নারী দিবসে তাঁদের প্রত্যাশা

0

নতুন কিছু ডেস্ক।।

বিশ্ব জুড়ে আজ নারী দিবসকে কেন্দ্র করে আলোচনা সভা, সেমিনার, র‍্যালি, লিফলেট, ব্যানার ও ফেস্টুনসহ অনেক আয়োজন চলছে ধূমধামের সাথে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, নারীর অধিকার কতটুকু অর্জন হলো? এসব নিয়ে ধানমণ্ডি ২৭ ও কলাবাগানে অবস্থিত স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগের নারী শিক্ষকদের সাথে কথা বলেছেন নতুন কিছু.কমের প্রতিনিধি হাকিম মাহি ও গোলাম ওয়াদুদ (ভিভিড)।

ড. নওজিয়া ইয়াসমিন, বিভাগীয় প্রধান, পাবলিক হেলথ বিভাগ

নারী পুরুষ বৈষম্যহীন সমাজ গঠন করতে পারলেই নারীরা প্রকৃত মূল্যায়ন পাবে। নারীদের শক্তিশালী হতে হলে আগে মনে মনে নিজেদের শক্তিশালী ভাবতে হবে , দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হতে হবে। সমাজের স্ব স্ব স্থানে নারীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমানভাবে কাজ করতে হবে। কর্মজীবী নারীদের সৎ থেকে, কর্মঠ হয়ে এবং দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে কাজ করতে হবে । কোন নারীই কম নয়, তবে নারী-পুরুষ বৈষম্যহীন  একটি সমাজ পারে নারীদের প্রকৃত মূল্যায়ন করতে।

জিনাত আমিন, বিভাগীয় প্রধান, আইন বিভাগ

নারীর ক্ষমতায়ন সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম একটি সূচক । আন্তর্জাতিক নারী দিবস এর লক্ষ্য হওয়া উচিত নারীর মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং সকল প্রকার বৈষম্য দূরীকরণের মাধ্যমে সমতাভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা । বাংলাদেশের সংবিধান নারীর অধিকারের প্রতি এক অসাধারণ স্বীকৃতি দিয়েছে। সংবিধানে সন্নিবেশিত নাগরিক অধিকার বিধানসমূহ বাস্তবায়নে রাষ্ট্রপক্ষ অঙ্গীকারবদ্ধ। কিন্তু ৮মার্চ,২০১৮ ডেইলি স্টার পত্রিকার তথ্যনুসারে স্নাতক পাশ মহিলা বেকারত্বের হার পুরুষের তুলনায় ২.৫ গুণ বেশি। শিক্ষিত নারী একটি দেশের মূল্যবান জনশক্তি । এই জনশক্তির পূর্ণ ব্যবহার এবং কর্মক্ষেত্রে নারীর সমান উপস্থিতি নিশ্চিতকরণের মাধ্যমেই নারীর ক্ষমতায়ন অর্জন সম্ভব ।

আফরোজা আজিজ সূচনা, সহকারী অধ্যাপক ,ইংরেজি অধ্যয়ন বিভাগ

একটি বৈষম্যহীন সমাজ দেখতে চাই, যেখানে সর্বক্ষেত্রে নারী পুরুষ সমান অধিকার পাবে । শুধুমাত্র একটি  বিশেষ দিনে নারীকে সম্মান না দেখিয়ে প্রতিদিন প্রতিক্ষেত্রে নারীকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে । দিতে হবে নিরাপত্তা । নারী মানে মা । দেশের সামাজিক অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অবদান রাখার পাশাপাশি একজন নারীকে নিতে হয় সন্তান মানুষ করার কঠিন চ্যালেঞ্জ । আজকের কর্পোরেট দুনিয়া একজন নারীকে যেন  দায়িত্ব পালনে বাধা না দেয়।

শারমিন আফরোজ, জৈষ্ঠ প্রভাষক, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ

শহরের মেয়েরা যতটুকু নিরাপদ ও তাঁদের ক্যারিয়ার সম্পর্কে সচেতন তার চেয়ে কম নিরাপদ ও সচেতন গ্রামের মেয়ে্রা ।  একটি শহরের  মেয়ের সাধারণত বিয়ে হয় ১৮-২০ বছরের পরে কিন্তু একজন গ্রামের মেয়ের বিয়ে হয় ১৪ বছর বয়সের আগেই। সে ক্ষেত্রে বলব, তুলনা মূলক প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েরা তাঁদের জীবন সম্পর্কে অনেকটা অসচেতন। আর এই অসচেতনতার জন্য সর্বপ্রথম তার পরিবারই দায়ী । সুতরাং সরকার কে বলব নারীর সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সর্বপ্রথম তার পরিবার ও সমাজকে সচেতন করা জরুরি। তবে একটি আশার বাণী শোনানো যায় যে, আজ দেশে  এসিড নিক্ষেপ, ইভটিজিং এর মতো মারাত্মক ব্যাধিগুলো অনেকাংশেই কমে গেছে।  আমার প্রত্যাশা নারীরা নিজের থেকেই সচেতন হবে।

সৈয়দা সিরাজ-উম-মুনিরা, প্রভাষক, খাদ্য প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিভাগ

নারীদের নিজস্ব মতামতের অধিকার দিতে হবে। কারণ, তাঁর জীবন সাজানোর দায়িত্ব তাঁর নিজের। এখানে অন্যদের দৃষ্টিতে নিজেকে সাজালে নিজের ব্যক্তিত্ব সারাজীবন আড়ালেই থেকে যাবে। প্রত্যেক নারী এক একটি প্রজাপতির মতো। তাঁকে তাঁর মতো করে তাঁর ভবনে ডানা মেলে উড়তে দাও। বন্দি করে রাখলে সে তার ব্যক্তি জীবন উপভোগ থেকে বঞ্চিত হবে।

তাবাসসুম জান্নাত, প্রভাষক, ফার্মেসি বিভাগ

শুধু একদিন নারীদের সম্মান করুক সেটা আমি চাই না । আমি চাই প্রতিদিনই নারীদের সম্মান করা হোক  । নারী দিবস হোক প্রতিদিন । সন্ধ্যার পর নারীরা ঘরের বাইরে বের হতে পারে না । তাঁদের পরিবার ও বাহিরে যেতে দেয় না । কারণ নিরাপত্তাহীনতা । এখন নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে । এর পেছনে সমাজ ও নারী দুইজনই দায়ী । নারীদের উচিৎ তাঁদের গতনুগতিক ধারণা পরিবর্তন করা, তাহলেই সমাজ পাল্টাবে। আমি নারীদের সমান অধিকার চাই না ,আমি নারীদের অধিকার চাই।

হাবিবা কিবরিয়া, প্রভাষক, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ 

নারী দিবস অনেকে উদযাপন করে না, বিশেষ করে নারীবাদীরা। তাঁদের ভাষায় নারী দিবস একদিন কেন, প্রতিদিনই হওয়া উচিৎ এই দিবস। আমি মনে করি, ৩৬৫ দিনই হবে নারী দিবস। আর একটি দিন থাকবে স্পেশাল, যেদিন আমরা এই দিবসকে বড় করে উদযাপন করবো।  একজন নারী অন্য আরেকজন নারীকে অনুপ্রেরণা দেয় না, তাঁর চেয়ে ভাল হওয়া স্বত্বেও ভাল বলে না। একে অপরকে অনুপ্রাণিত করলে নারীদের অধিকার আরও জোরদার হবে বলে আমি মনে করি। সমাজ আমাদের বদ্ধ করে রেখেছে। আর এটা থেকে উত্তরণের জন্য নারীকেই এগিয়ে আসতে হবে এবং পুরুষদের অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। আমি চাই, আমরা একা নয়, বরং নারী-পুরুষ হাতে হাত রেখে এগিয়ে যেতে চাই।

জিনাত ইসলাম, প্রভাষক স্থাপত্য বিভাগ

আজ যখন নারী দিবসের শুরু হলো গণমাধ্যমে নারী হয়রানির সংবাদে মধ্যে দিয়ে তখন মনে হলো সত্যিকার নারী সম্মান, স্বাধীনতা বা মুক্তি আজও কি আমাদের সমাজে অনেকটাই প্রশ্নবিদ্ধ নয়? শুধু নারী নয় বরং স্বীকৃতি চাই মানুষ হিসাবে। নারী বা পুরুষ দিবস নয় বরং প্রতিটি দিনই হোক মানবতা দিবস।

রিফাত সুলতানা, প্রভাষক, জার্নালিজম কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ

এ নারী দিবসে আমার প্রত্যাশা নারীর জন্য নিরাপদ বিশ্ব নিশ্চিত করা। আজকের এ বিশ্বে একজন শিশু যে এখনও নারী হয়ে উঠে নি তাকেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়। ‘আমি মানুষ’-এ বোধটুকু তৈরি হওয়ার আগেই একজন কন্যা শিশুকে শেখানো হয় ‘তুমি মেয়ে’ অশুভ ছায়া তোমায় ছুঁয়ে যেতে পারে, সতর্ক হও।  নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত  হোক  পরিবারে, সমাজে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মক্ষেত্রে সর্বত্র।

 

Share.

Leave A Reply

÷ five = 2