নম্বর বিড়ম্বনা

0

মাহমুদুল হাসান। আমাদের পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক। সময় ভেদে তিনি একটু কঠোর আবার রসিক মনের মানুষ। সব বিষয়ে তাঁর রয়েছে গভীর জ্ঞান। পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক হলেও তিনি সমান তালে জ্ঞান রাখেন শিক্ষার অন্যান্য শাখা প্রশাখায়।

তাঁর প্রায় ৩০ বছরের শিক্ষকতা জীবনে দেখেছেন রঙ বেরঙের মানুষ। কত শিক্ষার্থী, কত অভিভাবক। তাঁর মাঝে এক শিক্ষার্থী ও তার অভিভাবকের এক গল্প শোনালেন আমাদের। আজ অনুলিখনের মাধ্যমে তাঁর কথাগুলো তুলে ধরছি।

১৯৯৮ বা ১৯৯৯ সালের ঘটনা। এখনকার সময়ের মত পরীক্ষার ফলাফলে তখন গ্রেডিং পদ্ধতি চালু ছিলোনা। লেটার আর স্টার মার্কসের দাপট ছিল চারিদিকে। তৎকালীন সকল ভালো শিক্ষার্থী ও তাদের বাবা মায়ের চাওয়া একটাই এবং তা হল স্টার মার্কস পাওয়া।

তো মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার কিছুদিন পর আমার কাছে প্রাইভেট পড়তে এক শিক্ষার্থী এলো। ইফতি জামান এবং তার বাবা খন্দকার ইলিয়াস জামান। প্রথম দর্শনে বুঝতে বাকি রইলোনা যে ছেলেটির বাবা খুবই রাশভারী মানুষ। তবুও টুকটাক কথা বলে আমাকে মানে তাঁর ছেলের নতুন পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষককে যাচাই করে নিচ্ছিলেন। কথার এক ফাঁকে আমি ইফতিকে তার মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল বলতে বললাম। ইনিয়ে বিনিয়ে ইফতি বলল যে তার স্টার মার্কস পাওয়া হয়ে উঠেনি। কিন্তু পরীক্ষায় প্রাপ্ত মোট নম্বর বলছেনা।

আমি আমার আরেক শিক্ষার্থী মেহেদীর প্রসঙ্গ টেনে তার প্রাপ্ত নম্বরের কথা বলে বললাম, মেহেদী মোট ৮২৮ নম্বর পেয়েছে। তোমারও কি তার কাছাকাছি? ইফতি হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়তে না নাড়তেই ইলিয়াস জামান সাহেব নিজ ছেলের উপর চড়াও হলেন। ধমকের সুরে ছেলেকে বললেন, তুমি নিজেকে মেহেদীর সাথে তুলনা করছ কেন? মেহেদীর নম্বর ৮২৮ আর তোমার ৮৩২। তুমি অবশ্যই মেহেদীর চাইতে মেধাবী। সাথে সাথে ইফতি বায়ুহীন বেলুনের মত চুপসে গেলো।

আর বুঝতে বাকি রইলো না যে একে অপরের সাথে তুলনা এবং প্রতিযোগিতা কিছু মানুষের মনকে এমনভাবে জুড়ে আছে যে তাঁরা নিজস্বতাহীন ব্যক্তি। কিছুক্ষণ পরে তাঁরা চলে যেতেই হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। মনে মনে দোয়া করতে থাকলাম আর যেন ওদের সাথে দেখা না হয়। কারণ এমন মানসিকতা সম্পন্ন মানুষের সাথে চলা আসলেই খুব কঠিন কাজ। সৃষ্টিকর্তা আদতে আমার কথা শুনেছেন। আজ অবধি আর তাঁদের দেখা মেলেনি।

Share.

Leave A Reply

six × = thirty six