‘পদ্মা ক্রিকেট একাডেমি’ ও অদম্য চার জনের গল্প!

0

হাকিম মাহি- 

প্রতিদিনের সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত যেন ওদের নিত্য দিনের সঙ্গী। ক্রিকেট মাঠে বল, ব্যাট হাতে পাড়ার কিছু দামাল ছেলেরা স্বপ্ন দেখেই যাচ্ছে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের গৌরবের ইতিহাস বুনে দিতে। ‘পদ্মা ক্রিকেট একাডেমি’ সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছে দুরন্ত গতিতে।

চলতি বছর ২০১৭ সালের নভেম্বরের ১১ তারিখ, মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার কাওড়া কান্দি পুরাতন ফেরী ঘাট প্রতিষ্ঠিত হয় ‘পদ্মা ক্রিকেট একাডেমি’। এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাংলাদেশ ক্রিকেট’কে আরো শক্তিশালী করতে সুলতান মাহমুদ, শাহরিয়ার মামুন, আবু সাইদ এবং নাজমুল প্রমুখ অদম্য এই চার জন স্ব-উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করে এই স্বপ্নের ক্রিকেট একাডেমি।

মনে পড়ে ১৯৯৯ সালে, শিবচরের কাঁঠাল বাড়ি একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করে। সেখানে সুলতান মাহমুদের নেতৃত্বে বেইলী ব্রিজ ক্রিকেট একাডেমি ফাইনালে খেলে বিজয় অর্জন করে। যদি বলি বেইলী ব্রিজের ক্রিকেট, তাহলে সুলতান মাহমুদই ছিলেন অন্যতম সংগঠক।

পর্যায়ক্রমে, সেটি চলে আসে আবু সাইদ, শাহরিয়ার মামুন এবং নাজমুল হোসাইন এর হাতে। বেইলী ব্রিজ এর শুধু ক্রিকেট নয়, বরং যে কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা খেলায় আবু সাইদের নাম অন্যতম। এক সময় তিনি এই খেলার জন্য বাড়ি ঘরও ছেঁড়ে দিয়েছিলেন। আয়ের বেশির ভাগ অর্থ খেলার জন্য ব্যয় করতেন।

শাহরিয়ার মামুন তো খেলাকে মনেপ্রাণে আস্টেপিস্টে বেঁধে সুদূর রাজধানী ঢাকায় চলে আসলেন। ভর্তি হলেন ক্রিকেট কোচিং স্কুল।। খুব সুনামের সাথেই খেলেছিলেন ঢাকার এই নামীদামী ক্লাবে। নিজ গ্রামের বাড়ি শিবচর, পাঁচচর‘এ ব্যাটসম্যান মামুন নামেই পরিচিত ছিলেন। কিন্তু পরিবারের তেমন সাড়া না থাকায় খেলা থেকে এক প্রকারের নিজেকে সরিয়ে নেন মামুন। কিন্তু নতুন প্রজন্ম যেন খেলাকে কেন্দ্র করেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন, সে জন্য গড়ে তোলেন আজকের এই ক্রিকেট একাডেমি।

নাজমুল হোসাইন মাদারীপুর, শিবচর, পাঁচচর, বেইলী ব্রিজ এর ক্রিকেট জগতের এক ধ্রুব তারা। নতুন প্রজন্মের একমাত্র আলোর ফেরিওয়ালা। খেলাকে ভালোবেসে ঘুরে বেড়িয়েছেন শিবচরের প্রতিটি খেলা প্রেমী ছেলেদের দোয়ারে। তাঁকে তাঁর বন্ধুরা কাজী নজরুলের সকাল বেলার পাখি বলতো। আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে! এমনও হতো সকালের সূর্যও যখন উঠতো, তখন নাজমুলকে দেখতে পেতো। বলা হয় নাজমুল হোসাইন খেলেনি, এমন কোন খেলার মাঠ শিবচরে নেই। এক সময় সে বুঝতে পারে তাঁকে আরো ভালো খেলতে শহরে যেতে হবে। সে চলে আসে নিজের উদ্যোগে।

মধ্যবিত্ত বাবা, মা’য়ের একটি ছেলে নাজমুল। এক সময় অর্থাভাবে পড়ালেখাটাও ছেড়ে দিতে হয়। সেই খালি হাতে ঢাকায় চোলে আসেন সে। থাকার জায়গা নেই, খাবারের  ব্যবস্থা নেই, তবুও সে কোনভাবে ভর্তি হলো ঢাকার ধানমন্ডির ‘আবাহনী ক্রিকেট কোচিং স্কুল’এ। অর্থের অভাব তাঁকে বেশি দূর যেতে দেয়নি। কিন্তু অল্প সময়েও সে অনেক বেশি কিছু শিখেছিলেন। যা তাঁর দলের কোঁচকে বিমোহিত করেছে। সেই নাজমুল হোসাইন আজ নিজের জন্য না হলেও ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য নিজের সবটুকু দিয়ে হলেও সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে চান।

‘পদ্মা ক্রিকেট একাডেমি’ তে বর্তমানে প্রায় শত জন শিক্ষার্থী প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ক্রিকেট অনুশীলনে রয়েছে। পদ্মার পাড়ে এখন ঘুরতে গেলে মনে হয় অদম্য এক ঝাঁক অদূর ভবিষ্যতের ক্রিকেট কাণ্ডারি সকাল সন্ধ্যা স্বপ্ন নিয়ে ব্যস্ত। এই অদম্য চার জন ক্রিকেট নিয়ে বাঁচতে চান। তাঁরা চান, পদ্মা ক্রিকেট একাডেমি’কে কেন্দ্র করে দেশের সর্ববৃহৎ ক্রিকেট একাডেমি গড়ে উঠুক। সে জন্য দেশের জাতীয় ক্রিকেটের এবং ক্রিকেট প্রেমীদের সহযোগিতা কামনা করেন তাঁরা। দেশের সবার জন্য সমানভাবে সুযোগ-সুবিধা রেখে সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশে বছরব্যাপী ভর্তি চলছে। (যোগাযোগ-01950592810 )

Share.

Leave A Reply

÷ one = five