পঞ্চাশ টাকার ঋণ আজও আমায় তাড়া করে বেড়ায়

0

মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ- 

রিকশাওয়ালার জন্য খুব মন খারাপ হচ্ছে। হয়তো লোকটা আমাকে গালাগালি করছে। এটা ভেবে অসহায়ও লাগছে। জানি না, লোকটা যতদিন বেঁচে থাকবে আমাকে গালি দেবে কি না।

কলাবাগান থেকে মালটিপ্লান সেন্টারে আসছি। পঞ্চাশ টাকা ভাড়া। মধ্যবয়স্ক রিকশা চালক পঞ্চাশ টাকাই চেয়েছিলেন। আমি দামাদামি করে দশ টাকা কমাতে পারতাম। কমাইনি। সাত সকালে প্রায় বৃদ্ধ লোকটাকে দেখে মায়া হলো। উঠে পড়লাম।

হাতে সময়, পকেটে টাকা আর একা থাকলে চেষ্টা করি বয়স্কদের রিকশায় উঠতে। মালটিপ্লান সেন্টারের সামনে এসে দেখি ভাঙ্গতি আছে ত্রিশ টাকা। লোকটার কাছেও নেই। তাকে অপেক্ষা করতে বলে পাঁচশ টাকার নোট নিয়ে এদিক সেদিক ছোটাছুটি করছি। ক্যাসেটের দোকান, কাপড়ের দোকান, ফাস্টফুড শপ, বেল্টের দোকান, বাদামওয়ালা, বিড়িওয়ালা, পথচারী, পুলিশ, সাপ দেখিয়ে টাকা নেওয়া বেদে, মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে সাহায্য কামনাকারী, ফ্লেক্সিলোডের দোকান, কোথাও ভাঙ্গতি নেই।

টাইগার কিনতে চাইলাম, লাগবে না তবু বেল্ট কিনতে চাইলাম, ব্যালেন্স আছে তবু লোড দিতে চাইলাম। কোথাও নেই। ভাঙ্গতিহীন শহর। তালা কিনলাম তিনশ টাকা দিয়ে। নতুন বাসায় কাজে লাগবে। ভাঙ্গতি হলো। মনে মনে ভাবছি, যেহেতু লোকটার সময় নষ্ট হলো, পঞ্চাশ নয় ষাট টাকা দিবো। ফিরে এসে দেখি লোকটা নেই। আশপাশেও নেই। কোথাও নেই। কেউ নেই। কোথাও কেউ নেই।

বসে থেকে থেকে গালাগালি করে হয়তো চলে গেছে। কিংবা চলে গেছে নতুন যাত্রী পেয়ে। মনটা খারাপ হয়ে গেলো। ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রইলাম। অনেক সময় এরা রিকশা রেখে পেশাব করতে যায় দশমিনিট, বিশমিনিট, ত্রিশমিনিট দাঁড়িয়ে রইলাম। পেশাব করে সে এলো না।

বৃষ্টির মতো ঝমঝম করে বিষণ্ণতা ঝরতে শুরু করলো আমার উপর। খুব কুৎসিতভাবে দিন শুরু হলো। এর আগে আজিজ সুপার মার্কেটে এমন ভাঙ্গতি করে এসে দেখি ত্রিশটাকার মায়া ছেড়ে রিকশাওয়ালা চলে গেছে। সেই কষ্টই ভুলতে পারি না। তার সাথে যুক্ত হলো পঞ্চাশ অথবা ষাটটাকার দুঃখ। পঞ্চাশ অথবা ষাটটাকার পাপ।

লেখক : শিক্ষার্থী, জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।

Share.

Leave A Reply

fifty ÷ = twenty five