নোবেলের প্রতিভার মূল্য দিতে পারেনি ‌’নেক্সট টিউবার’?

0

সুমাইয়া জামান-

বাংলাদেশের প্রতিভাবান সংগীত শিল্পীদের গানের সুরে মেতে আছে ভারতের জনপ্রিয় শো ‘ সারেগামাপা’। অবন্তি সিঁথির শিষ এ এবং মাঈনুল আহসান নোবেলের দেশীয় রক গানের তালে মেতে আছে ভারত। বাংলাদেশের মানুষও গর্ব করছে তাদের নিয়ে। অথচ বাংলাদেশে জন্ম নিয়ে তাদের প্রতিভা প্রকাশের জন্য প্রতিবেশী দেশ ভারতের শরণাপন্ন হতে হয়েছে কেন? বিশেষ করে অনেকে প্রশ্ন করেছেন নোবেলকে নিয়ে। নোবেল বাংলাদেশে হওয়া‌ ‘রিয়েলিটি শো’ থেকে বাদ পড়েছিলেন। তাই, অনেকের প্রশ্ন, এ দেশে কি প্রতিভা বুঝতে পারে না কেউ?

প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজা যাক।

বর্তমানে ‘ সারেগামাপা’ – এর শো-এ নোবেল এবং সিঁথিকে নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতের প্রতিটি মানুষ তাদের গানকে নিয়ে করছে ইতিবাচক মন্তব্য। সম্প্রতি নোবেল অনুপম রায়ের উপস্থিতিতেই  ‘সারেগামাপা’-এর শো-এ তারই একটি জনপ্রিয় গান ‘বেঁচে থাকার গান’ গেয়ে দুই বাংলার মানুষের মনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনুপম রায় তাঁর গানেরও খুব প্রশংসা করেন।

অনুপম রায়ের এই প্রশংসার রেশ ধরে শো-এর অন্যতম বিচারক শ্রীকান্ত আচার্য বলেন, ‘ অনেক মানুষ আমার কাছে আসছেন এবং বলছেন, দাদা তাঁর সাথে তো আমাদের দেখা হবে না, আপনি আমাদের এই কথা তাঁর কাছে পৌঁছে দিবেন যে, নোবেলের গান আমাদের খুব ভালো লাগছে।’

শুধু তাই নয়, কলকাতার রাস্তায় চলার সময় ও সাধারণ মানুষের কাছে অনেক ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন নোবেল। অনেকে তাঁর সাথে ছবি তুলতেও অনেক বেশি আগ্রহী। মানুষের কাছে তাঁর এই পরিচিতি নোবেল নিজেও অনেক উপভোগ করছেন। বাংলাদেশের মানুষের কাছেও তিনি এখন একজন অতি প্রিয় একজন মানুষ হয়ে উঠেছেন।

অথচ বাংলাদেশে তাঁর প্রতিভার যথাপোযুক্ত মূল্যায়ন করা হয়নি বলে মনে করছেন অনেকেই । তাঁদের এই বিতর্কের কারণ বাংলাদেশের একটি রিয়েলিটি শো, ‘নেক্সট টিউবার’ থেকে নোবেল বাদ পড়ায়। বাংলাদেশের এই রিয়ালিটি শো থেকে নোবেলকে বাদ দেওয়ায়  প্রশ্ন উঠেছে, ‘ তাহলে কি বাংলাদেশে কারও প্রতিভার সঠিক মূল্যায়ন করা হয় না? প্রতিভার মূল্যায়ন পেতে কেনো কাউকে প্রতিবেশি দেশের কাছে যেতে হয়?’

অনেকে নোবেলের ফেসবুক প্রোফাইলে নেক্সট টিউবারের কথা বলেছেন। নোবেল তাঁর উত্তর একটি লাইনে দেন। তিনি বলেন, ‘আমি নেক্সট টিউবারের কাছে কৃতজ্ঞ।’

আসলে কারও প্রতিভার বিকাশ কোনো  রিয়েলিটি শো-এ টেকা বা না টেকার উপর নির্ভর করে না। শোটিতে নোবেল যে কনটেন্ট জমা দেয়, সেটি খুব একটা মানসম্মত ছিলো না। এর জন্য বিচারকরা তাঁকে বলেছিলেন, যেহেতু নোবেল গান ভালো করেন, তাই তিনি যেন গানেই মনোনিবেশ করেন। গানের মাধ্যমেই কনটেন্টটি ভালোভাবে তৈরি করলে আরও বেশি ভালো হতো বলেও মন্তব্য করেন বিচারকেরা।

তাছাড়া গানের জগতের মানুষের প্রতিভা বিকাশের জন্য এই রিয়েলিটি শোটি যোগ্য প্লাটফর্ম ছিল না। তাছাড়া নেক্সট টিউবারের বিচারক সালমান মুক্তাদিরকে নিয়ে যে কথা উঠছে, সেই সালমানই ফেসবুকে নোবেলের প্রশংসা করেছেন ।

তাই বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে না নিয়ে ইতিবাচকভাবে দেখলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। দুইটি রিয়েলিটি শোর ধরন আলাদা। কন্টেন্টের বিষয়টিও আলাদা। নোবেল এখন সঠিক জায়গায় আছেন। মানে তাঁর গানের প্রতিভাটা বিকশিত করার প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে গানের কোনো প্ল্যাটফর্ম, সেটা ‘নেক্সট টিউবার’ না। তাই, এখান থেকে বাদ দেওয়া মানেই নোবেলের প্রতিভাকে মূল্যায়ন করা হয়নি, তা কিন্তু নয়। সঠিক প্ল্যাটফর্ম পেয়েছেন বলেই, নোবেলকে শুধু বাংলাদেশের মানুষ নয়, দেশের বাইরের মানুষও চিনছে এবং সেই সাথে, নোবেলের মাধ্যমে বাংলাদেশকে মানুষ চিনছে।

কেউ কী হতে পারে নি বা কী হতে পারতো, এ ব্যপারে বিতর্কে না যেয়ে, সে যা হতে পেরেছে তাকে সেই দিক থেকেই অনুপ্রাণিত করে আমাদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করা উচিত।

Share.

Leave A Reply

× 4 = twenty