নতুন বছরের মেলবন্ধন ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা

0

নতুন বছর শুরুর সাথে রাজধানী ঢাকাবাসীর মাঝে মেলবন্ধনের সুযোগ করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২৩ টি দেশের অংশগ্রহনে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও শুরু হয়েছে ‘২৩তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলা-২০১৮’।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরীতে মেলা উপলক্ষে সেজেছে অপরূপ সাজে। বাণিজ্য মেলার প্রধান প্রবেশদ্বার করা হয়েছে পদ্মা সেতুর আদলে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হচ্ছে এবারের বানিজ্য মেলা।

 

মাসব্যাপী এই মেলা প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, যেখানে প্রাপ্তবয়স্করা ৩০ টাকা ও শিশু-কিশোররা ২০ টাকায় টিকিট কেটে প্রবেশ করতে পারবেন।

মেলায় ৫৮৯ টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন রয়েছে যেখানে দর্শকদের সহজে পৌছে দেয়ার জন্য বসানো হয়েছে ডিজিটাল এক্সপিরিয়েন্স সেন্টার। এখানে দায়িত্বরত একজন বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের অংশ হিসেবে সরকার এমন উদ্যোগ নিয়েছে, যা সকলের জন্য হিতকর।

মেলায় প্রতিটি স্টলেই রয়েছে আকর্ষণীয় উপহার ও ডিস্কাউন্ট। এই বিষয়ে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড এলজি-বাটারফ্লাই এর ঢাকা জোনের জোনাল ম্যানেজার মোঃ মবিনুল ইসলাম বলেন, ক্রেতারা এখন মেলায় খোজ-খবর নিতে আসছে। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি মেলা জমে উঠবে।

দেশের আরেক জনপ্রিয় কোম্পানী প্রান তাদের প্রতিটি প্যাকেজে ১০-১৫% ছাড় ঘোষণা করেছে। এই বিষয়ে সিলেট জেলার এরিয়া ম্যানেজার একরামুল হোসেন সজীব বলেন, ক্রেতার চেয়ে এখন দর্শনার্থীদের সংখ্যাই বেশি। কোনো নতুন পণ্য আসেনি, তবে প্যাকেজ আকারে সকলকিছু বিক্রি হচ্ছে।

মেলায় খাবার দোকানগুলোতেও দেখা যায় কাস্টমার শুন্যতা। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী হাজির বিরিয়ানির ইনচার্জ আরিফুল ইসলাম বলেন, প্রতি ঘন্টায় ৩০০ জন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন দোকানে ঘন্টায় ১০ জন কাস্টমার পাওয়া কষ্টকর হচ্ছে।

মেলায় কাস্টমারের শতভাগ চাহিদা পূরণের জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পার্ট টাইম কাজের সুযোগ পেয়েছেন বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এমনই একজন নরদান ইউনিভার্সিটির এমবিএ’র শিক্ষার্থী রিপন চৌধুরী। তিনি বলেন, পড়ালেখার চাপ এখন কম। প্রাক্টিক্যাল কাজের অভিজ্ঞতার জন্য চাকরি করছি।

মেলার সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য রয়েছে তিনস্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এই বিষয়ে বানিজ্য মেলার ইনচার্জ (এসআই) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, পুরো মেলায় ১০ টি ওয়াচ টাওয়ার ও ২০ টি সাব পোস্ট বসানো হয়েছে। প্রতি শিফটে প্রায় ৪০০ জন পুলিশ কাজ করছে। এছাড়া সাদা পোশাকে সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে র‍্যাব,ডিবি, সেনাবাহিনী ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা। যেকোনো অহিংস শক্তি মোকাবেলা করতে সবাই প্রস্তুত আছি।

মেলার এখনও বিভিন্ন দোকানের কাজ শেষ হয়নি। সে সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে এক কর্মকর্তা বলেন, কিছু কাজ এখনো বাকি আছে, সেটা খুব শীগ্রই সম্পন্ন হবে।

২০১৭ সালের বাণিজ্য মেলায় ২৪৩ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে, যা তার আগের বছর ছিল ২৩৫ কোটি টাকার। এবছর ২৫০ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ পাওয়া যাবে বলে প্রত্যাশা করছে আয়োজকরা।

 

 

 

 

Share.

Leave A Reply

9 + one =