পরিবেশ বিজ্ঞানীদের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে

0

স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান খান ফেরদৌসর রহমান এর সাথে কথা বলেছেন নতুনকিছু.কম এর প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম নাবিল।

নতুনকিছু.কম: শুভ সকাল! কেমন আছেন?

খান ফেরদৌসর রহমান: শুভ সকাল! হ্যাঁ, ভালো আছি।

নতুনকিছু.কম: আপনার শৈশব কেমন ছিলো?

খান ফেরদৌসর রহমান: আমার জন্মস্থান মফস্বল শহর নড়াইলে এবং সেখানেই বেড়ে ওঠা। এসএসসি সম্পন্ন করেছি নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। আর ঢাকায় এসে ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজ হতে এইচএসসি পাশ করি।

নতুনকিছু.কম: শৈশবে আপনি কী হতে চেয়েছিলেন?

খান ফেরদৌসর রহমান: আমার স্বপ্ন ছিলো শিক্ষক হওয়ার।

নতুনকিছু.কম: আপনার উচ্চশিক্ষা গ্রহণ সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি।

খান ফেরদৌসর রহমান: আমার উচ্চশিক্ষা গ্রহণের গল্পটি একটু অন্যরকম। এইচএসসি’র পর স্নাতক পড়ার জন্য প্রথমে ভর্তি হই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে। তবে সেখানে ৬ মাস অধ্যয়ন করার পর ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করি বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে। সেখানে ২ বছর কঠোর প্রশিক্ষণের পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন পাই সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে। ১৫ বছর সেনাবাহিনীতে দেশে এবং বিদেশে দায়িত্ব পালন শেষে মেজর পদবীতে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করি। অবসর গ্রহণের পর কিছুদিন বিশ্বব্যাংকে চাকরি করি। ইতোমধ্যে মাস্টার্স এবং এম.ফিল সম্পন্ন করে অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যোগ দেই। সেখানে ৫ বছর শিক্ষকতা শেষে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে যোগদান করি। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ‘জলবায়ু পরিবর্তন সংশ্লিষ্ট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক আমার পিএইচডি গবেষণা চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

নতুনকিছু.কম: পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ কেন বেছে নেওয়া?

খান ফেরদৌসর রহমান: বর্তমান সময়ে পৃথিবীর প্রধান সমস্যা পরিবেশগত সমস্যা। পরিবেশ বিজ্ঞান একটি বহুমাত্রিক (মাল্টিডাইমেনশনাল) বিষয়। আমার পড়াশোনা উন্নয়ন ও নৃ-বিজ্ঞানকেন্দ্রিক হওয়ায় পরিবেশ বিজ্ঞান আমার জন্য খুবই উপযুক্ত একটি বিষয়।

নতুনকিছু.কম: বর্তমানে বিভাগে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সংখ্যা কত?

খান ফেরদৌসর রহমান: বর্তমানে পূর্ণকালীন এবং খণ্ডকালীন মিলিয়ে মোট ১০ জন শিক্ষক এবং ৪ টি ব্যাচে প্রায় ৮০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী বিভাগটি থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে দেশে এবং বিদেশে স্ব স্ব কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।

নতুনকিছু.কম: স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য কি?

খান ফেরদৌসর রহমান: বাংলাদেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ সর্বপ্রথম ২০০৪ সালে পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা করে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পাঠদান শুরু করে । এখানকার বেশ কিছু সাবেক শিক্ষার্থী দেশ এবং বিদেশের খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চশিক্ষা বিশেষ করে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। সকলে পেশাগত দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন। উল্লেখ্য, রাজউকের বর্তমান চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন চেয়ারম্যান এ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করেছেন। এ ছাড়াও রাজউকের একজন সাবেক চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের সদ্য প্রাক্তন প্রধান প্রকৌশলী এ বিভাগের অন্যতম অ্যালামনাই সদস্য। যেকোন বিভাগ থেকে স্নাতক উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা স্বল্প টিউশন ফি’তে প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের ছাড়ে এখানে ভর্তি হতে পারেন। পরিবেশ বিষয়ে বাংলাদেশের সেরা শিক্ষক/বিশেষজ্ঞরাই এখানে ক্লাস নিয়ে থাকেন। এ সংক্রান্ত বিষয়গুলো হাতে কলমে তাঁরা শিক্ষা দিয়ে থাকেন। অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য রয়েছে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন। এছাড়া নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করতে হয়। মোটকথা, একজন শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা শেষ করে প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজের জন্য তৈরি হন। এ বিভাগ হতে পাশ করার আগেই শিক্ষার্থীরা চাকরির প্রস্তাব পেয়ে থাকেন। স্নাতকোত্তর এর পাশাপাশি স্নাতক (সন্মান) শ্রেণিতেও পাঠ্যক্রম চালু করার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।

নতুনকিছু.কম: একজন শিক্ষার্থী পরিবেশ বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করে কোন কোন পেশায় যেতে পারে?

খান ফেরদৌসর রহমান: বর্তমান বিশ্বে পরিবেশ দূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন অন্যতম সমস্যা। এমতাবস্থায় বৈশ্বিক চাহিদার প্রেক্ষিতে যেকোন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে পরিবেশ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ বাধ্যতামূলক। এছাড়াও গবেষক হিসেবে পরিবেশ বিজ্ঞানীদের চাহিদা দেশে ও বিদেশে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ হতে পাশ করা শিক্ষার্থীদের সামনে অবারিত সুযোগ রয়েছে। চাকরির বাজারে প্রয়োজন অনুপাতে এ বিষয়ে পাশ করা শিক্ষার্থীর পরিমাণ কম। এ বিষয়ে পড়াশোনা করে বেকার থাকার সুযোগ নেই। এ পেশাদারদের জন্য সরকারি চাকরিও উন্মুক্ত।

নতুনকিছু.কম: পরিবেশ নিয়ে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের নানাবিধ কার্যক্রমকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

খান ফেরদৌসর রহমান: পরিবেশ নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বেশ কিছু কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ এবং এখানে সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে। সার্বিক বিবেচনায় পরিবেশ বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনায় সবারই আরও বেশি সচেতন হবার প্রয়োজনীয়তা আছে।  আবার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল ল’য়ার্স এ্যাসোসিয়েশনসহ (বেলা) আরও কিছু প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা বেশ ভালো কাজ করছে।

নতুনকিছু.কম: পরিবেশ সচেতনতায় একজন সাধারণ মানুষের ভূমিকা কী হওয়া উচিত?

খান ফেরদৌসর রহমান: সাধারণ মানুষের দায়িত্বই সর্বপ্রথম। এরপর আসে পরিবার, সমাজ এবং দেশের প্রসঙ্গ। একজন সচেতন নাগরিকের উচিত পরিবেশ সুরক্ষায় সর্বদা সচেষ্ট থাকা। নিজে পরিবেশ দূষণ না করে অন্যকে সচেতন করাসহ তিনি নিজে গাছ লাগাতে পারেন, নিজ এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখায় ভূমিকাও রাখতে পারেন।

নতুনকিছু.কম: আপনার জীবনের স্বপ্ন কি?

খান ফেরদৌসর রহমান: আমি দেখতে চাইবো বাংলাদেশ যেন ন্যায়নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে একটি পরিবেশসম্মত টেকসই এবং উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয়। সে ব্যাপারে সর্বদা কাজ করে যাওয়া যেকোন সচেতন ব্যক্তির দায়িত্ব এবং কর্তব্য।

নতুনকিছু.কম: আপনাকে ধন্যবাদ।

খান ফেরদৌসর রহমান: আপনাকে এবং নতুন কিছু.কম ধন্যবাদ।

Share.

Leave A Reply

+ four = nine