবে এর আসল উপভোগ্য বিষয় হল সরু লাল ইটের পথ ধরে হেটে হেটে প্রাচীন নিদর্শন গুলো দেখা। মন্দিরে চলার পথে শীব লিঙ্গ, গণেশ, বিষ্ণু ও হনুমানের মূর্তি মন্দির থেকে বাইরে যাওয়ার পথ নির্দেশ করে। মন্দিরটি নওয়ারী ধাচের যা হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের সন্নিবাশে গড়ে উঠেছে। মন্দিরের উপরে রয়েছে রাত্রিযাপনের সুব্যবস্থা। রয়েছে চা কিংবা নাস্তা খাওয়ার জন্যও দোকান-পাঠ। তাই খাওয়া, থাকা বা ঘোরা সবই শাঙ্কুতে আপনি পেয়ে যাবেন।

Image result for শাঙ্কু মন্দির নেপাল

 

Share.

Leave A Reply

3 + seven =